ভারতে একবছরে বায়ুদূষণ প্রাণ কেড়েছে ১৭ লক্ষ মানুষের, নতুন রিপোর্টে চাঞ্চল্য

ভারতের জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে বায়ুদূষণ। ল্যানসেট কাউন্টডাউন অন হেলথ অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ-এর এক নতুন বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২২ সালে বায়ুদূষণের কারণে ভারতে প্রায় ১৭.২ লক্ষ মানুষের অকালমৃত্যু হয়েছে। ২০১০ সালের তুলনায় এই সংখ্যা ৩৮ শতাংশ বেশি, যা দেশের ক্রমবর্ধমান বায়ু সংকটের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে।

এই গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণের অর্থনৈতিক প্রভাবও যথেষ্ট উদ্বেগের। অকালমৃত্যুর কারণে দেশের অর্থনীতিতে প্রায় ৩৩৯.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতি হয়েছে, যা ভারতের জিডিপির প্রায় ৯.৫ শতাংশের সমান। ৭১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং জাতিসংঘের ১২৮ জন বিশেষজ্ঞের এই গবেষণা দল সতর্ক করে জানিয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির উপর বিশ্বব্যাপী কাঠামোগত নির্ভরতা এবং অপর্যাপ্ত পরিবেশগত প্রস্তুতিই এই সংকটের প্রধান কারণ।

জীবাশ্ম জ্বালানি নির্গমন এই PM2.5 সংকটের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, কয়লা, পেট্রোল এবং পেট্রোল থেকে নির্গত ধোঁয়া প্রায় ৪৪% মৃত্যুর জন্য দায়ী, যা ৭.৫২ লক্ষ মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে। এর মধ্যে কয়লা পোড়ানোর কারণে প্রায় ৩.৯৪ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে ২.৯৮ লক্ষ মৃত্যু কয়লা-ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে হয়েছে। এছাড়াও, সড়ক পরিবহণে পেট্রোলের ব্যবহার ২.৬৯ লক্ষ মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়েছে।

এই গবেষণায় আরও কয়েকটি উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। গ্রামীণ অঞ্চলে কঠিন জৈব-জ্বালানি-ভিত্তিক গৃহস্থালি বায়ুদূষণকে প্রধান অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতি ১ লক্ষ মানুষের মধ্যে যেখানে গ্রামীণ এলাকায় ১১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, সেখানে শহুরে এলাকায় এই সংখ্যা ছিল ৯৯ জন। তবে, কিছু গ্রামীণ অঞ্চলে এই সংখ্যা আরও বেশি, প্রতি ১ লক্ষ জনে ১২৫ জন।

২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দাবানলের কারণে প্রতি বছর গড়ে ১০,২০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যা আগের দশকের তুলনায় ২৮% বেশি। সড়ক পরিবহণে পেট্রোলের ব্যবহারের ফলে প্রায় ২.৬৯ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যা পরিবহণ নির্গমনের প্রধান কারণ। এই তথ্যগুলি COP30 বৈশ্বিক জলবায়ু বৈঠকের আগে প্রকাশ করা হয়েছে, যা শক্তি নীতি, স্বাস্থ্য এবং বায়ুদূষণের মধ্যে গভীর সম্পর্ককে তুলে ধরে।

গবেষকদের মতে, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা "মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য এবং জীবিকার ওপর প্রভাব ফেলছে।" তারা আরও জানিয়েছেন, নিম্ন-কার্বন পরিবর্তনে ভারতের প্রস্তুতি ২০২৩ সালের তুলনায় ২ শতাংশ কমেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ন্যাশনাল ক্লিন এয়ার প্রোগ্রাম (NCAP) বাস্তবায়নে কঠিন চ্যালেঞ্জের কারণে PM2.5 এবং PM10 এর মাত্রা কমানোর ক্ষেত্রে খুব কম অগ্রগতি হয়েছে। ভারতের উত্তর দিকের বেশিরভাগ শহরে এখনও বিশ্বের সর্বোচ্চ PM2.5 ঘনত্বের মাত্রা দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেছেন, বায়ুদূষণ কমাতে ভারতকে কয়লা ও তরল জ্বালানি-নির্ভর শক্তি কাঠামো পরিবর্তন করতে হবে। এছাড়াও, পুরনো দূষণকারী জ্বালানির অভ্যন্তরীণ ব্যবহার বন্ধ করে পরিবহণ ক্ষেত্রকে পরিচ্ছন্ন শক্তিতে রূপান্তরিত করতে হবে এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির উৎসগুলির ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি করতে হবে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+