Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাব, বিকল্প উৎসে তেল খুঁজতে সক্রিয় ভারত

পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক তেল বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানির জোগান নিশ্চিত রাখতে বিকল্প উৎসের দিকে নজর ঘোরাতে শুরু করেছে ভারত। তেল সরবরাহে সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কা মাথায় রেখে আমেরিকা, রাশিয়া ও পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে ভারতীয় তৈল শোধনাগারগুলি।

তেল ক্ষেত্রের আধিকারিকদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে। সেই কারণেই আগাম প্রস্তুতি হিসেবে বিকল্প পথ খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। সাধারণত দেশের শোধনাগারগুলিতে অপরিশোধিত তেল থেকে পেট্রোল ও ডিজেল তৈরি করা হয়। রক্ষণাবেক্ষণের কারণে কিছু শোধনাগার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। এখন মূল লক্ষ্য জ্বালানি উৎপাদন অব্যাহত রাখা।

ভারতের মোট তেল চাহিদার প্রায় ৮৮ শতাংশই আমদানিনির্ভর। গত ফেব্রুয়ারিতে যে পরিমাণ তেল আমদানি করা হয়েছে, তার প্রায় অর্ধেকই এসেছে হরমুজ প্রণালী দিয়ে। কিন্তু গত সপ্তাহ থেকে সেই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তেহরান হুঁশিয়ারি দেয়, ওই পথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করলে তা ধ্বংস করা হবে। ইতিমধ্যেই এমন ঘটনার নজিরও দেখা গেছে। ফলে হরমুজ প্রণালী হয়ে ভারতে তেল আসা আপাতত বন্ধ।

তবে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলেও অন্য সমুদ্রপথে তেল আমদানি এখনও চালু রয়েছে। সংঘাতের প্রভাব পড়েনি এমন অঞ্চলগুলি থেকে বেশি পরিমাণে তেল কেনার চেষ্টা করছে ভারত। ২০২৫ সালে দেশের মোট আমদানিকৃত তেলের প্রায় ৬০ শতাংশই এসেছিল পশ্চিম এশিয়ার বাইরের দেশগুলি থেকে যেমন রাশিয়া, পশ্চিম আফ্রিকা, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চল। সাম্প্রতিক সংঘাতের পর সেই প্রবণতা আরও বেড়েছে। গত সপ্তাহে আমদানিকৃত তেলের প্রায় ৭০ শতাংশই এসেছে এই সব বিকল্প উৎস থেকে।

এদিকে বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতকে এক মাসের জন্য রাশিয়া থেকে তেল আমদানির অনুমতি দিয়েছে আমেরিকা। তবে শর্ত রয়েছে ৫ মার্চের আগে জাহাজে তোলা তেলই কেবল কেনা যাবে ও এই ছাড় থাকবে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত। বর্তমানে রাশিয়ার প্রায় ১২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল সমুদ্রে ভাসমান ট্যাঙ্কারে রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি জাহাজ ভারতের কাছাকাছি আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, যেখানে প্রায় ১ কোটি ৫০ লক্ষ ব্যারেল তেল রয়েছে। এছাড়া সিঙ্গাপুরের কাছেও প্রায় ৭০ লক্ষ ব্যারেল রুশ তেল মজুত রয়েছে বলে জানা গেছে।

গত বছর রাশিয়ার কয়েকটি তেল সংস্থার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার পরে ভারতের কিছু সংস্থা রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমিয়ে দিয়েছিল। তবে পরিস্থিতি বদলাতে আবারও সেই আমদানি শুরু হয়েছে বলে খবর। তেল মন্ত্রকের সূত্র জানিয়েছে, ভারত পুরোপুরি রাশিয়ার তেল আমদানি বন্ধ করেনি, শুধু কিছুটা কমিয়েছে।

এদিকে দেশের জ্বালানি ভান্ডার নিয়েও আশ্বস্ত করেছেন আধিকারিকরা। বর্তমানে ভারতের কাছে প্রায় ১৪ কোটি ৪০ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে, যা দিয়ে প্রায় ২৫ দিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। পাশাপাশি দেশে মোট ৬৪.৫ দিনের অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য সংরক্ষণের সক্ষমতা রয়েছে। প্রায় ৭৪ দিনের জ্বালানি মজুত রাখার সামর্থ্য রয়েছে ভারতের।

তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে ইতিমধ্যেই বড়সড় উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারির আগে যেখানে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল প্রায় ৭০ মার্কিন ডলার, সংঘাতের পর তা বেড়ে হয়েছে ৯২ ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৮,৪০০ টাকার কাছাকাছি। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যার প্রভাব পড়তে পারে দেশের সাধারণ মানুষের উপরও।

বিশ্বে তেল আমদানির নিরিখে ভারত তৃতীয় স্থানে। ফলে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সামান্য পরিবর্তনও দেশের জ্বালানি অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাই আগাম পরিকল্পনা ও বিকল্প উৎসের সন্ধানই এই মুহূর্তে ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় কৌশল।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+