বরফে মোড়া লাদাখে ছড়াতে পারে নয়া উত্তাপ! একে অপরকে মেপে ঘুঁটি সাজাচ্ছে ভারত-চিন
মে মাসের শুরু থেকে এই প্যাংগং লেক ও গালওয়ান উপত্যকায় চিনের সঙ্গে ভারতের সংঘাতের পরিস্থতি তৈরি হয়। দুই দেশই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় তাদের সেনার সংখ্যা বৃদ্ধি করে। যার ফলে এই এলাকায় যাযাবরদের গতিবিধি একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় থাকা সাতটা গ্রাম বাফার জোনে পরিণত হয়েছে। লাদাখ অঞ্চলে ভারত ও চিনের মধ্যে সীমান্ত চিহ্নিতকারী কোনও রেখা নেই, যার ফলে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর থাকা মানুষগুলো বিপন্ন হচ্ছে, যাদের জীবিকার একমাত্র উৎস ওই চারণভূমি, তা চিনের সেনা দখলের চেষ্টা করছে।

সেনা সরিয়েও সরাচ্ছে না চিন
পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকা থেকে দুই কিলোমিটার পিছনে সরে গেছে চিনের সেনাবাহিনী৷ ভারতীয় সেনা সূত্রে খবর, কোর কমান্ডার স্তরে বৈঠকের পর তাঁবু, গাড়ি এবং বাহিনী সরিয়ে নিয়েছে চিন। তবে গালওয়ান নদীর পার্শ্ববর্তী দুর্গম এলাকায় এখনও অস্ত্রবাহী গাড়ি মোতায়েন রেখেছে চিন। ভারতীয় সেনা সেদিকে নজর রেখেছে। এছাড়া আকসাই চিনে পিএলএ-র ৫০ হাজার সেনা এখনও মোতায়েন রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

লাদাখ বিবাদ দীর্ঘায়িত হবে
যতই আলোচনা চলুক চিনের সঙ্গে, বিরোধ এখনও চলবে বলে মনে করছে কেউ কেউ৷ কারণ, সীমান্তে নদীর জলের তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নেমে গেছে৷ তাপমাত্রা যত বদলাবে ততই ধীরে ধীরে বরফে পরিণত হবে নদীগর্ভ৷ কয়েকমাসের মধ্যে গোটা এলাকা তুষারে ঢেকে যাবে৷ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে লাদাখ৷ এরই মাঝে গালওয়ান থেকে ১৭৬ কিলোমিটার উত্তরে জিনজিয়াং প্রদেশে চিন তাদের এক পুরোনো হেলিবেসকে নতুন করে তৈরি করছে বলে দেখা যায় স্যাটেলাইট চিত্রে।

ফিঙ্গার ৪ থেকে ৮ পর্যন্ত আধিপত্য বিস্তার চিনের
চিনা সেনারা প্যাংগং লেকের উত্তর তীরে ফিঙ্গার ৪ থেকে ৮ পর্যন্ত আধিপত্য বিস্তার করতে উচু স্থান দখল করে তা নিয়ন্ত্রণ করছে। গালওয়ান উপত্যকা অঞ্চলের অবস্থান ঐতিহাসিকভাবে পরিষ্কার। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা নিয়ে চিনের তরফে যে পদক্ষপে করা হচ্ছে, তা রীতিমতো বাড়াবাড়ি। এই পরিস্থিতি ফের সংঘর্ষ হওয়া সময়ের অপেক্ষা বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই আবহেই চিন গালওয়ান উপত্যকায় শীতকালীন তাঁবু গেড়েছে। যার দেখাদেখি ভারতও সেনার জন্য শীতকালীন পোশাকের অর্ডার দিয়েছে।

চিনা হামলা রুখতে তৈরি ভারত
এরই মাঝে শীতকালেও লাদাখে চিনা সেনার আক্রমণের জবাব দিতে তৈরি হচ্ছে ভারত। শীতকালের খারাপ আবহাওয়ার সুযোগে চিন ফের আগ্রাসন দেখাতে পারে, এমন আশঙ্কায় তৈরি রাখা হচ্ছে অস্ত্র ভাণ্ডারও। চিনকে রুখতে লাদাখে ৪০ হাজার ট্রুপ মোতায়েন করেছে ভারত। আকসাই চিন থেকে ডিবিওতে ঢোকার রাস্তা, কারাকোরাম পাসে মোতায়েন করা হয়েছে ১২টি ভীষ্ম ট্যাঙ্কের স্কোয়াড্রন।

ঘুঁটি সাজাচ্ছে ভারত
শীতকালে বরফের জেরে একাধিক রাস্তায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে। আর তার ফলেই লাদাখ সীমান্ত পর্যন্ত রেশন নাও যেতে পারে। এমন ভাবনার জেরে ইতিমধ্যেই সেনার জন্য ৬০ হাজার মেট্রিক টন রেশন উপত্যকায় তুলে নেওয়া হয়েছে। শীতকালে যে রাস্তা দিয়ে চিনে ফের পদাতিক বাহিনী পাঠাতে পারে, লাদাখের সেই সমস্ত সেক্টরে ভারত সেনা মোতায়েন করতে শুরু করে দিয়েছে। সেই সময় তুষারপাতের জেরে বহু জায়গাতেই সংঘাতের ঘরানা পাল্টাতে পারে। আর তাই নিয়েই ঘুঁটি সাজাচ্ছে ভারত।

লাদাখের সংঘাত আরও বড় আকার নিতে পারে
সাধারণত লেহ থেকে চণ্ডিগড়ের য়ে আকাশপথ তা ব্যবহার করেই লাদাখে সেনার জন্য খাবার পাঠানো হয়। তবে সেই আকাশপথে কয়েকটি বাধা রয়েছে। আর সেই কারণেই সড়ক পথে কাশ্মীর থেকে লাদাখে একাধিক পাসের দিকে তাকিয়ে সেনা। সবমিলিয়ে শীতকালে চিন ভারত সংঘাত আরও বড় আকার নিতে পারে ভেবেই ঘর গোছাচ্ছে ভারতীয় সেনা।












Click it and Unblock the Notifications