পাঁচদিনে মধ্যপ্রদেশে করোনা আক্রান্তের হার ১১৬% বেড়েছে
করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিনই ভারতে বেড়ে চলেছে। ৩৬টির মধ্যে ৩৩টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এখনও পর্যন্ত কোভিড–১৯–এর রিপোর্ট দিয়েছে। যদিও কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে এটা জানানো হয়েছে যে এখনও ভারতে গোষ্ঠী সংক্রমণ হয়নি তাও এ দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজারের কাছাকাছি। মৃত্যু হয়েছে ৪০০ জনেরও বেশি মানুষের এবং ১,৭৬৭ জন করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

মধ্যপ্রদেশ তিন নম্বরে রয়েছে
অতীতের কিছু সপ্তাহ ভারতে কোভিড-১৯ কেসের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। মহারাষ্ট্র, দিল্লি, তামিলনাড়ু ও মধ্যপ্রদেশ হটস্পট হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। ১৭ এপ্রিল মধ্যপ্রদেশ তামিলনাড়ুকে পেরিয়ে করোনা ভাইরাস আক্রান্তের হার হিসাবে তৃতীয় রাজ্য হিসাবে উঠে এসেছে। কারণ পাঁচদিনের মধ্যে মধ্যপ্রদেশে করোনা আক্রান্তের হার ১১৬% বেড়ে গিয়েছে। করোনা ভাইরাস মহামারির সঙ্গে নিঃসন্দেহে ভারত তার সবচেয়ে খারাপ স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে লড়াই করছে যেখানে প্রত্যেকদিনই ১০টি করে নতুন কেস সামনে আসছে। দেশের স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থার কথা ভেবেই কেন্দ্র সরকার লকডাউনের মেয়াদ বাড়িয়ে ৩ মে করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ২৫ মার্চ থেকে লকডাউন চলছে ভারতে।

ভারতে দ্রুত বেড়েছে করোনা কেস
ভারতে কিভাবে নোভেল করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে সেদিকে একটু নজর দিলে বোঝা যাবে গোটা চিত্রটি। ১০ মার্চ ভারতে ৫০ টি কেস ধরা পড়ে, এরপর ২০ মার্চ তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৯৬টি, ২৫ মার্চের মধ্যে তা ৬০৬টি কেসে পরিণত হয়। আর ৩১ মার্চের মধ্যে তা নিশ্চিত ১,৩৯৭টি কেসে গিয়ে দাঁড়ায়। ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত ভারতে নিশ্চিত কোভিড-১৯-এর কেসের সংখ্যা কমপক্ষে ১৩,৮৩৫জন। এই স্বাস্থ্যের জরুরি অবস্থা দেশের স্বাস্থ্যসেবা পদ্ধতির ওপর বিশাল চাপ ফেলেছে এবং অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল মানিটারি ফান্ডের অনুমান, ২০২০-২১ আর্থিক বছরে ভারতের জিডিপির ১.৯ শতাংশ পতন হবে, অন্যদিকে বিশ্ব অর্থনীতির হালও খারাপের দিকে, মনে করা হচ্ছে ৯ ত্রিলিয়ন ডলার লোকসান হবে।

দেশজুড়ে করোনা ভাইরাসের চিত্র
ভারতে ভৌগোলিকভাবে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ লক্ষ্য করলে দেখা যাবে সম্প্রতি মেঘালয়ে কোভিড-১৯-এর কেস ধরা পড়েছে এবং দেশের মধ্যে ৩৩টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে করোনা সংক্রমিত হয়েছে। ভারতে প্রথম কোভিড-১৯ কেস ধরা পড়ে ৩০ জানুয়ারি কেরলের ত্রিশুর জেলায়। করোনা আক্রান্ত ওই পড়ুয়া চিনের উহানে পড়াশোনা করতে গিয়েছিলেন, তিনি চিনের নতুন বছরের লুনার উৎসবের ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন। চারদিনের মাথায় কেরলে আরও দু'টি কেস ধরা পড়ে, একটি কাসারাগোদে ও অন্যটি আলাপ্পুঝা জেলায়। এই দুই আক্রান্ত চিনে পড়াশোনা করতেন বলে জানা গিয়েছে। ৩ ফেব্রুয়ারি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে রাজ্যজুড়ে জরুরি অবস্থার ঘোষণা করা হয়।
এই তিনটি কেস কেরলে ধরা পড়ার পর তাঁদের সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে আইসোলেশনে ভর্তি করে দেওয়া হয়। এই তিনজনের সংস্পর্শে আসা ৩,৪০০ জন মানুষকে কোয়ারান্টাইনে রাখা হয় এবং তাঁদের মধ্যে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত উপসর্গ দেখা যাচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা হয়। কিছুদিন পর ওই তিন করোনা রোগী সুস্থের পর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান।
বর্তমানে ভারতে মহারাষ্ট্র, দিল্লি ও তামিলনাড়ু হটস্পট হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। মহারাষ্ট্রে একা ২৩.১৬ শতাংশ করোনা কেস সনাক্ত হয়েছে, অন্যদিকে দিল্লি ও মধ্যপ্রদেশ মিলিয়ে ৪৪.৪৭ শতাংশ কোভিড-১৯ কেস।

ভারতে কিভাবে ছড়ালো কোভিড–১৯
যেমনটা আগেই জানিয়েছি যে এ বছরের ৩০ জানুয়ারি কেরলের ত্রিশুর জেলায় প্রথম করোনা আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া যায় ও ৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সংখ্যাটা তিনে গিয়ে দাঁড়ায়। এর একমাস ভারতে কোনও নতুন কেস দেখা দেয়নি। তবে ২ মার্চ দু'টি পজিটিভ কেস ধরা পড়ে, একটি দিল্লি ও অপরটি হায়দরাবাদ থেকে। উভয় রোগী করোনা আক্রান্তে দেশে সফর করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। ১৮ মার্চ অর্থাৎ মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে এই করোনা ভাইরাসের প্রকোপ ভারতে বাড়তে শুরু করে।

শেষ পাঁচদিনে কি পরিবর্তন হয়েছে
সাধারণ সময়ে, পাঁচ দিন একটি জাতির জীবনে খুব দীর্ঘ সময় হতে পারে না, তবে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া মহামারি চলাকালীন, পাঁচদিনের সময়টি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় ২৯ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত ভারতে কোভিড-১৯-এর কেস বেড়েছে ১,০২৪ থেকে ২,০৬৯ পর্যন্ত। অর্থাৎ এই পাঁচদিনে ভারতে কোভিড-১৯ কেস দ্বিগুণ হয়েছে।

মানুষ সুস্থ হয়ে উঠছে
যেখানে ভারতে কোভিড-১৯ কেস বেড়ে চলেছে ও নতুন আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে, সেখানে কিছু ইতিবাচক খবরও পাওয়া যাচ্ছে। অনেক রোগীই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আইসোলেশনে ছিলেন তাঁরা সুস্থ হয়ে উঠেছেন এবং তাঁদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ভারতে আরও বেশিজন করে রোগী এই করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার খবর মিলছে। ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ১,৭৬৭ জন কোভিড-১৯ রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন।












Click it and Unblock the Notifications