পশুপতি না চিরাগ, এলজেপি-র ক্ষমতা কার হাতে? দিল্লির বৈঠকেও কাটল না জট, ভরসা নির্বাচন কমিশনে
পশুপতি না চিরাগ, এলজেপি-র ক্ষমতা কার হাতে? দিল্লির বৈঠকেও কাটল না জট, ভরসা নির্বাচন কমিশনে
কাকা পশুপতি কুমার পারসের চালেই নিজ ঘরেই কার্যত কোণঠাসা লোকজন শক্তি পার্টি তথা এলজেপি নেতা চিরাগ পাসওয়ান। এমনকী ৬ সাংসদের মধ্যে ৫ সাংসদের ভোট টেনে লোকসভায় প্রধান দলনেতাও নির্বাচিত হয়েছে নীতীশ ঘনিষ্ঠ পশুপতি। এমতাবস্থায় ঘরে বাইরে চাপের মুখে পড়ে দলের মধ্যে থাকা নিজ অনুগামী ও দলে জাতীয় নির্বাহী সদস্যদের নিয়ে নিয়ে রবিবারই দিল্লিতে বড়সড় বৈঠক করলেন রামবিলাস পুত্র চিরাগ পাসওয়ান।

৯০ শতাংশ সদস্যই চিরাগের পক্ষে ?
যদিও এই বৈঠক ভিত্তিহীন বলে পাল্টা কটাক্ষ করলেন পশুপতি। এদিকে চিরাগ আবার ইতিমধ্যেই দাবি করেছেন এই মূহূর্তে লোক জনশক্তি পার্টির ৯০ শতাংশ এক্সিকিউটিভ সদস্যই তাঁর সঙ্গে আছেন। এই দাবিও সম্পূর্ণ ভাবে মিথ্যা বলে তোপ দেগেছেন পশুপতি। যদিও দিল্লিতে চিরাগ গোষ্ঠীর হাত ধরে লোকজনশক্তি পার্টির কার্যনির্বাহী সভার ছবিও এদিন সামনে এসেছে।

রামবিলাসের মৃত্যুর পরেই শুরু হয় সংঘাত
এদিকে রামবিলাসের মৃত্যুর পরেই দলের ক্ষমতা কার হাতে থাকবে তা নিয়ে বিস্তর চাপানৌতর শুরু হয়। রামবিলাস পুত্র চিরাগকে উত্তরসূরি করলেও তা নিয়ে মতবিরোধ ছিল দলের সদস্যদের মধ্যেই। এমনকী সাত আগে শেষ হওয়া জেডিইউ দ্বন্দ্বের হাত ধরে সেই ফাটল আরও চওড়া হয়।এদিকে চিরাগের চালে চিরাগকেই পাল্টা আঘাত করতে পশুপতি নেতৃত্বাধীন এলজেপি চিরাগের বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর সাথে যুক্ত সমস্ত সংস্থা এবং রাষ্ট্রীয় ইউনিটগুলি ভেঙে দিয়ে ইতিমধ্যেই নতুন জাতীয় এক্সিকিউটিভ কমিটি ঘোষণা করেছে।

পশুপতির নতুন কমিটিতে কারা পেলেন জায়গা?
পশুপতি গোষ্ঠী দ্বারা গঠিত জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে ইতিমধ্যেই সাংসদ চৌধুরী মেহবুব আলী কায়সার, সাংসদ বীণা দেবী, প্রাক্তন বিধায়ক সুনিতা শর্মা এবং অনিল চৌধুরীকে জাতীয় সহ সভাপতি করা হয়েছে। পাশাপাশি সাংসদ চন্দন সিং ও প্রিন্স রাজ, প্রাক্তন বিধায়ক বীরেশ্বর সিং, ডঃ উষা শর্মা, রাকেশ চৌধুরী, রণভীর সিং গুথা, রামজি সিং ও রাজ কুমার রাজকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। অন্যদিকে এলজেপি নেতা হীরা প্রসাদ মিশ্রকে সেক্রেটারি, সঞ্জয় সরফকে জাতীয় মুখপাত্র করা হয়েছে। পাশাপাশি বিনোদ নগরকে জাতীয় কোষাধ্যক্ষ ও মুখপাত্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

শেষ সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশনই ?
নির্বাচন পূর্ববর্তী সময় বিজেপির সঙ্গে সখ্যতা রাখলেও নীতীশ কুমারের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দেগে গেছেন চিরাগ, তখন অন্যদিকে কাকা পশুপতিকে কার্যত হত করে ফেলেছেন জেডিইউ প্রধান। এমনকী এই ক্ষেত্রে নীতীশের মূল হাতিয়ার এলজেপি-র একমাত্র বিধায়ক রাজু সিং। তাঁকে ভোটের পর নিজ দলে ভিড়িয়ে নেন নীতীশ। তারপর চিরাগের শক্তিক্ষয যেন ছিল শুধু সময়ের অপেক্ষা। যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে লোক জনশক্তি পার্টির (এলজেপি) আসল উত্তরাধিকারী কে হবেন, সম্ভবত শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনই সেই সিদ্ধান্ত নেবে।












Click it and Unblock the Notifications