ভ্যাকসিনের দৌড়ে লন্বা রেসের ঘোড়া ভারত!ঊনবিংশ শতক থেকেই চলছে ভ্যাকসিনের গবেষণা
ভ্যাকসিনের দৌড়ে লন্বা রেসের ঘোড়া ভারত! ঊনবিংশ শতক থেকেই চলছে ভ্যাকসিনের গবেষণা
বিশ্বজুড়ে করোনা দাপটের মাঝেও আশা জোগাচ্ছে দেশের বেশ কিছু ভ্যাকসিন। আইসিএমআরের তথ্যানুযায়ী, ভারতে পরীক্ষারত কো-ভ্যাক্সিন, জাইকোভি-ডি এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়-সিরাম ইনস্টিটিউটের যৌথ উদ্যোগে প্রস্তুত ভ্যাকসিন ইতিমধ্যেই সফলতার দৌড়ে বেশ খানিকটা এগিয়ে। এদিকে রাশিয়ার স্পুটনিক-ভি ভ্যাকসিন নিয়ে তোলপাড় হলেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে ট্রায়ালের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে।

ভ্যাকসিনের তৈরির দৌড়ে ঊনপবিংশ শতাব্দী থেকেই সামিল ভারত
আন্দাজ ১৫০টি উন্নতমানের ভ্যাকসিনের মধ্যে মাত্র ৩টি ফাইনাল ট্রায়ালের দোরগোড়ায়। বাজার অর্থনীতিবিদদের মতে, ২০১৯-এ ভারতীয় ভ্যাকসিন বাজারের মূল্য দাঁড়িয়েছিল প্রায় ৯,৪০০ কোটিতে। যদিও ইতিহাস বলছে, ভ্যাকসিন প্রস্তুতির দৌড়ে ভারত বেশ পুরনো খেলোয়াড়। ঊনবিংশ শতকে ভারতে কলেরা মহামারীর আকার ধারণের ক'দশক পরে ইউক্রেনের এক জীবাণুবিদ নিজের ভ্যাকসিন পরীক্ষার জন্য ভারতকে বেছে নেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নব্বইয়ের দশকে সরকারের থেকে বেসরকারি ওষুধ সংস্থাগুলি ভর্তুকি ও ছাড়পত্র পাওয়ার পরই গবেষণায় জোয়ার আসে।

একনজরে ভারতে টিকাকরণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
ভারতের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডঃ চন্দ্রকান্ত লাহারিয়ার গবেষণাপত্র অনুযায়ী, " বিজ্ঞানী ডঃ ওয়ালডেমার হফকিন প্যারিসে কলেরার ভ্যাক্সিন প্ৰস্তুত করলেও ভারতে তা পরীক্ষা করেন। ফলে এত বলা যায়, কলেরার ভ্যাক্সিন আবিষ্কারের ভূমিক্ষেত্র ভারত।" লাহারিয়ার লেখনী বলছে, "গবেষণার ফল দেখে অভিভূত ভারতশাসকরা অর্থাৎ ব্রিটিশ সরকার ১৮৯৬-এ ছড়িয়ে পড়া প্লেগ মহামারীর প্রতিষেধক আবিষ্কারের উদ্দেশ্যে ডঃ ওয়ালডেমারকে আমন্ত্রণ জানায়।" তথ্যসূত্র বলছে, মুম্বইয়ের বর্তমান হফকিন ইনস্টিটিউট (তৎকালীন গ্র্যান্ট মেডিক্যাল কলেজ)-এ ডঃ হফকিন ১৮৯৭ সালে প্লেগের ভ্যাক্সিন আবিষ্কার করেন।

গুটি বসন্তের টিকাকরণেও গোটা পৃথিবীকে দিশা দেখিয়েছে ভারত
বিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগ পর্যন্ত ভারতে কলেরা, স্মল পক্স, প্লেগ ও টাইফয়েড-এর ভ্যাকসিন চালু হয়ে গিয়েছিল। যদিও সূত্র বলছে, ১৮০২ সাল থেকেই ইংল্যান্ড থেকে স্মলপক্সের ভ্যাক্সিন আমদানি করত ভারত। লাহারিয়ার গবেষণাপত্র অনুযায়ী, ১৯০৪ সাল থেকেই হিমাচল প্রদেশ ও তামিলনাড়ুতে গবেষণাগার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ভারতীয় ভ্যাক্সিন গবেষণা আরেক ধাপ এগিয়ে যায়। তাছাড়া এর আগে স্মলপক্স ভ্যাকসিন লিম্ফ প্রস্তুতির জন্য উন্নতমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে ভারত সরকারের তত্ত্বাবধানে।

বেসরকারি সংস্থাদের হাতে কতটা নিরাপদ ভ্যাকসিন গবেষণা?
দিল্লির জাতীয় গবেষণা সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের প্রধান বিজ্ঞানী ডঃ মাধবী ইয়ানাপ্পুর কথায়, "১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার আগেই স্মলপক্স ভ্যাক্সিন তৈরিতে স্বনির্ভর হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ১৯৩০-এর পর থেকেই দুই বিশ্বযুদ্ধের প্রবল প্রভাব পড়ে ভ্যাক্সিন গবেষণায়। রসদ ও পরিকাঠামোর অভাবে ভুগতে থাকে গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলি।" ডঃ মাধবীর বক্তব্য, এর পরেই বিশ্বের সাথে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে ভারত। যদিও পরবর্তীতে আইসিএমআর ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের লগ্নিতে ১৯৭৮-এ ভারতে প্রথম জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি পালন সম্ভবপর হয়। ভ্যাক্সিনের ক্ষেত্রে বেসরকারি আগমনের পর পুনের সিরাম ইনস্টিটিউটই একমাত্র যারা মিসলস ভ্যাক্সিন প্ৰস্তুত করে।

করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে কতটা আশা জোগাচ্ছে ভারত?
সূত্রের খবর, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রোজেনেকা ভ্যাক্সিন সফলতার দিকে অগ্রসর হয়েছে অনেকটাই। অন্যদিকে, ভারত বায়োটেকের কো-ভ্যাক্সিন ও আইসিএমআরের জাইকোভি-ডি দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের জন্য প্রস্তুত। আইসিএমআরের প্রাক্তন কর্ণধার ডঃ এন কে গাঙ্গুলী জানিয়েছেন, " ভারত শিশু টিকাকরণ কর্মসূচি নিয়ে বেশি ভাবিত ছিল। কিন্তু এবারের ভ্যাক্সিন কর্মসূচিতে সববয়সের মানুষই উপস্থিত থাকবেন, যা চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে ভ্যাক্সিন-গবেষকদের।" ডঃ গাঙ্গুলী মনে করিয়ে দিয়েছেন চুঁইয়ে-পড়া-তত্ত্বের কথাও। তাঁর কথায়, "২০২১-এর মাঝামাঝিতে ভ্যাক্সিনের আশা করছি আমরা। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কোভিড ভ্যাক্সিন সমাজের সকল স্তরের মানুষের মধ্যে সমানভাবে ভাগ হবে তো?"












Click it and Unblock the Notifications