উত্তরপ্রদেশে ব্রাহ্মণ ভোট পেতে হুড়োহুড়ি, আসরে সব দলই
উত্তরপ্রদেশে ব্রাহ্মণ ভোট পেতে হুড়োহুড়ি, আসরে সব দলই
সামনের বছরই উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন। কড়া পরীক্ষার সামনে যোগী আদিত্যনাথ ও তাঁর সরকার। তবে নির্বাচনের দামামা বেজে ওঠার আগে থেকেই হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছে সেই রাজ্যে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রাজ্যের জনসংখ্যার ১১ শতাংশই ব্রাহ্মণ ভোট। আর এই ভোটব্যাঙ্কই জয় পরাজয়ের পার্থক্য গড়ে দেয়৷

কেন জরুরি ব্রাহ্মণ ভোট?
জাতীয় রাজনীতি নিয়ে যারা চর্চা করেন তাঁরা সকলেই জানেন যে এই নির্বাচনের গুরুত্ব ঠিক কতটা। বিশেষজ্ঞদের মতে, যে দল উত্তরপ্রদেশে জয়লাভ করে, লোকসভায় তাদের পাল্লা বরাবরই অল্প হলেও বেশি। আর হবে নাই বা কেন? দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজ্য উত্তরপ্রদেশ, তাছাড়া এই রাজ্য হিন্দি বলয়ের অন্যতম প্রাণকেন্দ্রও বটে৷ প্রতিটি দলের ভোটকুশলীরা জানেন এই রাজ্যে জয় পেতে গেলে প্রথমেই ব্রাহ্মণ ভোট নিজেদের ঝুলিতে ভরতে হবে৷

মায়াবতীর পদক্ষেপ!
২০২২ এ ব্রাহ্মণদের মন পাওয়ার উদ্দেশ্যেই সর্বপ্রথম পদক্ষেপ নিলেন বহুজন সমাজবাদী পার্টির নেত্রী মায়াবতী। আগামী ২৩ জুন থেকে দফায় দফায় প্রভাবশালী ব্রাহ্মণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন তিনি। ২০২২ সালের ভোটে তাঁদের কাছ থেকে সাহায্য চাইবেন।

কী ভাবছে বিজেপি?
পালটা পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপিরও৷ এই কিছুদিন আগেই রাহুল গান্ধী ঘনিষ্ঠ কংগ্রেস নেতা জিতিন প্রসাদ গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়েছেন৷ বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রাহ্মণ ভোট একত্রিত করার খেলায় এভাবেই অল্প হলেও এগিয়ে রয়েছেন যোগী আদিত্যনাথ। ১১ শতাংশ ভোট পেতে দলের ব্রাহ্মণ নেতাদের এগিয়ে দিয়েছেন যোগী৷

২০০৭ এ ব্রাহ্মণদের সমর্থণেই ক্ষমতায় এসেছিল BSP!
মনে রাখতে হবে, ২০০৭ সালে এই বহুজন সমাজবাদী পার্টিই ব্রাহ্মনদের সাহায্য নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। তারা সেই একই রণনীতি নিয়ে ভোট ময়দানে হাঁটছে এবারও। ব্রাহ্মণদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকে বাবরি মসজিদের স্থানে রামমন্দির নির্মাণ প্রসঙ্গে সমাজবাদী পার্টি নেতা নকুল দুবে বলেন, 'রাম কারুর একার নয়, তিনি সবার'।

কংগ্রেসের ব্রাহ্মণ মুখ্যমন্ত্রী
পিছিয়ে নেই কংগ্রেসও। কংগ্রেস নেত্রী আরাধনা মিশ্র বলেন, 'কংগ্রেসই একমাত্র দল যাঁরা রাজ্যটিকে ব্রাহ্মণ মুখ্যমন্ত্রী উপহার দিয়েছে। অন্য কোনও দল এই কাজ করতে পারেনি এতদিনে।'

সমাজবাদী পার্টির টোপ!
তরজা থেকে বাদ যাচ্ছেন না পরশুরামও। সমাজবাদী পার্টির মদতে চলা ভগবান পরশুরাম ট্রাস্টের তরফ থেকে অভিষেক মিশ্র রাজ্যের প্রতিটি জেলায় পরশুরামের মূর্তি তৈরি করতে শুরু করে দিয়েছেন৷ হিন্দুদের বিশ্বাস অনুযায়ী, পরশুরাম শিবভক্ত এক সন্ন্যাসী। তবে, ভগবান পরশুরাম ট্রাস্টের দাবি, পরশুরাম আদতে ব্রাহ্মণদের প্রতিভূ। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ অবশ্য এর বিরোধিতাই করেছেন। তাঁর মতে, 'রাম এবং পরশুরাম, দু'জনেই ভগবান শ্রীবিষ্ণুর অবতার'












Click it and Unblock the Notifications