হিজাব বিতর্ক ? শিবামোগায় খুন বজরং দলের কর্মী, জারি ১৪৪ ধারা
১৪৪ ধারা জারি করা হল কর্ণাটকের শিবামোগা জেলায়। রবিবার রাতে ২৩ বছর বয়সী বজরং দলের কর্মী খুন হওয়ার পর এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সেখানে। এরপর তাকে ম্যাক গান জেলা হাসপাতালে নিয়ে হলে সেখানেই সে মারা যান। অনেকে এটা হিজাব কাণ্ডের ফল বললেও কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগা জ্ঞানেন্দ্র বলেছেন যে বিষয়টি রাজ্যের হিজাব বিতর্কের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি বলেছেন, "তবে কোনো7 সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে আমাদের আরও তদন্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।"

আরাগা জ্ঞানেন্দ্র শিবমোগায় মৃত ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গেও কথা বলেছেন, যিনি একজন দর্জি ছিলেন। রবিবার রাত সাড়ে ৯টায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পুলিশ কিছু ক্লু বের করেছে। জানিয়েছে, 'আমরা খুব শীঘ্রই দোষীকে গ্রেফতার করব," আরাগা জ্ঞানেন্দ্র জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বলেছেন "আমরা এখনও খুনের পিছনে কোনও উদ্দেশ্য খুঁজে পাইনি। শিবামোগায় রিজার্ভ পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে,"।
হত্যাকাণ্ডের তদন্তে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে এবং দ্রুত অ্যাকশন ফোর্সের সদস্যদের মোতায়েন করা হচ্ছে। সোমবার কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী বাসভরাজ বোমাই তদন্তের স্ট্যাটাস আপডেট নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে কথা বলেছেন। সূত্রের খবর, জ্ঞানেন্দ্র মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, যুবকের খুনের সঙ্গে ৪-৫ জন জড়িত থাকতে পারে।
দিন দুয়েক আগে হিজাব বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে সুর চড়ানোয় কর্ণাটকের শিবামোগা জেলায় প্রতিবাদকারী ৫৮ জন পড়ুয়াকে বরখাস্ত করা হয়। তাদের এই প্ৰতিবাদের কিছু প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পরেই তাদেরকে বরখাস্ত করা হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, ছাত্ররা ক্লাসরুমের ভিতরে হিজাব পড়ার অনুমতি দেওয়ার দাবিতে প্রতিবাদ করেছিল। শিক্ষার্থীরা বলে, 'হিজাব আমাদের অধিকার, আমরা মরে যাব কিন্তু হিজাব ছাড়ব না।' এদিকে শিবামোগা ডিসিও এই ধরনের কোনও প্রতিবেদন অস্বীকার করেছেন, বলেছেন অধ্যক্ষ কাউকে বরখাস্তও করেননি।
ইতিমধ্যে, অন্যান্য বিক্ষোভকারীদেরও সিআরপিসির ১৪৪ ধারার অধীনে নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ লঙ্ঘনের জন্য মামলা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার, সিআরপিসির ১৪৪ ধারার অধীনে শিবমোগা জেলা কর্তৃপক্ষের জারি করা নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ লঙ্ঘনের জন্য নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। ক্যাম্পাসে মুসলিম মেয়েদের বোরখা পরতে না দেওয়ায় তারা জেলা সদর শহরে পিইউ কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখায়।
এই ঘটনায় আবার তুমাকুরুর একটি বেসরকারি প্রাক-বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের এক অতিথি অধ্যাপককেহিজাব পরা বা কোনো ধর্মীয় প্রতীক প্রদর্শন না করার জন্য বলা হয়েছিল। এরপরেই তিনি পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এ ধরনের কোনও ঘটনা ঘটেনি।
চান্দিনী, যিনি একটি বেসরকারি কলেজে গেস্ট লেকচারার হিসেবে কাজ করছেন, গত তিন বছর ধরে ইংরেজি পড়াচ্ছেন, তিনি বলেন অধ্যক্ষ তাকে ডেকে পাঠান এবং বলেন যে তারা আদেশ পেয়েছেন যে কেউ হিজাব পরা বা কোনও ধর্মীয় পরিচয় প্রদর্শন করে ক্লাস করবেন না। এদিকে কর্ণাটক সরকার হাইকোর্টে বলেছে যে হিজাব ইসলামের একটি অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন নয় এবং এর ব্যবহার রোধ করা ভারতীয় সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন করে না।












Click it and Unblock the Notifications