জনসন অ্যান্ড জনসনের ভ্যাকসিনকে মান্যতা দিল ভারত, জেনে নিন খুঁটিনাটি
এতদিনে প্রথম ডোজের পর করোনা ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার জন্য বহুদিন অপেক্ষা করতে হয়েছে ভারতীয়দের। অনেকে ভ্যাকসিনের একটি ডোজ নেওয়ার পর দ্বিতীয় ডোজের মাঝের সময়ের পার্থক্যে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। অনেকে প্রাণও হারিয়েছেন। তবে এবার এসব থেকে মুক্তি পেতেছে ভারত। শনিবার টুইট করে এরকমই এক সুখবরের ইঙ্গিত দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুখ মান্ডভিয়া৷ তিনি জানিয়েছেন জরুরি ভিত্তিতে জনসন অ্যান্ড জনসনের করোনা ভ্যাকসিনের ছাড়পত্র দিয়েছে ভারত।

জনসনের ভ্যাকসিনটি হল করোনার বিরুদ্ধে একমাত্র 'সিঙ্গল ডোজ' ভ্যাকসিন। অর্থাৎ করোনা বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য কোনও মানুষকে জনসনের ভ্যাকসিন একবার নিলেই হবে। যেখানে কোভিশিল্ড, কোভ্যাকসিন থেকে, মডার্না, ফাইজার প্রত্যেক ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ নিতে হয় সাধারণ মানুষকে৷
মডার্না, ফাইজার সহ বেশ কয়েকটি ভ্যানসিন প্রস্তুত কারক সংস্থা মেসেনজার RNA (mRNA) এর সাহায্যে তৈরি যেখানে জনসন মৃত করোনা ভাইরাসের স্পাইক সাধারণ অ্যাডিনো ভাইরাসের সঙ্গে জুড়ে মানব দেহে প্রবেশ করায়৷ যা মানুষের দেহে করোনার অ্যান্টিবডি তৈরিতে সাহায্য করে৷ অ্যাস্ট্রোজেনকা কিংবা দেশের কোভিশিল্ডও এই (mRNA) নিয়ম মেনেই তৈরি।
ভ্যাকসিনের ইতিহাসে দেখা যায়, যে পদ্ধতিতে জনসন ভ্যাকসিন বানাচ্ছে তার কেন্দ্রীয় সূত্রটি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের এক দশক আগে তৈরি হয়েছিল। বেথ ইসরায়েল ডিকোনেস মেডিকেল সেন্টারের ভাইরোলজিস্ট ড্যান বারউচ এবং তার দল গত দেড় দশক ধরে একটি 'ভেক্টর' তৈরি কাজ করছিলেন। যেটার উপর ভিত্তি করেই একটি রোগ-জীবাণুর জেনেটিক কোডের একটি অংশ মানুষের কোষে প্রবেশ করানো হয়। একবার সেখানে গেলে, এটিই কোষগুলিকে ট্রিগার করবে যাতে শরীরের রোগ চিহ্নিত করে আক্রমণ করতে পারে।
ভারতে প্রচলিত করোনা ভ্যাকসিনগুলিকে সাধারণভাবে ২-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উষ্ণতায় সংগ্রহ করতে হয়। যেটি একটি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। প্লাস ভ্যাকসিনের ডাবল ডোজের জন্য অপেক্ষার সময়টা বেশি। প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষদের কাছে প্রথম ডোজ পাওয়ার পর দ্বিতীয় ডোজ পৌঁছনোর যে অসুবিধা রয়েছে অনেকক্ষেত্রে জনসনের 'সিঙ্গল ডোজ' ভ্যাকসিন তার কিছুটা সমস্যার সমাধান করবে বলেই মনে করছেন গবেষকরা।












Click it and Unblock the Notifications