সরকার সাধারণ মানুষকে আলোচনার সুযোগ দিলে গরীবদের সমস্যা কমবে: অমর্ত্য সেন
সরকার সাধারণ মানুষকে আলোচনার সুযোগ দিলে গরীবদের সমস্য কমবে: অমর্ত্য
একটি জাতীয় বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মহামারি ও লকডাউনে গরীবদের সমস্যা সমাধানের পথ বললেন অর্মত্য সেন৷ ভারতের নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ বলেন সরকারের নীতি ও প্রকল্প নির্ধারণের আগে যত বেশি সাধারণকে আলোচনার সুযোগ দেওয়া হবে গরীব মানুষের তত বেশি লাভ হবে৷

এরপর নিজের লেখা বই 'হোম ইন দ্য ওয়ার্ল্ড'এ একটি লেখার প্রসঙ্গ টেনে অমর্ত্যবাবু বলেন, যুদ্ধের সময় ইংল্যান্ডে খাদ্য সমস্যা তৈরি হয়েছিল। একটা ধারণা তৈরি হয়েছিল ক্ষমতাশালী মানুষরা খাদ্যদ্রব্যের সম বন্টনের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারেন৷ গরীব মানুষদের স্বার্থ হয়ত সুরক্ষিত হবে না। এই সচেতনতা থেকে সাধারণের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে সরকার এবং দেশের মোট খাদ্যদ্রব্য গরীব, মধ্যবিত্ত, উচ্চবিত্তদের মধ্যে সঠিকভাবে বন্টন করা সম্ভব হয়। খাদ্যদ্রব্যের দাম শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করে সরকার৷ এর ফলে গরীবরাও খাবার কিনে খেতে পেরেছিলেন যুদ্ধের সময়। এবং সরকারের এই 'প্রকাশ্য আলোচনার' মাধ্যমে নেওয়া পরিকল্পনাগুলো আজ ইংল্যান্ডকে একটি 'ওয়েলফেয়ার স্টেটে' পরিনত করেছে৷
এরপরই মোদী সরকারকে একহাত নিয়ে অমর্ত্য বলেন, এখানে ঠিক উল্টোটা হয়৷ সরকার নাকারও কথা শুনতে চান৷ না সাধারণকে বলা ও আলোচনার সুযোগ দেওয়া হয় কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে৷ করোনার প্রথম ঢেউএ হঠাৎ করে লকডাউন ঘোষণা করা হল। তার সঙ্গে বন্ধ করা হল পরিবহন মাধ্যমগুলি। পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য কোনওরকম ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করল না সরকার। না খেয়ে, কয়েক'শ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হলেন পরিযায়ী শ্রমিকরা৷
মিস্টার সেন আরও বলেন, লকডাউন ও করোনা মহামারিতে যে বড় সংখ্যায় গরীব মানুষ কাজ হারিয়েছেন তাদের জন্য আগাম কোনও ব্যবস্থা তো নেওয়া হয়নি। পরেও তাদের পুনর্বাসনের সেরকম কোনও পরিকল্পনা গ্রহণ করেনি সরকার৷ সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিলে, সাধারণ মানুষকে আলোচনার সুযোগ দিলো এই সমস্যাগুলো তৈরি হয় না।












Click it and Unblock the Notifications