হোম কোয়ারেন্টাইনের নজরদারিতে গাফিলতির অভিযোগ,কাঠগড়ায় স্বাস্থ্য কর্মীরা

গোটা দেশে লাগামহীন ভাবে বেড়ে চলেছে করোনা সংক্রমণ। এমতাবস্থায় হোম কোয়ারেন্টাইনের দাওয়াই প্রাথমিকভাবে ব্যবহৃত হলেও তা যে সঠিকভাবে নজরদারির আওতায় নেই, তা জানাল স্বয়ং ভারতীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। মন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, হোম কোয়ারান্টাইনে থাকা অধিকাংশ রোগীর বাড়িতে কোনো স্বাস্থ্যকর্মীর পা পড়েনি।

পরিকাঠামোর গোলযোগ থেকেই কোয়ারেন্টাইনের সিদ্ধান্ত

পরিকাঠামোর গোলযোগ থেকেই কোয়ারেন্টাইনের সিদ্ধান্ত

স্বাস্থ্য আধিকারিকদের মতে, ভারতের মত দেশে স্বাস্থ্যকর্মীর অভাব, পরিকাঠামো ও রসদের যোগানের অভাব, সরকারি হাসপাতালের অপর্যাপ্ত বেড ও ক্রমবর্ধমান আক্রান্তের সংখ্যায় ত্রস্ত সরকারের হাতে হোম কোয়ারেন্টাইন ছিল একমাত্র অস্ত্র। যদিও এই মাসে প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা(হু)-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী, হোম কোয়ারেন্টাইনের ক্ষেত্রে গুরুতর আক্রান্তদের বাড়িতে রাখা যাবে না এবং বাড়িতে থাকলে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়। হু-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী, একজন সরকারি স্বাস্থ্য আধিকারিকের উপস্থিতিতে খতিয়ে দেখা উচিত যে রোগীর বাড়ি কোয়ারেন্টাইনের আদর্শ কি না, আলাদা স্নানাগার আছে কি না, পাশাপাশি রোগীর দেখভালের দায়িত্বে থাকা পরিজনের স্বাস্থ্যবিধি মানাটাও আবশ্যিক।

মানা হয়নি নির্দেশিকা

মানা হয়নি নির্দেশিকা

সফদারজং হাসপাতালের অধ্যাপক চিকিৎসক ডঃ যুগল কিশোর জানিয়েছেন, "সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী হোম কোয়ারেন্টাইন হিসাবে স্থান নির্বাচনের দায়িত্ব স্বাস্থ্য আধিকারিকের, কিন্তু অধিকাংশ জায়গাতেই এই নিয়মবিধি মানা হয়নি।" কিছুদিন আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী হোম কোয়ারেন্টাইন প্রয়োগের ব্যাপারে সরকারকে সফল বলে দাবি করলেও চিকিৎসক মহল অন্য কথা বলছে। তাঁদের মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভারতে হোম কোয়ারেন্টাইনের ফলে সরকারি অর্থ বেঁচে গেলেও সঠিক উপায়ে নজরদারির অভাবে সংক্রমণের আশঙ্কা প্রবল হচ্ছে।

মানুষের না বোঝার সুযোগে সংক্রমণ বাড়ছে

মানুষের না বোঝার সুযোগে সংক্রমণ বাড়ছে

সূত্রের মতে, বিগত কয়েক মাসে উত্তরপ্রদেশে এলাকাগতভাবে কোয়ারেন্টাইনের কৌশল ব্যর্থ হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে হোম কোয়ারেন্টাইন থেকে পলাতকের সংখ্যাও বেড়েছে। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংখ্যা গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান সুরেশ শর্মা জানিয়েছেন, "করোনা অতিমারীর ন্যায় দুর্যোগের জন্যে ভারত কোনোদিনই প্ৰস্তুত ছিল না। ফলত এলাকাভিত্তিক কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্রের অব্যবস্থা ও অপরিষ্কার ক্ষেত্র মানুষকে আতঙ্কিত করে পালাতে বাধ্য করেছে।" তিনি আরও জানান, "এক্ষেত্রে হোম কোয়ারেন্টাইন সঠিক মনে হলেও দিল্লি, মুম্বাই ও অন্যান্য ঘনজনবসতিপূর্ণ এলাকার জন্য এই কৌশল অবলম্বন করলে সংক্রমণ বাড়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়।"

আইসোলেশন না হোম কোয়ারেন্টাইন?

আইসোলেশন না হোম কোয়ারেন্টাইন?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিধি অনুযায়ী, আক্রান্ত ব্যক্তিকে আইসোলেশনে পাঠানো হবে না কি হোম কোয়ারেন্টাইনে, তা নির্ভর করে মূলত তিনটি বিষয়ের উপর। প্রথমত আক্রান্তের স্বাস্থ্যরিপোর্ট, দ্বিতীয়ত আক্রান্তের বাড়ির পরিবেশ এবং পরিশেষে রোগীর ক্লিনিক্যাল রিপোর্ট। গুরগাঁওয়ের পরশ হাসপাতালের পরিচালন অধিকর্তা ডঃ নীতিন ঝা জানিয়েছেন, "ভারতের পক্ষে এত অল্প সময়ে করোনা মহামারীকে সামাল দেওয়ার মত অর্থ ও পরিকাঠামো, কোনোটাই ছিল না। ফলত সরকারের পক্ষ থেকে হাসপাতালগুলিকে ফোনের মাধ্যমে সাহায্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারি হেল্পলাইনও চালু হয়েছে।"

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+