কুলভূষণকে বাঁচাতে বদ্ধপরিকর ভারত, পাকিস্তানের মুখোশ খুলতে নিঃশর্ত অ্যকসেসের দাবি
গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে পাকিস্তানের মিলিটারি কোর্টে কুলভূষণকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার পর থেকেই দিল্লির তরফ থেকে জোরদার বিরোধিতা করা শুরু হয়েছিল। আন্তর্জাতিক আদালত পর্যন্ত মামলায় হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হয়৷ তবুও পাকিস্তান সম্প্রতি দাবি করে যে কুলভূষণ তাঁর মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনা করার আর্জি জানাতে চায় না। এরপরই ইসলামাবাদের মুখোশ খুলতে উঠে পড়ে লাগে ভারত।

ভারতীয় বিদেশমন্ত্রকের বিবৃতি
এর আগে ভারতীয় বিদেশমন্ত্রকের তরফে বিবৃতিতে জানানো হয়, যেভাবে কুলভূষণ যাদবের মামলার রায় এসেছে তা একপ্রকার প্রহসন৷ তারপর ইসলামাবাদের দাবি উড়িয়ে দিল্লি বলে, 'মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনা করার আর্জি করেননি কুলভূষণ যাদব৷ তিনি সাজা মুকুবের আবেদন করতে চাইছেন৷' এই আবহে এবারে নিঃশর্ত ভাবে কুলভূষণের কাছে কনসুলার অ্যাকসেস চাইল ভারত।

আন্তর্জাতিক আদালত নির্দেশ
এর আগে আন্তর্জাতিক আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, কুলভূষণের মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনা করার সময়ে ভারতেরও প্রতিনিধিত্ব থাকতে হবে৷ এরপর কেটে গেছে প্রায় এক বছর৷ এই অবস্থায় ইসলামাবাদের থেকে এমন দাবি নিছক একটা পরিহাস বলেই মনে করছে দিল্লি৷ আর পাকিস্তানের এই চাল নষ্ট করতে এবং ইসলামাবাদের মুখোশ টেনে ছিঁড়ে ফেলতেই কনসুলার অ্যাকসেস দাবি জানিয়েছে দিল্লি।

চার বছর ধরে যে নাটক চলে আসছে
দিল্লির বক্তব্য, বিগত চার বছর ধরে যে নাটক চলে আসছে, তাই চালিয়ে যেতে চাইছে পাকিস্তান৷ কুলভূষণকে যেভাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তা প্রহসন৷ তাঁকে পাকিস্তানের সেনা হেপাজতে রাখা হয়েছে৷ তিনি যাতে মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনা করার আর্জি না করেন, সে জন্য নিশ্চয়ই তাঁর উপর চাপ তৈরি করা হয়েছে৷

কে এই কুলভূষণ যাদব?
কুলভূষণ যাদব একজন প্রাক্তন নৌসেনা আধিকারিক৷ ২০১৬ সালে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে পাকিস্তানে গ্রেপ্তার হন তিনি৷ এর এক বছর পর পাকিস্তানের মিলিটারি কোর্টে তাঁকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়৷ এরপর ২০১৭ সালে কুলভূষণের মামলা নিয়ে ভারত আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হয়৷ গত বছরের জুলাইতে আন্তর্জাতিক আদালতের থেকে বলা হয়েছিল, পাকিস্তানকে কুলভূষণ যাদবের মৃত্যুদণ্ডের রায় অবশ্যই পুনর্বিবেচনা করতে হবে৷ ততদিন পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড স্থগিত রাখতে হবে৷ পাশাপাশি মামলায় ভারতীয় আইনজীবীর প্রতিনিধিত্ব না থাকতে দেওয়া নিয়েও ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছিল আন্তর্জাতিক আদালত৷ ভারতের তরফে বারবার বলা হচ্ছিল, ভারতীয় আইনজীবীর প্রতিনিধিত্ব না থাকাটা ভিয়েনা সম্মেলনের চুক্তিবিরুদ্ধ৷ আন্তর্জাতিক আদালত কার্যত দিল্লির এই দাবিতেই সিলমোহর দিয়েছিল৷

কুলভূষণ নিয়ে ভারতের বরাবরের দাবি
কুলভূষণ যে ভারতের গুপ্তচর নয়, সেকথা বারবার বলে এসেছে দিল্লি৷ কুলভূষণ নৌসেনা থেকে অবসর নেওয়ার পর ইরানে নিজের ব্যক্তিগত ব্যবসা চালাতেন৷ সেখান থেকেই তাঁকে অপহরণ করা হয়েছে বলে বারবার জানানো হয়েছে দিল্লি থেকে৷ কিন্তু পাকিস্তান বলছে, তাঁকে বালুচিস্তান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল৷












Click it and Unblock the Notifications