ভারত-চিন সেনা পিছু হটায় পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন লাদাখ সীমান্তে! আজ ফের বৈঠকে বসছে দুই দেশ
গালওয়ান এলাকা থেকে প্রায় ২.৫ কিমি পিছু হটল চিনের পিপল লিবারেশন আর্মির সেনা দল। ভারতও তাদের সেনাকে সরিয়ে নিয়েছে। জানা গেছে, গালওয়ানের পেট্রোলিং পয়েন্ট ১৪, পেট্রোলিং পয়েন্ট ১৫, হট স্প্রিং এলাকা সহ আরও কয়েকটি জায়গা নিয়ে দুই দেশের সেনার তরফে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

লাদাখ সীমান্তে ভারত ও চিনের মধ্যকার অস্থিরতা
বিগত একমাস ধরে চলছে লাদাখ সীমান্তে ভারত ও চিনের মধ্যকার উত্তপ্ত পরিস্থিতি। এই আবহে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এদিন দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় লেফটেন্যান্ট জেনারেল স্তরের বৈঠক। প্রথমে আটটায় সেই বৈঠক শুরু হওযার কথা থাকলেও পরে গিয়ে তা শুরু হয় দুপুর দুটোয়।

৬ জুন পূর্ব লাদাখের কাছে দুই দেশের সেনা পর্যায়ে আলোচনা
৬ জুন পূর্ব লাদাখের কাছে দুই দেশের সেনা পর্যায়ে আলোচনা হয়। সেই সূত্র ধরেই এই পদক্ষেপ বলে, মনে করা হচ্ছে। ভারত-চিন সীমান্তের চুশুল-মোলদোতে সেদিনের পাঁচ ঘণ্টার বৈঠক শেষে ভারতীয় সেনার তরফে জানানো হয়েছিল, সীমান্ত সমস্যা সমাধানে দুই দেশই সেনা ও কূটনৈতিক স্তরে পারস্পরিক যোগাযোগ সাধন করেছে।

আলোচনার মাধ্য়মে সমস্যাগুলির সমাধান
দুই দেশই চাইছে যাতে আলোচনার মাধ্য়মে সমস্যাগুলির সমাধান করা যায়। এখনও আলোচনা চলছে। ভারতের হয়ে বৈঠকে ১৪ কর্পসের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনেরাল হরিন্দর সিং প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন ৷ অন্যদিকে, চিনের হয়ে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তিব্বত মিলিটারি ডিস্ট্রিক্টের কমান্ডার৷ আজ সেই মর্মে ফের একবার বৈঠকে বসতে চলেছে দুই দেশ।

সেনা নিয়ে ড্রিল সম্পন্ন করে চিন
এদিকে এরই মধ্যে ফের নিজেদের সেনা নিয়ে ড্রিল সম্পন্ন করে চিন যার জেরে সীমান্তে ফের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে যায় সোমবার। জানা গিয়েছে যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসাবে এই ড্রিল করে তারা। এই ড্রিলের আকরের জেরে ভারতীয় সেনাও তৎপর হয়েছিল। তবে আলোচনা চলাকালীন এরকম ঘটনায় বিচলিত হয় ভারতও।

পিছু হটল চিন
তবে একদিনের মাথাতেই পিছু হটল চিন। লাদাখ সীমান্ত থেকে বেজিং সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত করতে ভারতের তরফেও সেনা কমানো হচ্ছে সীমান্ত থেকে। তবে গত এখ মাসের এই অশান্ত পরিস্থিতিতে ভারতে মেপে নিতে চিনের সুবিধে হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভারতীয় বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য
এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে খানিকটা হলেও শান্তির ভাবনা প্রতিফলিত হয়। দিনকয়েক আগে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেন, 'সীমান্ত ইশুতে বেজিং ও দিল্লি তৎপর। আমাদের সেনাবাহিনীর অত্যন্ত দায়িত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। সমস্ত নিয়ম, প্রোটোকল ও উভয় দেশের মধ্যে হওয়া চুক্তিকে যথাযথভাবে মেনে চলা হচ্ছে।'

এই বিষয়ে কী বলছে চিন?
একইরকম সুর শোনা যায় চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ানের গলায়। তিনি বলেন, 'সীমান্তে ভারতের সঙ্গে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা স্থিতিশীল। তা সামগ্রিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। সীমান্ত ইস্যুতে চিনের অবস্থান স্পষ্ট। আলোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে বিষয়গুলির সমাধান করার জন্য উভয় দেশেরই যথাযথ পরিকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে।'












Click it and Unblock the Notifications