ভারতে ওমিক্রনে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অর্ধেকই সম্পূর্ণ টিকাপ্রাপ্ত, জানালেন ICMR
প্রায় অর্ধেক মানুষই করোনার ডবল ডোজপ্রাপ্ত
করোনা নিয়ে জেরবার দুনিয়া। তারপরে করোনার নয়া প্রজাতি ওমিক্রন যা নিয়ে বিশ্ব যেন তোলপাড়। ক্রমেই ভারতে ওমিক্রনের ভ্যারিয়েন্টের প্রায় ৩৫৮ টি কেস রিপোর্ট করা হয়েছে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (ICMR) এর মধ্যে ১৮৩ টির পরীক্ষায় দেখা গেছে যে প্রায় অর্ধেক মানুষই করোনার ডবল ডোজপ্রাপ্ত। এক-চতুর্থাংশেরও বেশি মানুষ করোনা আক্রান্ত হয়েছিল যারা বিদেশ থেকে আগত যাত্রী বা বিদেশে ভ্রমণের জন্য গেছিলেন। এছাড়াও লক্ষ্য করা গেছে যারা নিজেরা একেবারেই সচেতন ছিলেন না। এমন ব্যক্তিরা করোনা সংক্রমিত হয়েছেন বেশি। অনেকে আবার সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে এসে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। যদিও তাঁদের কারোরই গুরুতর লক্ষণ ছিল না, তাদের মধ্যে প্রায় ৭৩%কে 'অ্যাসিম্পটমেটিক' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬০% পুরুষ।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক সূত্রে কী জানালেন
শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ওমিক্রন বৈকল্পিকটি ১৭ টি রাজ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে, মহারাষ্ট্রে ৮৮ টি ক্ষেত্রে রিপোর্ট করা হয়েছে, তারপরে দিল্লি (৬৭), তেলেঙ্গানা (৩৮) এবং তামিলনাড়ু (৩৪)। ওমিক্রনে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে এক তৃতীয়াংশকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ভারতে ডেল্টা ভাইরাস খুব গুরুতর ভাইরাস হিসাবে বিবেচিত। কিন্তু ওমিক্রন এর থেকেও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

সচিব রাজেশ ভূষণ কী বললেন
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব রাজেশ ভূষণ বলেন, ভারত ক্রমাগত ওমিক্রন নানান রূপ দেখতে পাচ্ছেন। মঙ্গলবার তিনি সমস্ত রাজ্যের শীর্ষ কর্তৃপক্ষের কাছে একটি চিঠি লিখেছেন। সেখানে তাদের উদ্দেশ্যে বলেন রাতের কারফিউ জারি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যদি জেলাগুলির ১০% ইতিবাচকতার হার বা অক্সিজেন-সমর্থিত বা নিবিড় পরিচর্যা ইউনিট (আইসিইউ) বেড়ে যায় তবে কন্টেনমেন্ট জোন ঘোষণা করতে।

ভারতে কত বেড প্রস্তুত
পাশপাশি তিনি আরও উল্লেখ করে বলেন, প্রথম এবং দ্বিতীয় তরঙ্গের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে, ১৮ লক্ষ কোভিড বেড, ৪.৯ লক্ষ অক্সিজেন সাপোর্ট সহ শয্যা, ১.৩৯ লক্ষ আইসিইউ শয্যা, ২৪,০০০ পেডিয়াট্রিক আইসিইউ এবং ৬৪,৭৯৬ পেডিয়াট্রিক নন-আইসিইউ বিছানা প্রস্তুত ছিল।

সমীক্ষায় কী উঠে এল
দক্ষিণ আফ্রিকা ও অন্যান্য দেশে দেখা গেছে,প্রথম তরঙ্গে ভারতে ১৮,৮৩৬ টন অক্সিজেন সরবরাহ করতে সক্ষম। দ্বিতীয় তরঙ্গের সর্বোচ্চ সময়ে, ভারতের প্রয়োজন ছিল ১০,০০০ টন, যা প্রথম তরঙ্গের সর্বোচ্চ চাহিদা থেকে ১০ গুণ বেড়েছে। যা সমীক্ষায় দেখা গেছে।

ডঃ বলরাম ভার্গব কী বললেন
ডিকেল রিসার্চের মহাপরিচালক ডঃ বলরাম ভার্গব বলেন, ৮৯% ভারতীয় প্রাপ্তবয়স্কদের অন্তত একটি ডোজ এবং ৬০% সম্পূর্ণরূপে টিকা দেওয়া হয়েছে। উনিশটি রাজ্য তাদের জনসংখ্যার ৯০%-এর উপরে অন্তত একটি ডোজ দিয়েছিল, কিন্তু ১১টি রাজ্য ছিল যেগুলি টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় গড়ের থেকে কম ছিল।

ভ্যাকসিনোলজিস্টরা কী বার্তা দিচ্ছেন
ভারতীয় ভ্যাকসিনোলজিস্টরা এখনও বাচ্চাদের জন্য বুস্টার এবং টিকা দেওয়াকে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে মনে করছেন। বিভিন্ন ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা ও অ্যান্টিবডির মাত্রা কতটা স্থায়ী ছিল সে সম্পর্কে উপলব্ধ ডেটা খতিয়ে দেখছিলেন। ICMR এখনও ওমিক্রন স্ট্রেনকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ও সংক্রমিত বলে মনে করছে। ডেল্টার তুলনায় এটি বেশি সংক্রমিত বলে মনে করা হচ্ছে। এতে কীভাবে কোভ্যাক্সিন ও কোভিশিল্ড কাজ করছে তার ফলাফল শীঘ্রই পাওয়া যাবে।












Click it and Unblock the Notifications