করোনা পরিস্থিতিতে প্রাইমারি স্কুল খোলার বিষয়ে কোন পন্থার কথা জানাল আইসিএমআর
করোনা পরিস্থিতির মাঝে একাধিক ইস্যুতে ববুবিধ বিধি লাগু করা হয়েছে দেশে। ২০২০ সালে ভয়াবহ করোনার দাপট দেশে আছড়ে পড়তেই স্কুল কলেজ বন্ধ করা নিয়ে নানান বিধি লাগু হয়। এরপর দেশে আসে করোনার দ্বিতীয় স্রোত। এই পরিস্থিতিতে প্রাইমারি স্কুলের দরজা খোলার কথা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন অনেকেই। এদিকে, এদিন ইন্ডিয়াব কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ জানিয়েছে , প্রাইমারি স্কুল খোলা যেতে পারে কয়েকটি পন্থা মেনে। একটি গবেষণা ধর্মী বক্তব্যে এবিষয়ে বেশ কয়েকটি পন্থার কথা জানিয়েছে আইসিএমআর।

আইসিএমআর এর মতে, রুটিন তাপমাত্রা পরীক্ষা না করে, করোনা টেস্টের মাধ্যমেই শিশুদের জন্য প্রাইমারি স্কুলের দরজা খোলা যেতে পারে। গত ১৮ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে প্রাইমারি স্কুলগুলি। সেক্ষেত্রে স্কুল খোলার বিষয়ে বিবেচনা প্রসঙ্গে গবেষণায় একাধিক বিষয় উঠে এসেছে। কোন কৌশল নিয়ে শিশুদের জন্য স্কুলের দরজা খুলে দেওয়া যায়, তা নিয়ে মূলত আলোকপাত করা হয়েছে এই ইস্যুতে। এই গবেষণাধর্মী বক্তব্যে বলা হচ্ছে , সংক্রমণ ক্লাস্টারের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা চেক আপ করা আর কোভিড টেস্ট এক জিনিস নয়। তবে বারবার স্ক্রিনিং এ সংক্রমণের ক্লাস্টারের মাত্র কমানো যায় বলে মনে করেন অনেকেই। তবে গবেষণার মত অনুযায়ী বারবার স্কুলের শিক্ষিকা, শিক্ষক সহ পড়ুয়াদের তাপমাত্রা মাপা থেকে অনেকাংশে ভালো বিষয় হল কোভিড টেস্ট করে নেওয়া। কোনও মতেই করোনার সংক্রমণ বাড়তে না দিয়ে কীভাবে স্কুল খোলা যায়, তা নিয়ে মূলত কোভিড টেস্টের উপরই জোর দিয়েছেন আইসিএমআর-এর বিশেষজ্ঞরা।
এই গবেষণাধর্মী লেখায় , আইসিএআর সাফ জানান দিয়েছে যে, স্কুল খোলা কেন আবশ্যিক। মনে করা হচ্ছে, যদি প্রাইমারি স্কুল খুলে দেওয়া হয়, তাহলে করোনা ছড়িয়ে পড়ার 'আর ভ্যালু' কিছুতেই বাড়বে না ১ এর উপর। উল্লেখ্য, কম বয়সি শিশুরা যেহেতু করোনায় কম আক্রান্ত হয়, তাই তাদের থেকে স্কুলে করোনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা অনেকটাই কম। এই রোগের প্রাদুর্ভাবে প্রাপ্ত বয়স্কদের তুলনায় শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। শিশুদের শরীরে অ্যানজিএটন্সিং কনভারটিং এনজাইম ২ থাকায় তারা সহজেই এই করোনার বিরুদ্ধে লড়াইতে শারীরিক ক্ষমততার দাপট ধরে রাখতে পারে। ফলে সেদিক থেকে সেভাবে সমস্যা থাকে না। দেখা গিয়েছে দেশে করোনার দ্বিতীয় স্রোতের আক্রমণের সময়ও শিশুরা বেশ বড়দের তুলনায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় এগিয়ে ছিল। তবে অনেক ক্ষেত্রেই সেরো সার্ভেতে শিশুদের উপসর্গহীনতাও একটি বড় ফ্যাক্টর হয়ে এসেছে। এদিকে, ইউনেসকোর মতে স্কুলের দরজা বন্ধ হওয়াতে বহু লক্ষ শিশুর পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে। বহু শিশু সঠিক শিক্ষা পাচ্ছে না স্কুলের দরজা বন্ধ হওয়াতে । দেখা যাচ্ছে গ্রামে মাত্র ৮ শতাংশ ও শহরে মাত্র ২৪ শতাংশ পড়ুয়া করোনা কালে স্কুল বন্ধ থাকায় সমস্যায় পড়ে গিয়েছে। তারা একটি শব্দও পড়তে পারছে না বলে জানানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্কুল খোলা আবশ্য়ক বলে মনে করেন অনেকেই । সেই জায়গা থেকে পন্থার কথা জানিয়েছে আইসিএমআর।












Click it and Unblock the Notifications