'এক বাবা, ৬০ সন্তান'! নবদ্বীপে গুরুই সবার পিতা, SIR-হতেই ফাঁস তথ্য, কীভাবে সম্ভব? শোরগোল বাংলায়
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন অর্থাৎ এসআইআর (SIR) নিয়ে রাজ্য জুড়ে ঘটে চলেছে নানারকমের ঘটনা। এই রকমই এসআইআর (SIR) নিয়ে হুলস্থুল পরে গিয়েছে নদিয়ার মায়াপুরে। নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় যদি নিজের নাম অথবা বাবা-মায়ের নাম না থাকে তাহলে সেই ভোটার কে ভুয়ো ভোটার হিসেবে ধরা হবে। তাই নিজের নাম অথবা বাবা-মায়ের নাম খুঁজছেন সকলেই। কিন্তু একসাথে ৬০ জন ভোটারের বাবার নাম যদি একই হয়? হ্যাঁ, ঠিক এই ঘটনায় ঘটেছে মায়াপুরের ইসকনের অনেক ভক্তের ক্ষেত্রে। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁদের বাবা-মায়ের নামের জায়গায় 'জয়পতাকা স্বামী দাস' নামটি লেখা রয়েছে। সম্পর্কের জায়গায় পিতা লেখা আছে। এটা নিয়েই শোরগোল পড়ে গিয়েছে নদিয়ার মায়াপুরে।

মায়াপুরের ইসকনের বহু ভক্তই ৭৭ নম্বর নবদ্বীপ বিধানসভা কেন্দ্রের ১০ নম্বর অংশে 'ঠাকুর ভক্তিবিনোদ নিম্ন বুনিয়াদি প্রাথমিক বিদ্যালয়' নামের বিদ্যালয়টিতে প্রত্যেকবার তাঁদের ভোটদান সম্পন্ন করেন। এই ভোটারদের মধ্যে ৬০ জন ভোটারের ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় পিতার নামের জায়গায় লেখা আছে জয়পতাকাস্বামী দাস। ৬০ জনেরই পিতাএকজন মানুষ কী করে হতে পারে এই নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। এখন ভোটার তালিকা সংশোধন হলে কী তাঁদের সকলেরই নাম বাদ যাবে ? এই প্রশ্ন নিয়েই উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন ইসকনের ওই সমস্ত ভক্তরা। ইসকনের রসিকগৌরাঙ্গ দাস নাম এক জনসংযোগ আধিকারিক জানিয়েছেন, এই সমস্যা নিয়ে যা কিছু করার নির্বাচন কমিশনই করবে। তিনি বলেন, '' আমি না জেনে কোনও মন্তব্য করব না। বুথ লেভেল অফিসার (BLO) এবং বুথ লেভেল এজেন্ট (BLA) বিষয়টি খতিয়ে দেখে এটি বলতে পারবেন।''
বিষয়টি একটু অস্বাভাবিক। ইসকনের একটি সূত্রের দাবি, সন্ন্যাস গ্রহণ করার পর অনেক ভক্তই তাঁদের সংসার ত্যাগ করেন। যাঁরা সংসার ত্যাগ করেন তাঁরা তাই গুরু মহারাজকে নিজেদের অভিভাবক হিসেবেই মানেন। তখন তাঁর পরিচয়পত্রগুলি গুরু পিতার নাম দিয়েই তৈরি হয়। এখানে ভুলের কিছুই নেই। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক অফিসের একটি সূত্র অনুসারে, একটি নির্দেশিকায় কমিশন 'পিতা' হিসেবে 'গুরু মহারাজ' এর নামই ধরা হবে বলে মেনে নেওয়ার কথা বলেছে।












Click it and Unblock the Notifications