খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে হিংসার ৪৮৬ ঘটনা নথিভুক্ত ২০২১-এ! ২০২০-র তুলনায় ৭৫% বৃদ্ধি, দাবি অধিকার সুরক্ষা সংস্থার
সারা দেশে খ্রিস্টানদের ( christian) বিরুদ্ধে হামলার ঘটনা (incident) বৃদ্ধি (increase) পেয়েছে ২০২১ সালে। এমনটাই দাবি করা হয়েছে খ্রিস্টান অধিকার সুরক্ষা সংস্থার প্রতিবেদনে। সেখানে বলা হয়েছে ২০২১-এ খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে হ
সারা দেশে খ্রিস্টানদের ( christian) বিরুদ্ধে হামলার ঘটনা (incident) বৃদ্ধি (increase) পেয়েছে ২০২১ সালে। এমনটাই দাবি করা হয়েছে খ্রিস্টান অধিকার সুরক্ষা সংস্থার প্রতিবেদনে। সেখানে বলা হয়েছে ২০২১-এ খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে হামলার ৪৮৬ টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। যা ২০২০ সালের তুলনায় ৭৫ শতাংশ বেশি। একটি সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে এমনই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

মোদী জমানায় সব থেকে বেশি হিংসা
ইউনাইটেড খ্রিশ্চিয়ান ফোরামের তরফে বলা হয়েছে, ২০১৪ থেকে যদি খ্রিস্টানদের ওপরে সব থেকে বেশি হামলা হয়ে থাকে কোনও বছরে তা হল ২০২১। সংস্থার তরফে অভিযোগ খতিয়ে দেখতে এবং সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছতে একটি ট্রোল ফ্রি নম্বর চালু করা হয়েছিল। সেখানে নথিভুক্ত এক-একটি অভিযোগকেই অপরাধ হিসেবে ধরা হয়েছে।
সংস্থার তরফে দাবি করা হয়েছে, শেষ দুই মাসে ১০৪ টি অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে। যেখানে যিশুর জন্মদিন ক্রিসমাস পালনের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। সব থেকে বেশি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে অক্টোবরে।

২০১৪ থেকে অভিযোগ বেড়েছে
শুক্রবার সংস্থার তরফে যে রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে ২০১৪ সাল অর্থাৎ মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার বছর থেকে খ্রিস্টানদের অভিযোগের সংখ্যা বেড়েছে। ১২৭ থেকে সেই সংখ্যা পৌঁছেছে ৪৮৬তে। এর মধ্যে ১২৭ (২০১৪), ১৪২ (২০১৫), ২২৬ ( ২০১৬), ২৪৮ (২০১৭), ২৯২ (২০১৮), ৩২৮ (২০১৯) টি অভিযোগ উঠে এসেছে।

যে সব রাজ্যে বেশি হিংসা
- রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে হিংসার অভিযোগ সব থেকে বেশি এসেছে উত্তর প্রদেশ থেকে। সেখানে এই বছরে ১০২ টি ঘটনা ঘটেছে। এরপরেই রয়েছে ছত্তিশগড়। সেখানে ৯০ টি ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও ঝাড়খণ্ড এবং মধ্যপ্রদেশে হিংসার ঘটনার সংখ্যা যথাক্রমে ৪৪ এবং ৩৮ টি।
- প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশ জুড়ে এইসব ঘটনায় ধর্মীয় উগ্রবাদীরা প্রার্থনাস্থলে ঢুকে গিয়েছে কিংবা ধর্মান্তরণে বাধ্য করেছে।
- এইসব ঘটনায় পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার আগে হুমকির পাশাপাশি প্রার্থনার সময়ে শারীরিক নিগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি মিথ্যা অভিযোগে যাজককে পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে থানার বাইরে স্লোগান দেওয়া হয়েছে। এইসব ক্ষেত্রে পুলিশকে নীরব দর্শকের ভূমিকায় দেখা গিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
- সংগঠনের মাধমে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া ২১০ জনকে মুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪৬ টি উপাসনালয় খোলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে এইসব ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে মাত্র ৩৪ টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

ধর্মীয় সম্প্রীতির ক্ষতি
ইউনাইটেড খ্রিশ্চিয়ান ফোরামের পদাধিকারী তথা, দিল্লি সংখ্যালঘু কমিশনের প্রাক্তন সদস্য এসি মাইকেল অভিযোগ করেছেন, মিথ্যা প্রচারে ধর্মীয় সম্প্রীতির ক্ষতি করা হচ্ছে। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষের বিরুদ্ধে ঘৃণার প্রচার এবং ধর্মান্তরণের মাধ্যমে অপরাধ বৃদ্ধির অভিযোগ করেছেন তিনি। রাজ্যে রাজ্যে ধর্মান্তর বিরোধী আইন থাকলেও তার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন করেছেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications