অভিশপ্ত ২৬/১১-র ক্ষত ১৩ বছর ধরে বইছে ভারত
অভিশপ্ত ২৬/১১-র ক্ষত ১৩ বছর ধরে বইছে ভারত
ক্যালেন্ডার বদলায়, একের পর এক বছর কেটে যায়, তবু যন্ত্রণা ভোলা যায় না। ক্ষত পুরনো, তবে এখনও যেন দাগ থেকে গিয়েছে৷ নারিম্যান হাউস, তাজ হোটেল আবার পুরোনো ছন্দে ফিরেছে। তবে থেকে গিয়েছে অদ্ভুত এক বিভীষিকা!

১৩ বছর আগে আজকের দিনেই নারকীয় এক আক্রমণের সাক্ষী থেকেছিল ভারতবর্ষ৷ দেশের অর্থনৈতিক রাজধানী, যে শহরে দেশের প্রত্যেক অংশ থেকে মানুষ আসেন উপার্জনের উদ্দেশ্যে। সেই মুম্বইকে রক্তাক্ত করেছিল পাকিস্তানি জঙ্গিরা৷ মাত্র দশ জন জঙ্গি প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল ১৬৬ জনের। তাজ ও ট্রাইডেন্টের মতো বিলাসবহুল হোটেল, মুম্বই এলে দেশ-বিদেশের ধনী ব্যক্তিরা যেখানে থাকেন। সেখান থেকে শুরু করে ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস, মুম্বইয়ের অন্যতম জংশন স্টেশনে অতর্কিত সন্ত্রাসবাদী আক্রমণ চালিয়েছিল পাকিস্তানি জঙ্গিরা। ধনী থেকে মধ্যবিত্ত হয়ে দরিদ্র, দেশের প্রত্যেকটি কোণায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিল জঙ্গিরা৷ সফলও হয়েছিল।
প্রশ্ন ওঠে, সেই মুহূর্তে কী করেছিল ভারত? উত্তর অনেকভাবে দেওয়া যায়! প্রথমে অবশ্যই বলতে হয়, কম্যান্ডো অপারেশন চলেছিল সেদিন। মুম্বইকে জঙ্গিমুক্ত করেছিল সেনা, ধরা পড়েছিল মহম্মদ আজমল আমির কাসাভ। দ্বিতীয় অংশে আবার উঠে আসে অদ্ভুত ঔদাসিন্যের চিত্র৷ মনমোহন সিংয়ের নেতৃত্বে কংগ্রেস সরকার যেন কিছুটা নিস্পৃহ ছিল পুরো বিষয় নিয়ে। বারংবার হামলায় পাক যোগ প্রমাণ হলেও সীমান্তে কড়া জবাব দেওয়া হয়নি৷ শোনা যায়, হামলার মূল চক্রী হাফিজ সঈদ এখনও পাকিস্তানের কোনও এক শহরে সুখে বসবাস করছেন। তবে হ্যাঁ, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ক্রিকেট খেলা বন্ধ করেছিল ভারত। এই ঘটনার রেশ থেকেই আইপিএলে পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
হামলার ১৩ বছর বাদে এ কথা সমস্ত দিক দিয়ে সত্যি, ৯/১১র মূলচক্রী লাদেনকে তার শহরে ঢুকে মেরেছে আমেরিকা। নেভি সিলের সেই অভিযানের কথা সগৌরবে বলে হোয়াইট হাউস। কিতু ভারতের সহিষ্ণু অংহিস সরকার ২৬/১১ মূল চক্রী হাফিজ সঈদের কলার চেপে ধরতে পারেনি এখনও। তবে আগামীর বদলে যাওয়ে ভারত সে দৃশ্য দেখতে পাবে এরকম আশা রাখেন অনেকেই৷
যদিও ঘটনায় জড়িত একজন জীবিত সন্ত্রাসবাদী আজমল কাসভকে শাস্তি দিয়েছে দেশ৷ তার অপরাধের প্রমাণ সমস্ত টিভি পর্দায় ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে এটাও পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে যাঁরা হামলায় মারা গিয়েছেন, যাঁরা রক্ষাকারী, সাহসী, যাঁরা জাতি, দেশ, ন্যায়বিচার এবং সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধতার জন্য তাদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন তারা আপামর দেশবাসীর হৃদয়ে অমর হয়েছেন। এখন তেরো বছর পরে, প্রশ্ন হল, মুম্বাইয়ে ২৬/১১ হামলায় নিহত ১৬৬ জনের প্রকৃত শ্রদ্ধা কীভাবে দেবে দেশ? কীভাবে সেই পক্ষাঘাতগ্রস্ত মুহুর্তের ছায়া থেকে সরানো যাবে দেশকে? এর উত্তর হয়ত অজানা-ই!












Click it and Unblock the Notifications