দাঁড়িপাল্লা ঝুঁকে মস্কোর দিকে? মার্কিন চোখরাঙানির মাঝেই আরও দৃঢ় ভারত-রাশিয়া বন্ধুত্ব
ভারত-রাশিয়ার সুসম্পর্ক নিয়ে প্রথম থেকেই চিন্তার ভাঁজ ছিল আমেরিকার কপালে। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সামরিক সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আমেরিকা। দিল্লি-ওয়াশিংটন সম্পর্ক বর্তমানে ভালো হওয়া সত্ত্বেও তাই নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়ে রেখেছে মার্কিন প্রশাসন। মার্কিন সেনেটও ভারতকে এই বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল আগে। যদিও তলে তলে এই চাপানউতোর থাকলেও আনুষ্ঠানিক ভাবে দিল্লিকে কোনও বার্তা ওয়াশিংটন এখনও দেয়নি। তবে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বন্ধুত্ব আমেরিকা যে মানতে নারাজ, তা কারোর অজানা নেই। তবে সেই পরিস্থিতির মাঝেও ভারত-রাশিয়া নিজেদের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পক্ষেই হাঁটল।

পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি
মার্কিন চোখ রাঙানি ভুলে নতুন করে ভারত-রুশ সামরিক-প্রযুক্তিগত পারস্পরিক সহযোগিতা আরও দৃঢ় করার পক্ষে সওয়াল করলেন দুই দেশের কূটনীতিকরা৷ মঙ্গলবার দিল্লিতে এই ইস্যুকে মাথায় রেখে একটি জরুরি বৈঠক করেন ভারত ও রাশিয়ার শীর্ষ স্থানীয় কূটনৈতিক এবং মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিরা৷ কিন্তু সেখানে বিতর্কিত এস-৪০০ অস্ত্রের সরবরাহ নিয়ে কোনও কথা হয়নি৷

অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে টালবাহানা
প্রসঙ্গত, রাশিয়ার তরফে ভারতকে এই অস্ত্র সরবরাহের কথা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরেই এ নিয়ে টালবাহানা চলছে৷ ভারত-চিন তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে রাশিয়ায় গিয়ে রাজনৈথ সিং এই বিষয়ে বৈঠক করে এসেছিলেন। তখন মস্কোর তরফে জানানো হয়েছিল যে যত দ্রুত সম্ভব এই মিসাইল সিস্টেম ভারতকে সরবারহ করা হবে। এদিকে রাশিয়া থেকে এই মিসাইল সিস্টেম কিনলে ভারতের উপর যাতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়, তা নিয়ে সরব হয়েছিল মার্কিন সেনেট। কয়েকদিন আগেই ভারতে সফরে এসেছিলেন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব। সেই সময় এই নিয়ে সরব হয়েছিল মার্কিন সেনেট। যদিও বাইডেন প্রশাসনের তরফে এখনই তা নিয়ে কোনও বার্তা দিল্লিকে দেওয়া হয়নি।

ভারতের উপর নিষেধাজ্ঞার চোখ রাঙানি
রাশিয়ার কাছ থেকে বিমান ধ্বংসকারী ক্ষেপণাস্ত্র কেনার পরিকল্পনা ছিল ভারতের৷ গত বছরের ডিসেম্বর মাসেই সেই অস্ত্র সম্ভার ভারতে পৌঁছে যাওয়ার কথা ছিল৷ কিন্তু তাতে ভারতের উপর নয়া নিষেধাজ্ঞা চাপাতে পারত মার্কিন প্রশাসন৷ যা আগেই তুরস্কের উপর কার্যকর করেছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার৷ পৃথিবীর অন্য দেশগুলি যাতে রুশ সমরাস্ত্র কিনতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই নিষেধাজ্ঞা৷ এবং সেই সময় ভারতকে এই আইনের আওতার বাইরে রাখার পক্ষপাতী ছিল না ওয়াশিংটন৷ মনে করা হচ্ছে, জো বাইডেনের আমলেও এই বিষয়টিতে কোনও রদবদল করা হবে না৷

ভারতের মাটিতে রুশ প্রযুক্তি ব্যবহার
তবে এই ইস্যুতে ভারত-মার্কিন টানাপোড়োনের মাঝেই ভারতের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন রুশ বিদেশমন্ত্রী। ভারতের বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকের পর রুশ বিদেশ মন্ত্রী সারগে লাভরোভ বলেন, 'আমরা আমাদের সামরিক-প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ফের শুরু করেছি৷ এ বিষয়ে আমাদের একটি আন্তঃসরকারি কমিশন রয়েছে৷ এই কমিশনের নির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে৷ ভারতের মাটিতে রুশ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সামরিক পরিকাঠামো গড়়ে তোলার বিষয়টিও পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে৷'

এস-৪০০ নিয়ে জটিলতা কাটবে কবে?
অন্যদিকে, ভারতের বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, এস-৪০০-র সরবরাহ নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা কাটাতে চলতি বছরের শেষে বৈঠকে বসবেন দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা৷ এছাড়াও, এদিনের বৈঠকে দুই দেশের কোভিড পরিস্থিতি এবং টিকাকরণে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানানো হয়৷ সূত্রের খবর, করোনা প্রতিরোধে রাশিয়ার তৈরি টিকা স্পুটনিক ভি-কে ভারতে ব্য়বহারের ছাড়পত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছে নয়াদিল্লি৷ কথা হয় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও৷












Click it and Unblock the Notifications