করোনার তৃতীয় স্রোতের সুপ্ত ইঙ্গিত কি মিলছে কয়েকটি রাজ্য থেকে! আইসিএমআর কী জানাচ্ছে
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ -এর তরফে সমীরণ পাণ্ডা এদিন দেশে আসন্ন করোনা সংক্রমণের ট্রেন্ড নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। এদিকে, কোভিডের দ্বিতীয় ওয়েভ সদ্য সমাপ্ত হয়েছে। তারপরই এবার তৃতীয় স্রোতের আশঙ্কা। এরই মাঝে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে কার্যত সচেতনতার বার্তা দিলেন আইসিএমআরএর বিশেষজ্ঞ সমীরণ পাণ্ডা। মিরর নাউ এর এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে একথা বলেন তিনি।

সমীরণ পাণ্ডার মতে, কোনও কোনও রাজ্যে করোনা পরিস্থিতি রীতিমতো প্রাথমিক চিহ্ন দেখাতে শুরু করেছে। ফলে মনে করা হচ্ছে করোনার তৃতীয় স্রোত এবার আসতে এখনও পর্যন্ত ২ থেকে ৩ মাস বাকি রয়েছে। তবে তাঁর দাবি তৃতীয় স্রোত দেশে সমস্ত জায়গায় ছড়িয়ে না পড়ে শুধুমাত্র একটি জায়গাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে। মনে করা হচ্ছে, যদি তৃতীয় স্রোত খুব ভয়াবহ আকারও ধারণ করে নেয়, তাহলেও তা করোনার দ্বিতীয় স্রোতের মতো মারণ সংহার রূপ নিয়ে অবতীর্ণ হবে না। তবে যদি উৎসবের আবহে সাধারণ মানুষ করোনা বিধি পালন না করেন, তাহলে সমস্যার পরিমাণ বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে করোনা বিধি পালন একান্ত কাম্য।
সমীরণ পাণ্ডা জানান, মিজোরাম ও কেরলে বাড়বাড়ন্ত করোনা আক্রমণের নেপথ্য়ে রয়েছে প্রবল পরিমাণে করোনা বিধি না পালন করার ঘটনা । তিনি বলছেন কেরলে বহু জনই করোনা বিধি পালন না করে দিনের পর দিন তা ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করেছেন। কারণ কেরলে বহু করোনা রোগীর সংস্পর্শে সাধারণ মানুষ এসেছে বলে খবর। যার ফলে করোনা পরিস্থিতি সেখানে ভয়াবহ হয়েছে। তবে , করোনা নিয়ন্ত্রণে যে কেরল রীতিমতো কার্যকরী বন্দোবস্ত নিয়েছে, তাও জানাতে ভোলেননি সমীরণ পাণ্ডা। একই সঙ্গে যেখানে দেশের করোনা পরিস্থিতিতে বিভিন্ন রাজ্যে স্কুল খোলা নিয়ে নানান ধরনের বক্তব্য উঠে আসছে, সেখানে সমীরণ পাণ্ডা বলছেন, দেশে স্কুল খোলার সাথে সাথে শিশুদের কোভিড বিধি পালন যেমন জরুরি , তেমনই শিক্ষকদের টিকাকরণ নিশ্চিত করা জরুরি। চিকিৎসক পাণ্ডা বলছেন, শিশুদের বা বালক বালিকাদের করোনার টিকা পরে দিলেও তা ঝুঁকি না নেওয়ার পথকে প্রশস্ত করবে। শিশুদের মধ্য়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৫ শতাংশ। দেখা যাচ্ছে, করোনার ফলে দেশের একটা বড় অংশের শিশুরা উপসর্গহীন থাকছে। সেই জায়গা থেকে সতর্কতা অবলম্বন একটি বড় পদক্ষেপ বলে দাবি চিকিৎসকদের।বহু রিপোর্চ জানিয়েছে, দ্বিতীয় ঢেউ খানিক স্তিমিত হলেও অক্টোবরেই আছড়ে পড়তে চলেছে করোনার তৃতীয় ঢেউ। বর্তমান পরিসংখ্যানেও ক্রমেই দৃঢ় হচ্ছে সেই আশঙ্কার বার্তা। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন অক্টোবর থেকে নভেম্বরের মধ্যে ভারতে শীর্ষে উঠতে পারে করোনার তৃতীয় ঢেউ। তবে যদি সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিদ্যমান ভাইরাসের চেয়ে বেশি ভাইরাল মিউট্যান্ট বেরিয়ে আসে তবে এর তীব্রতা বাড়তে পারে।












Click it and Unblock the Notifications