নতুন মন্ত্রীদের নিয়ে প্রথম বৈঠকে ২৩, ১২৩ কোটি টাকার কোভিড তহবিলের ঘোষণা কেন্দ্রের
নতুন মন্ত্রীদের নিয়ে প্রথম বৈঠকে ২৩, ১২৩ কোটি টাকার কোভিড তহবিলের ঘোষণা কেন্দ্রের
মন্ত্রীসভায় রদবদলের পর বৃহস্পতিবার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সারলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এদিনের এই বৈঠকে করোনা ভাইরাস মহামারি পরিচালনা করার জন্য ২৩,১২৩ কোটি টাকার নতুন জরুরি প্রতিক্রিয়া প্যাকেজের ঘোষণা করে কেন্দ্র সরকার।

সমালোচনার মুখে পড়ে রদবদল
করোনা ভাইরাস মহামারি, অর্থনীতি ও অন্যান্য ক্ষেত্রগুলি সঠিকভাবে পরিচালনা করতে না পারার কারণে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্বাস্থ্য, তথ্যপ্রযুক্তি ও জ্বালানী তেলের নতুন মন্ত্রী নিয়োগ করেন বুধবারই। এদিন সন্ধ্যায় মোট ৭৭ জন মন্ত্রীসভার সদস্যদের নিয়ে, যার মধ্যে ৩০ জন মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। মহামারি পরিচালনার প্যাকেজ ঘোষণা করেন দেশের নতুন স্বাস্থ্য মন্ত্রী মনসুখ লক্ষণ মান্ডবিয়া, যিনি বুধবারই হর্ষ বর্ধনের পরিবর্তে সদ্য নিয়োগ হয়েছেন। প্রসঙ্গত, সরকারের কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রচেষ্টা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল হর্ষ বর্ধনকে, যে কারণে তাঁকে এবং তাঁর অধীনস্ত কর্মকর্তাদের সরে যেতে বলা হয়।

মূল্য দিতে হল হর্ষ বর্ধনকে
তবে সরকারি সূত্রের খবর, ধ্বংসাত্মক করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ওয়েভ মোকাবিলায় সরকারের সংঘর্ষের জন্য হর্ষ বর্ধনকে রাজনৈতিক মূল্য দিতে হয়েছে। দেশজুড় টিকাকরণ নিয়েও যে হাঙ্গামা চলছিল তার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্বিতীয় ওয়েভের প্রভাব মারাত্মক ছিল এবং শতাধিক মানুষ তাতে প্রাণ হারিয়েছেন। গত সপ্তাহে এপ্রিল ও মে মাসে কোভিড-১৯ সংক্রমণে মৃত্যুর সরকারি গণনা ৪০ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও বেশি এবং তৃতীয় ওয়েভ আসার সম্ভাবনাও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অথচ এখনও লক্ষাধিক মানুষের টিকাকরণ হয়নি।

নতুন মমন্ত্রীদের শপথ
বুধবার শাসক দল বিজেপির ও কিছু জোট দলের একাধিক সদস্য রাষ্ট্রপতি ভবনে শপথ গ্রহণ করেন। ২০১৯ সালে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর প্রথমবার মন্ত্রীসভার রদবদল করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রদবদলের আগে ১২ জন মন্ত্রীর পদত্যাগের ফলে প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রীসভায় বেশ কিছু পদ ফাঁকা হয়েছিল। এদিন নতুন করে ৪৩ জন শপথ নেওয়ায় মোদীর মন্ত্রীসভায় মোট সদস্য হলেন ৭৭ জন।

বিরোধীদের কটাক্ষের মুখে
তবে এই রদবদলের পরও বিরোধীদের কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছে মোদী সরকারকে। বিরোধী নেতা পি চিদাম্বরম জানিয়েছেন যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও তাঁর ডেপুটিকে অপসারণ বুঝিয়ে দিল যে মোদী সরকার মহামারি প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি বলেন, 'এই অপসারণের পর মন্ত্রীদের শিক্ষা নেওয়া উচিত। যদি সবকিছু ভালো হয় তবে দায় নেবেন প্রধানমন্ত্রী কিন্তু কিছু ভুল হলে তার মাশুল গুনতে হবে মন্ত্রীদের।' প্রসঙ্গত, মন্ত্রীসভায় অর্ধেকই একেবারে নতুন মুখ। এই মন্ত্রীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা, তারুণ্য, পেশাগত দক্ষতা এবং সর্বোপরি জাতিগত সমীকরণের দিকে নজর রেখেছে গেরুয়া শিবির। আসলে মন্ত্রীসভার রদবদলের মাধ্যমে লোকসভার আগে সব সম্প্রদায়কেই খুশি করতে চাইছে বিজেপি। সেই সঙ্গে সুশাসন বজায় রাখতে পেশাগত দক্ষতার দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি কেন্দ্রের তরফে।

লক্ষ্য ২০২৪
তবে এই মন্ত্রীসভার রদবদলের পেছনে বড় কারণ হল চলতি বছরের এপ্রিলে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে গেরুয়া শিবিরের পরাজয় এবং আগামী বছর উত্তরপ্রদেশ, গোয়া, মণিপুর, পাঞ্জাব ও উত্তরাখণ্ডে ফেব্রুয়ারি ও মার্চে নির্বাচনকে লক্ষ্য করে। যা প্রমাণ করবে ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে কেন্দ্রে আদৌও বিজেপির অস্তিত্ব থাকবে কিনা।












Click it and Unblock the Notifications