ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও কমল! ২০২২-এর পূর্বাভাস কী জানাল আইএমএফ
ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে আশঙ্কার বার্তা দিল আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ। তারা ২০২২-এর পূর্বাভাসে আরও কমিয়ে দিল ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি।
ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে আশঙ্কার বার্তা দিল আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ। তারা ২০২২-এর পূর্বাভাসে আরও কমিয়ে দিল ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। আইএমএফ জুলাই মাসে এপ্রিলে শুরু হওয়া অর্থবছরে ভারতের জন্য ৭.৪ শতাংশ গ্রস ডোমেস্টিক প্রোডাক্ট বা জিডিপি বৃদ্ধির অনুমান করেছিল। তা আরও কমিয়ে দিল বর্তমান পূর্বাভাসে।

২০২২ সালের জানুয়ারিতে আইএমএফ ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৮.২ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাসে জানিয়েছিল। তা থেকে কমে গিয়েছিল জুলাই মাসের পূর্বাভাসে। আবার অক্টোবরের পূর্বাভাস তা কমে ৬.৮ শতাংশে দাঁড়াল। শুধু আইএমএফই নয়, অন্যান্য বৈশ্বিক সংস্থাগুলিও পূর্বাভাসে জি়ডিপি কমিয়ে দিয়েছে।য়
২০২১-২২ অর্থ বছরে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৮.৭ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল। মঙ্গলবার প্রকাশিত বার্ষিক ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক রিপোর্টে আইএমএফ জানিয়েছে ২০২২-এ ভারতের প্রবৃদ্ধি ৬.৮ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে। এই হার জুলাইয়ের পূর্বাভাসের থেকে ০.৬ শতাংশ কম। দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে প্রত্যাশিতের থেকে দুর্বল ফলাফল প্রতিফলিত করছে।
বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২০২১ সালের ৬.০ শতাংশ থেকে ২০২২ সালে ৩.২ শতাংশ এবং ২০২৩ সালে ২.৭ শতাংশে নেমে যাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাপী আর্থিক সংকট এবং করোনার মহামারীর কারণে বিশ্ব প্রবৃদ্ধির হাল এত খারাপ। ২০০১ সালের পর থেকে এত দুর্বল বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যায়নি।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কোপে পড়েছে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিক দেশগুলিও। ২০২২ সালের প্রথমার্ধে মার্কিন জিডিপি সংকোচন ২০২২ সালের দ্বিতীয়ার্ধে ইউরো এলাকার সংকোচন এবং চিনে ক্রমবর্ধমান সম্পত্তি সেক্টরের সংকটের সঙ্গে দীর্ঘায়িত কোভিড ১৯ প্রাদুর্ভাব এবং লকডাউন সম্পৃক্ত রয়েছে। বিশ্বের অর্থনীতি বিরাট চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে।
ইউক্রেনে রুশ সেনার আক্রমণ ক্রমাগত চাপ বাড়াচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। মুদ্রাস্ফীতি হচ্ছে, জীবনযাত্রা ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে, চিনে মন্দা চলছে। আইএমএফের গবেষণায় উঠে এসেছে এইসব কারণ। বিশ্ব অর্থনীতির এক তৃতীয়াংশের বেশি ২০২৩ সালে সংকুচিত হবে। যখন তিনটি বৃহত্তম অর্থনীতি- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং চিন স্থবির হতে থাকবে, তখন বিশ্বে সংকট তৈরি হবে।
আবার পূর্বাভাসে এমনটাও বলা হয়েছে যে, সবথেকে খারাপ সময় এখনও আসেনি। ২০২৩ সালে বিশ্ব মন্দা তৈরি হবে। উল্লেখ্য, চিনের বৃদ্ধির হার বর্তমান ৩.২ শতাংশ, যা ২০২১ সালে ৮.১ শতাংশ বৃদ্ধির থেকে অনেক কম। ২০২২ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে করোনার প্রকোপ ও ঘন ঘন লকডাউনের প্রভাব অর্থনীতিতে পড়েছে।












Click it and Unblock the Notifications