মণিপুরের আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গে ডাবল ইঞ্জিন সরকারই দায়ী! যৌথ চিঠি ২১ ‘ইন্ডিয়া’ সদস্যের
উত্তর-পূর্বের রাজ্য মণিপুরে তিনমাস যাবৎ আইনশৃঙ্খলা একেবারেই ভেঙে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে ক্রমশ। সে জন্য দায়ী মণিপুরের ডাবল ইঞ্জিন সরকারই। যৌথ চিঠিতে বিরোধী মঞ্চের ২১ জন সংসদ সদস্য একযোগে নিশানা করলেন কেন্দ্র ও রাজ্যকে।
মণিপুরে সশস্ত্র সংঘাট শুরু হয়েছে ৩ মে। তারপর প্রায় তিন মাস অতিবাহিত। এখনও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এই মর্মে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে সফরের দ্বিতীয় দিনে বিরোধী মহাজোট ইন্ডিয়ার ২১ জন সংসদজ সদস্য স্মারকলিপি দিয়ে এসেছেন মণিপুরের রাজ্যপাল আনুসুইয়া উইকেকে।

সেই চিঠিতেই বিরোধী মহাজোটের পক্ষ থেকে মণিপুরের ডাবল ইঞ্জিন সরকারকে নিশানা করা হয়েছে। দুদিনের সফরে ক্ষতিগ্রস্ত ও নির্যাতিতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন সংসদ সদস্যরা। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে সাংসদের চোখে ধরা পড়েছে সর্বহারা মণিপুরবাসীর উদ্বেগ, অনিশ্চয়তা, বেদনা ও দুঃখের ছবি।
মণিপুরের ঘটনায় প্রায় ৬০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এ জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় সরকারই দায়ী। বিগত তিনমাস ধরে লাগাতার গুলিবর্ষণ, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের খবর সামনে আসছে। মহিলাদের উপর যথেচ্ছ অত্যাচার চালানো হচ্ছে। তাঁদের সম্ভ্রম আজ ভুলুণ্ঠিত। দেড় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বহু মানুষ আহত। সেইসব কথাও উল্লেখ করা হয়েছে চিঠিতে।
চিঠিতে তাঁরা দাবি করেন, মণিপুরের পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হচ্ছে, এবার একটা ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। মণিপুরের ত্রাণ শিবির পরিদর্শনের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে দেখা করেন তাঁরা। প্রথম দিনে বিরোধী দলগুলির ২১ জন সাংসদ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে দেখা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ও নির্যতিতাদের সঙ্গে। তারপর রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে একটি স্মারকলিপি পেশ করেছেন তাঁরা।

বিরোধী মহাজোটের পক্ষ থেকে অধীর চৌধুরী মণিপুরের সঙ্কট নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রের সরকারকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বিঁধে বলেন, রাজ্য ও কেন্দ্রেই একই সরকার রয়েছে, ডাবল ইঞ্জিন সরকার চলছে, তারপরও কেন এই পরিস্থিতি। সম্প্রীতি ও ন্যায়বিচার রক্ষায় শীঘ্রই স্থায়ী সমাধান খুঁজতে হবে।
ইন্ডিয়ার প্রতিনিধিরা বলেন, আমরা ত্রাণ শিবিরগুলিতেও ঘুরে দেখেছি কী নিম্নমানের ব্যবস্থা। ৪০০-৫০০ লোক এক জায়গায় অবস্থান করছেন। রাজ্য সরকার শুধু তাদের চাল ও ডালের জোগান দিয়েই ক্ষান্ত। সারাদিন তাঁরা আর কিছু পাচ্ছেন না। শিবিরে যেভাবে সবাই বাস করছে, তা হৃদয়বিদারক। ইন্ডিয়ার ২১ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি ইম্ফল, বিষ্ণুপুর জেলার মইরাং ও চুরাচাঁদপুর ত্রাণ শিবির পরিদর্শন করে।












Click it and Unblock the Notifications