চিনের সাইবার হানার মুখে ভারত, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কথা স্বীকার করল মহারাষ্ট্র সরকার
গত বছর মহামারীর আবহেই চরমে ওঠে ভারত-চিন দ্বৈরথ। সেইসময়েই কেন্দ্রকে সম্ভাব্য চিনা সাইবার হানার সম্পর্কে সাবধান করেছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। যদিও তাতে সেভাবে কেন্দ্র কর্ণপাত করেনি বলেই খবর সূত্রের। সম্প্রতি সেই ঘটনার আশঙ্কাই সত্যি হয়েছে বলে খবর প্রশাসনিক সূত্রে। লকডাউন চলাকালীন মুম্বইয়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পিছনে চিনা তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদলকে দায়ী করলেও সে অভিযোগ নাকচ করে কেন্দ্র। যদিও মহারাষ্ট্র সরকারের সাম্প্রতিক দাবিতে যে বেশ সমস্যায় কেন্দ্র, তা বলাই বাহুল্য।

গত বছরের ১২ই অক্টোবর মুম্বইয়ে চরম বিদ্যুৎ সঙ্কট তৈরি হয়। মহারাষ্ট্র সূত্রে খবর, ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি জেনারেটর চালু করতে হয় গোটা মুম্বইয়ে। মাত্র ২-৩ ঘণ্টায় কয়েকশো কোটি টাকার ক্ষতি হয় শেয়ার বাজারে। এ প্রসঙ্গে সরাসরি চিনা যোগের কথা কেন্দ্র স্বীকার না করলেও এ বিষয়ে স্পষ্ট জানিয়েছে মহারাষ্ট্র সরকার। সূত্রের খবর, এ অভিযোগের সত্যতা সরাসরি স্বীকার করেছে উদ্ধব সরকার। দ্রুত এই সংক্রান্ত বিস্তারিত রিপোর্ট পাওয়ার কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার।
সম্প্রতি ভারতীয় তথ্যবিশারদদের অভিযোগ সত্যি করে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে মার্কিন সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা 'রেকর্ডেড ফিউচার'। লাদাখে ভারত-চিন টানাপোড়েন চলাকালীন সাইবার ভাইরাসের মাধ্যমে চিন কিভাবে ভারতের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, সে বিষয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদপত্র 'নিউইয়র্ক টাইমসও'। আর তারপরেই নতুন করে বাড়ছে উদ্বেগ।
সোমবার বিকেলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট তর্জায় প্রথম মুখ খোলেন মহারাষ্ট্রের বিদ্যুৎ মন্ত্রী নিতিন রাউত। ৩ সদস্যের বিশেষ তদন্ত দল গড়ার কথাও জানান তিনি। সোমবার সন্ধ্যতেই বিভ্রাট রিপোর্ট পাওয়ার কথা জানান বিদ্যুৎ বিভাগের আধিকারিকরা। রেল সূত্রের খবর, কালওয়াতে সেন্ট্রাল লাইনে গ্রিড বসে যাওয়াতেই নাকি এই সমস্যা। তখনই সাইবার ভাইরাস হানার দাবি তোলেন অনেকে। গত নভেম্বরে শিবসেনা সাইবার বিভাগের হাতে প্রমাণ এসে পৌঁছালেও তেমন কোনো চাপানউতোর তৈরি হয়নি।
'রেকর্ডেড ফিউচার'-এর সাম্প্রতিক দাবিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্য-রাজনীতিতে। গবেষকদলের মতে, গবেষণার সমস্ত তথ্য কেন্দ্রকে জানানোর পরেও নাকি কোনো পদক্ষেপ নেয়নি মোদি সরকার! কেন্দ্রের তরফে নাকি কোনো উত্তরই আসেনি এ প্রসঙ্গে। সোমবার নিউ ইয়র্ক টাইমসে বিদ্যুৎ বিভ্রাট সম্পর্কিত রিপোর্টটি প্রকাশিত হওয়ার পরই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।












Click it and Unblock the Notifications