ভারতে প্রথম এমআরএনএ করোনা ভ্যাকসিনের অনুমোদন, হতে পারে দামের পার্থক্য
ভারতে প্রথম এমআরএনএ করোনা ভ্যাকসিনের অনুমোদন, হতে পারে দামের পার্থক্য
পুনের জেনোভা বায়োফার্মাসিউটিক্যালস দেশীয় পদ্ধতিতে তৈরি এমআরএনএ ভ্যাকসিনটি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে ড্রাগ কন্ট্রোল জেনারেল অফ ইন্ডিয়া (ডিসিজিআই) এমআরএনএ ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিয়েছে। তবে অন্যান্য ভ্যাকসিনের তুলনায় এমআরএনএ ভ্যাকসিনের দামের পার্থক্য হবে বলে জানা গিয়েছে। এই ভ্যাকসিনটিকে ২-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখতে হবে।

দেশীর পদ্ধতিতে এমআরএনএ ভ্যাকসিন তৈরি চ্যালেঞ্জ
সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, অত্যন্ত উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে এই এমআরএনএ ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়েছে। ভ্যাকসিনটি দেশীর পদ্ধতিতে তৈরি করার বিষয়ে সবার প্রথম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল তাপমাত্রা। বিজ্ঞানীরা এই ভ্যাকসিনটিকে ২-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় স্থিতিশীল রাখতে চেয়েছিলেন। এক বছরের নিরলস চেষ্টার পর তা বাস্তবায়িত করা সম্ভব হয়েছে। ভারতে রেফ্রিজারেশন সাপ্লাই চেনের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় এই ভ্যাকসিন সরবরাহ করা সম্ভব। অত্যন্ত উন্নত প্রযুক্তিতে এই ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়েছে। এর দাম এখনও নির্ধারিত হয়নি। তবে সরকারি এক আধিকারিক জানিয়েছেন, অন্যান্য ভ্যাকসিনের থেকে এমআরএনএ করোনা ভ্যাকসিনের দাম আলাদা হতে পারে।

কারা নিতে পারেন এমআরএনএ ভ্যাকসিন
১৮ বছরের ঊর্ধ্বে নাগরিকরা এই ভ্যাকসিন নিতে পারবেন। ২৮ দিনের ব্যবধানে ভ্যাকসিনের দুটো ডোজ নিতে হবে। এই ভ্যাকসিনের বুস্টার ডোজ রয়েছে। ভারতে প্রায় দেড় বছর আগে করোনা ভাইরাসের টিকাকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। ভারতের ৯১ কোটি নাগরিকের টিকাকরণ পক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এমআরএনএ ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, ভারতে এক তৃতীয়াংশ নাগরিকের মধ্যে এখনও ভ্যাকসিনের চাহিদা রয়েছে। এছাড়াও করোনা ভাইরাস পৃথিবী থেকে সরে যায়নি। সম্প্রতি করোনা সংক্রমণ ফের মাথা চাড়া দিতে শুরু করেছে। যার জেরে ভ্যাকসিনের বুস্টার ডোজের চাহিদা রয়েছে। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, ভারতে করোনা ভ্যাকসিনের টিকা করণ প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা আনবে এমআরএনএ ভ্যাকসিন।

ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে সতর্কতা
দীর্ঘ এক বছর গবেষণার পর এই ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল করা হয়। জেনোভা ফার্মাসিউটিক্যালসের আধিকারিক বলেন, মানুষের নিরাপত্তা তাঁদের কাছে সবার আগে। তাই ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের আগে বিভিন্ন প্রাণীর ওপর এমআরএনএ ভ্যাকসিনের ট্রায়াল দেওয়া হয়। কার্যকারিতা নিশ্চিত করার পরেই ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল করা হয়। এমআরএনএ ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে চার হাজার জন স্বেচ্ছাসেবী অংশগ্রহণ করেছিলেন।
প্রতীকী ছবি












Click it and Unblock the Notifications