সুপ্রিম নির্দেশে ভাঙা পড়তে চলেছে কোটি টাকার টুইন টাওয়ার, প্রশ্নের মুখে প্রশাসনের ভূমিকা
বেআইনি নির্মাণ, নয়ডায় সুপারটেকের টুইন টাওয়ার ভাঙার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা রিয়েল এস্টেট কোম্পানি সুপারটেক। নয়ডায় পান্না আদালতের কাছে থাকা টুইন টাওয়ারগুলি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এর আগে এলাহাবাদ হাইকোর্টও রিয়েল এস্টেট কোম্পানি সুপারটেকের এই টাওয়ারগুলি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে। এবারই সেই রায়ে সম্মতি জানিয়েই নিজেদের সিদ্ধান্ত জানালেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা।

কী নির্দেশ দিল সুপ্রিম
এদিকে এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল সুপারটেক। এবার সেথনেও খেল বড় ধাক্কা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ভাঙা পড়তে চলেছে নয়ডার কোটি টাকা মুল্যের টুইন আবাসন। আগামি ৩ মাসের মধ্যে এই নির্মীয়মাণ বহুতল ভাঙতে নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। এদিকে যে সমস্ত গ্রাহকেরা ফ্ল্যাট বুকিং বাবদ সুপারটেক কতৃপক্ষকে টাকা দিয়েছে, তাদেরকেও ১২% সুদ সমতে টাকা ফেরতের দেন বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়।

প্রশ্নের মুখে নয়ডা প্রশাসন
এ ছাড়া, আবাসিক কল্যাণ সমিতিকে অর্থ প্রদানেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের তরফে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, নয়ডার এমারেল্ড কোর্ট প্রজেক্ট এলাকায় এই বহুতল সুপারটেক বিল্ডিং নামে পরিচিত। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে এমারাল্ড কোর্ট এলাকায় এই বহুতল তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়নি। প্রশ্নের মুখে পড়েছে নয়ডা প্রশাসনের ভূমিকা। অভিযোগ নয়ডার প্রশাসনের সঙ্গে যোগসাজশ করে সুপারটেক সংস্থা এই বহুতল নির্মাণ করা হয়েছে, যা বৈআইনি।

মূল সমস্যা কোথায়
পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট এও জানাচ্ছে পান্না আদালত টাওয়ারের জন্য সমস্ত অগ্নি নিরাপত্তা নিয়ম এবং উত্তরপ্রদেশের অ্যাপার্টমেন্ট আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে। ৪০ তলার এই বহুতলে ৯১৫টি ফ্ল্যাট এবং দোকানঘর থাকার কথা ছিল। কিন্তু নির্মানের বহু ক্ষেত্রেই লঙ্ঘিত হয়েছে সরকারি নিয়ম। এদিকে চলতি বছরেই এই নির্মাণের বিরোধিতা করে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। তারপরেই এই বহুতল ভাঙার নির্দেশ দিয়েছিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট।

অভিযোগ আসছিল দীর্ঘদিন থেকেই
অন্যদিকে মানচিত্র অনুসারে, এই নির্মাণটি এলাকার উন্মুক্ত এলাকায় করা হয়েছে। এদিকে ওখানেই রয়েছে পার্ক। ফলে খোলা বাতাস চলাচলের জায়গা সম্পূর্ণ রূপে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি এই বিশাল নির্মাণের কারণে, পার্শ্ববর্তী ভবনগুলির মধ্যে দূরত্ব অনেক কমে গেছে। ইতিমধ্যে সেখানে বসবাসকারী লোকেরাও আলো-বাতাস পেতে সমস্যা হতে শুরু করেছে বলেও অভিযোগ করেছেন।












Click it and Unblock the Notifications