লাদাখে চিনা আগ্রাসনের মাঝেই ফের বৈঠক চুশুলে! অ্যাডভান্টেজে থাকা ভারত দেবে কোন বার্তা?
পূর্ব লাদাখের প্যাংগং সো লেকে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মির অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করা হয়েছে বলে ভারতীয় সেনা সোমবার যে বিবৃতি দিয়েছে, তার কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে চিন। মঙ্গলবার বিদেশমন্ত্রকের তরফে ফের বলা হয়, বেজিংয়ের কার্যকলাপ সেইসব দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা ও প্রোটোকলের পরিপন্থী, যা সীমান্তে শান্তি ও স্বস্তি বজায় রাখতে দুই দেশই গ্রহণ করেছিল। এরই মাঝে ফের একপ্রস্থ বৈঠকে বসে ভারত-চিন সেনা।

স্থিতাবস্তা লঙ্ঘন করে চিনা বাহিনী
দুই দিন আগেই পূর্ব লাদাখের প্যাংগং এলাকায় স্থিতাবস্তা লঙ্ঘন করে চিনা বাহিনী। প্যাংগং লেকের দক্ষিণ দিক থেকে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে তারা৷ তবে প্যাংগং সো লেকের দক্ষিণ তীরে চিন সেনার অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করে ভারতীয় সেনা। এরপরই প্যাংগং লেকের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানের দখল নেয় ভারতীয় সেনা। যার জেরে চিনা সেনার গতিবিধির উপর আরও কড়া নজরদারি চালাতে সক্ষম হবে ভারত।

সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা
সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরে আলোচনার মাঝেই নতুন করে সীমান্তে উত্তেজনা ছড়ায় চিন। তবে চিনকে যোগ্য জবাব দেয় ভারত। এরপরে নিজেদের দোষ ঢাকতে চিন উল্টে ভারতীয় সেনাদের বিরুদ্ধেই সীমান্ত পার হয়ে উত্তেজনা ছড়াবার অভিযোগ তুলতে থাকে।

করোনা আবহে লাদাখ সীমান্তে চরম উত্তেজনা
করোনা আবহে লাদাখ সীমান্তে চরম উত্তেজনার পরিস্থিতি বিরাজ করছে গত ১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে। গত প্রায় চার মাস ধরে লাদাখ সীমান্ত বরাবর ভরাত-চিন সেনা একে অপরের বিরুদ্ধে বন্দুক তাক করে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এর মাঝে যদিও বা শান্তি প্রক্রিয়ার লক্ষ্যে বেশ কেয়কবার বৈঠক হয়েছে দুই দেশের মাঝে, তবুও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি দুই দেশের। বরং নয়া সংঘর্ষের খবরে ফের একবার যুদ্ধের পরিস্থিতি ঘনীভূত হয়।

শান্তিপূর্ণভাবে দু-তরফের সমস্যা মেটানোর কথাও বলা হয়েছে
চিনের সরকারি মুখপত্র ইংরেজি সংবাদপত্র গ্লোবাল টাইমসে মঙ্গলবার একটি সম্পাদকীয় প্রকাশিত হয়, যার শিরোনাম 'চিনকে ভারতের সুযোগসন্ধানী পদক্ষেপের জবাবি হামলা অবশ্যই করতে হবে।' সেখানে দাবি করা হয়েছে যে ভারত 'এমন প্ররোচনামূলক কাজ করেছে যাতে চিনের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বে গভীর আঘাত লেগেছে, এবং চিন-ভারত সীমান্তে শান্তি ও স্বস্তি ব্যাহত হয়েছে।' এখানে যেমন বলা হচ্ছে যে চিন-ভারত সীমান্তে সামরিক সংঘাতের প্রস্তুতি নিতে হবে চিনকে, পাশাপাশি শান্তিপূর্ণভাবে দু-তরফের সমস্যা মেটানোর কথাও বলা হয়েছে।

দুই দেশের মধ্যে তৈরি যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি
লাদাখের গালওয়ানে চিন এবং ভারতের সংঘর্ষের পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে তৈরি হয়েছে একটা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি। চিনা আগ্রাসন নীতির জেরে কার্যত তলানিতে গিয়ে পৌঁছেছে ভারত-চিন কূটনৈতিক সম্পর্ক। এই অবস্থায় দুই পক্ষই আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে এর মাঝেও চিনা সেনা নিজেদের আসল রং দেখায়।

এদিন ফের বৈঠকে বসে দুই দেশের সেনা
সূত্রের খবর, ১০০ দিন পরেও পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ থাকায় উদ্বিগ্ন উভয় পক্ষই। আর তাই শান্তি ফেরাতে সোমবার ফের এক প্রস্থ বৈঠকে বসে দুই পক্ষের সেনা। লাদাখ সীমান্ত বরারবর প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে চুশুলে সেই বৈঠক হয় বলে জানা গিয়েছে। দুই দেশের সেনার ব্রিগেডিয়ার কমান্ডার পর্যায়ের এই বৈঠক বর্তমান পরিস্থিতিতে খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছিল। তবে এই বৈঠক চলাকালীনও চিনা সেনা ফের ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢোকার চেষ্টা করে বলে জানা যায়। তবে তা সত্ত্বেও এদিন ফের বৈঠকে বসে দুই দেশের সেনা আধিকারিকরা।

শান্তি প্রতিষ্ঠার একাধিক চেষ্টা
শান্তি প্রতিষ্ঠার একাধিক চেষ্টার পরেও পূর্ব লাদাখের গালওয়ান, গোগরা, হট স্প্রিং, দেপসাং সমতলভূমি, প্যাংগং লেক ও পাহাড়ির খাঁজ বা ফিঙ্গার পয়েন্টগুলোতে চীনের বাহিনীকে ঘাঁটি গেড়ে থাকতে দেখা যায়। লাদাখ সীমান্তে দুই দেশের যুদ্ধবিমানকেই চক্কর কাটতে দেখা গেছে। এরই মধ্যে ভারত বেশ কয়েকটি স্ট্র্যাটেজিক পয়েন্টের উপর নিজেদের কর্তৃত্ব বজাতে সক্ষম হওয়ায় চিনা সেনার কালঘাম ছুটছে এবার।












Click it and Unblock the Notifications