করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে হাসপাতাল, স্বাস্থ্য কর্মী ও নার্সের অভাব রয়েছে ভারতে
করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে হাসপাতাল, স্বাস্থ্য কর্মী ও নার্সের অভাব রয়েছে ভারতে
ভারতে ছ’জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ দেখা গিয়েছে এবং সপ্তম জনকে নিশ্চিত করা বাকি রয়েছে। ভারতে সীমিত সংক্রমণ হয়েছে, যেখানে স্থানীয়দের থেকেই এই সংক্রমণ ছড়িয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানান, অন্য দেশ থেকে এই রোগ নিয়ে আসার পরই তা স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত হচ্ছে। দেশটি এমন সঙ্কটজনক অবস্থায় রয়েছে যেখানে যে কোনও সময় এই রোগটির প্রকোপ বাড়তে পারে, অথচ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য হাসপাতাল কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং ল্যাব ও সরকারি–বেসরকারি হাসপাতাল চিহ্নিত করার বিষয়টা খুবই গুরুতর।

করোনা ভাইরাস ছড়ানোর আগেই দরকার চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতি
দিল্লির এইমসের ডিরেক্টর ডাঃ রণদীপ গুলেরিয়া বলেন, ‘স্থানীয় সংক্রমণ হলে তা সনাক্ত করা, বাড়িতে আলাদা রাখা ও অন্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন রেখে চিকিৎসা করা সম্ভব। কারণ এটা যদি ছোট শহর ও গ্রামের এলাকা থেকে ছড়িয়ে পড়ে দেশীয় সংক্রমণে পরিণত হয় তবে তাকে রোধ করা খুব কঠিন বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। যেটা হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি ও এখন আমেরিকার ক্ষেত্রে।' তিনি আরও বলেন, ‘এটা ঘটার আগে হাসপাতাল চিহ্নিত করতে হবে এবং মেডিক্যাল কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। হাসপাতালের ওয়ার্ডকে বিচ্ছিন্ন আইসিইউতে পরিণত করতে হবে এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীর ৫ শতাংশ যাতে চিকিৎসা পায় তার জন্য পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশনের বন্দোবস্ত করা দরকার।'

কোভিড–১৯ রুখতে এখনও প্রস্তুত নয় ভারত
ভারতে, বিশেষ করে গ্রাম ও ঘনবসতিপূর্ণ রাজ্যগুলিতে চিকিৎসক, স্বাস্থ্য কর্মী ও হাসপাতালের শয্যার অভাব রয়েছে যে কারণে কোভিড-১৯ সংক্রমণ রুখতে এখনও প্রস্তুত নয় দেশ। ২০১৯ সালের জাতীয় স্বাস্থ্য প্রোফাইল অনুযায়ী গত বছর পর্যন্ত মেডিক্যাল কাউন্সিলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন দেশের ১.১ মিলিয়ন অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসক। গত বছর লোকসভাতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অশ্বিনী কুমার চৌবে বলেন, ‘৮০ শতাংশ উপস্থিতি অনুমান করে ধরা হয় যে ৯.২৬ লক্ষ চিকিৎসক সক্রিয় পরিষেবা দেওয়ার জন্য উপলব্ধ থাকবেন।' কিন্তু এই উপস্থিতির হার সর্বদাই নিম্নগামী হয়, কারণ অনেকেই অবসর নেন, অনেক চিকিৎসকই হাসপাতালের প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যান, আবার অনেকসময় অন্যরা তাদের নাম নিবন্ধন না করেই বিদেশে চলে যান। দেশের জনসংখ্যা যেখানে ১.৩৬ বিলিয়ন, সেখানে চিকিৎসক-জনসংখ্যার অনুপাত ১:১,৪৫৭, হু-এর ১:১,০০ প্রস্তাবিত নিয়ম অনুসারে তা অনেক কম।

চিকিৎসক–নার্সের অভাব
গ্রামের মানুষদের পুরোপুরি নির্ভর থাকতে হয় সরকারি হাসপাতাল ও সেবাকেন্দ্রের ওপর। জাতীয় স্বাস্থ্য প্রোফাইল ২০১৯ অনুযায়ী সরকারি অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসক-রোগীর অনুপাত ১:১০,৯২৬। চিকিৎসকের পাশাপাশি খামতি রয়েছে নার্সেও। এই দেশে ২ মিলিয়ন (২,০৪৮,৯৭৯) নথিভুক্ত নার্স ও ধাত্রী রয়েছে। যাঁদের মধ্যে অধিকাংশরই প্রয়োজন সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের প্রশিক্ষণ, যাতে তাঁরা সংক্রমিত রোগীর যত্ন করতে পারেন। কর্নাটকের মণিপাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজির ডিরেক্টর ডাঃ জি অরুণকুমার বলেন, ‘আমার উদ্বেগ হল বড় ধরনের মামলাগুলি, যার মধ্যে প্রায় ২০% হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন রয়েছে এবং প্রায় ৫% গুরুতর নিউমোনিয়া হবে যার জন্য আইসিইউয়ের সমর্থন প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে এটাই চ্যালেঞ্জ হবে যে স্বাস্থ্যকর্মীদের যাতে কোভিড-১৯ সংক্রমণ না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা, যেমনটা হয়েছিল চিন এবং কানাডাতে, সার্স প্রকোপের সময়।'












Click it and Unblock the Notifications