আবারও কয়লা সঙ্কট, বর্ষায় দেখা যেতে পারে বিপুল বিদ্যুৎ ঘাটতি
ভারতের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি বর্ষার মরসুমে আরও একবার কয়লা সঙ্কটের মুখোমুখি হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে জুলাই-আগস্ট মাসেই আরেকটি বড় বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে দিয়ে যেতে পারে দেশ। সিআরইএ নামক স্বাধীন গবেষণা সংস্থার তথ্য এমনটাই বলছে।

পিটহেড পাওয়ার স্টেশনে বর্তমান কয়লার মজুদ রয়েছে ১৩.৫ মিলিয়ন টন এবং সারা দেশে সমস্ত বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ২০.৭ মেট্রিক টন কয়লা মজুদ আছে। সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার'স বলছে যে , " আমাদের কাছে যা তথ্য এসেছে সেই অনুযায়ী এটা বলা যেতে পারে যে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির অবস্থা খুব খারাপ। বিদ্যুতের চাহিদা যদি সামান্য হলেও বাড়ে তাহলেই দেখা দেবে সমস্যা। কারণ এই সামান্য চাহিদা বৃদ্ধি মোকাবুলা করার মতো অবস্থায় নেই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র গুলি এবং এর জন্য পরিবহন কীভাবে করা হবে তার জন্য আগে থেকেই পরিকল্পনা করা দরকার," ।
সেন্ট্রাল ইলেক্ট্রিসিটি অথরিটি অফ ইন্ডিয়া আগস্টে ২১৪ গিগাওয়াট সর্বোচ্চ বিদ্যুতের চাহিদার পূর্বাভাস দিয়েছে। এছাড়াও, গড় বিদ্যুতের চাহিদা মে মাসে যা ছিল তার চেয়েও বেড়ে ১লক্ষ ৩৩ হাজার ৪২৬ মিলিয়ন ইউনিট হতে পারে। সিআরইএ বলছে যে , "দক্ষিণ-পশ্চিম বর্ষার সূচনা খনি থেকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা উত্তোলন এবং পরিবহনকে আরও বাধাগ্রস্ত করবে। বর্ষার আগে যদি কয়লার মজুদ পর্যাপ্ত পরিমাণে পূরণ করা না হয়, তাহলে ভারত জুলাই-আগস্ট মাসে ফের বিদ্যুৎ সংকটের দিকে যেতে পারে।
তারা আরও বলছে যে, দেশে সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ সংকট কয়লা উৎপাদনের কারণে নয় বরং "বন্টন ও সরকারি উদাসীনতা"। " তথ্য থেকে স্পষ্ট যে কয়লা পরিবহন এবং ব্যবস্থাপনা বিদ্যুৎ খাতের বর্ধিত চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য যথেষ্ট ছিল না। ট্রেন্ড বলছে যে পর্যাপ্ত কয়লা খনন সত্ত্বেও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি পর্যাপ্তভাবে মজুত ছিল না।"
ভারত ২০২১-২২ অর্থবছরে ৭৭৭.২৬ মিলিয়ন টন রেকর্ড কয়লা উৎপাদন করেছে যা আর্থিক বছর ২১-এ ৭১৬.০৮ মিলিয়ন টন ছিল অর্থাৎ তা ৮.৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। 21-22 অর্থবছরে দেশের মোট খননযোগ্য ক্ষমতা ছিল ১৫০০ মেট্রিক টন, যেখানে মোট উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৭৭৭.২৬ মেট্রিক টন, যা তার উৎপাদন ক্ষমতার প্রায় অর্ধেক।
সিআরইএ এর বিশ্লেষক সুনীল দাহিয়া বলেন, "সত্যিকারের কয়লার ঘাটতি হলে, কয়লা কোম্পানিগুলোর কাছে কেবল উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প ছিল। বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে কয়লার মজুদ ২০২০ সালের মে মাস থেকে কমছেচ। গত বছর বিদ্যুৎ সংকটের প্রাথমিক কারণ ছিল নিষ্ক্রিয়তা। দক্ষিণ-পশ্চিম বর্ষা শুরুর আগে পর্যাপ্ত কয়লা মজুদ করতে পারেনি পাওয়ার প্ল্যান্ট অপারেটররা। সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ বর্ষা কয়লা খনিগুলিকে প্লাবিত করে, তাদের উৎপাদন এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পরিবহন ব্যাহত করে,"












Click it and Unblock the Notifications