ভারতেও রয়েছে বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা! ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে একের পর এক রাজ্যে, এমনকী কলকাতাতেও
ভূমিকম্প নিরুপনে বসানো হয়েছে সিসমোগ্রাফ যন্ত্র। ভারতের যে ৫৯ শতাংশ এলাকা ভূমিকম্প প্রবণ, সেইসব এলাকায় এই যন্ত্র রয়েছে। ভারতের পাহাড় থেকে সমতল, বিস্তীর্ণ এলাকা ভূমিকম্পের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তুরস্ক ও সিরিয়ার ভূমিকম্পের ঘটনা সামনে জ্বলজ্বল করছে। জোশীমঠে শ'য়ে শ'য়ে বাড়িতে ফাটল ধরেছে। অনেকেই নিজের জন্মস্থান ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। আতঙ্কিত পাহাড়বাসীরা। এরপরেও বিজ্ঞানীরা যে সতর্কতার কথা বলছেন, তাতে আশঙ্কার মেঘ ঘনীভূত হয়েছে। ভূতত্ত্ববিদ এবং আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা হিমালয়ে বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা করছেন।

ভারতীয় টেকটনিক প্লেট প্রতিবছর সরছে
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ভারতীয় টেকটনিক প্লেট প্রতিবছর ৫ সেমি করে সরে যাচ্ছে। এর ফলেই উত্তরাখণ্ড এবং হিমাচল প্রদেশ বড় ভূমিকম্পের মধ্যে পড়তে পারে। হায়দরাবাদের ন্যাশনাল জিওফিজিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রধান বিজ্ঞানী এবং ভূকম্পবিদ এন পূর্ণচন্দ্র রাও সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় জানিয়েছেন, পৃথিবী পৃষ্ঠের বিভিন্ন প্লেট গতিশীল। বাদ নেই ভারতীয় প্লেটও। এর ফলে হিমালয়ের ওপরে চাপ তৈরি হচ্ছে। যে কারণে বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সিসমোগ্রাফ স্টেশনের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রয়েছে ভারতের
উত্তরাখণ্ডে ১৮ টি সিসমোগ্রাফ স্টেশনের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রয়েছে ভারতের। সিসমোগ্রাফ স্টেশন রয়েছে হিমাচল প্রদেশেও। বিজ্ঞানীরা বলছেন, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড ছাড়াও নেপালের পশ্চিম অংশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভূমিকম্পের বিপদ রয়েছে।

ভারতে ভূমিকম্প হতে পারে ৭.৫-এর বেশি মাত্রার
ভারতের কিছু অংশে ৭.৫এ- বেশি মাত্রার ভূমিকম্প হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আইআইটির অধ্যাপক জাভেদ মালিক। আগামী এক-দুই বছর থেকে এক-দুই দশকের মধ্যে এই ভূমিকম্প হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন সংবাদ মাধ্যমকে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল হিসেবে তিনি আন্দামানের পাশাপাশি হিমালয়ের কথা বলেছেন। এসব এলাকার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন বলেও জানিয়েছেন তিনি। আইআইটির সমীক্ষক দলের প্রতিবেদন অনুসারে দেশের ৫৯ শতাংশ এলাকা ভূমিকম্প প্রধান অঞ্চলে অবস্থিত। কোনও বড় ভূমিকম্প হলে কলকাতা কিংবা দিল্লির অবস্থা যে তুরস্কের কোনও অংশে কম হবে না, সেই আশঙ্কা প্রকাশও করেছেন বিজ্ঞানীরা। কলকাতায় ভারী ভূমিকম্প হলে সল্টলেক হোক কিংবা বড়বাজার বিস্তীর্ণ এলাকা মাটির মধ্যে বসে যাওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলেছেন বিজ্ঞানীরা।

বুধবার দুপুরে ভূমিকম্প
এদিন দুপুরে উত্তর ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ৪.৪ মাত্রার ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নেপালে, ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিমি গভীরে। এদিন রাজধানী দিল্লি ছাড়াও কম্পন অনুভূত হয়েছে হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশে এবং উত্তর ভারতের আরও বেশ কিছু জায়গায়।
এর আগে সোমবার রাত ১০.৩৮ নাগাদ হিমাচল প্রদেশে ধর্মশালা থেকে ৫৬ কিমি উত্তরে ৩.৬ মাত্রর ভূমিকম্প হয়। এই দুই ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির তেমন কোনও খবর পাওয়া যায়নি।
গত নভেম্বরে উত্তরাখণ্ডে ৪.৫ মাত্রার ভূমিকম্প হয়।












Click it and Unblock the Notifications