ভোররাতে বিকট শব্দ, উড়ে গেল রেল ট্র্যাক, উদয়পুরে স্তব্ধ রেল পরিষেবা
ভোররাতে বিকট শব্দ, উড়ে গেল রেল ট্র্যাক, উদয়পুরে স্তব্ধ রেল পরিষেবা
জাওয়ার মাইন ব্রডগেজ রেল লাইনের উপর হল ভয়ংকর বিস্ফোরণ। রাজস্থানের উদয়পুর জেলায় ঘটেছে এই বিস্ফোরণ। শনিবার ভোর রাতে ঘটে ওই বিস্ফোরণ। ওই লাইন দিয়ে যাবার কথা ছিল অসারওয়া উদয়পুরের যে ট্রেনটির। সেখানেই ঘটে বিস্ফোরণ। ওই ট্রেন যাবার আগেই ঘটে বিস্ফোরণ। ফলে সেখানে রেল চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এই ঘটনাটির জন্য দুঙ্গারপুরে দীর্ঘক্ষণ দাড়িয়েছিল।

রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রীর টুইট
রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট টুইট করে লিখেছেন যে, স্টেশন হাউজ অফিসার স্থানীয় থানার , রেল ট্র্যাকের উপরে যে বিস্ফোরণ ঘটেছে। ওডা রেলব্রিজ ছিল ওখানে সেখানে ঘটেছে এই ঘটনা। এটি খুব ভয়ঙ্কর ঘটনা। পুলিশ ও রেল কর্তৃপক্ষ সেখানে গিয়েছে। ডিজি কি ঘটনা ঘটেছে তা দেখার জন্য তদন্ত করতে বলেছেন।

কি বলছেন অফিসার?
স্থানীয় থানার স্টেশন হাউজ অফিসার অনিল বিশ্নোই বলেন, শনিবার রাতে স্থানীয়রা এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনেন। ওডা রেলব্রিজের কাছে। তারা সকালে ওই এলাকায় গিয়ে দেখেন যে রেলের ট্র্যাক ফেটে গিয়েছে। ভেঙে গিয়েছে অনেক জায়গা। নাট বল্টু মিলছে না।
|
প্রাথমিক তদন্ত
প্রাথমিক তদন্ত বলছে বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য বিস্ফরক ব্যবহার করা হয়েছিল। স্থানীয়রাই দ্রুত খবর দেয় রেলকে। তারপর উদয়পুর থেকে যে ট্রেন ছাড়ার কথা ছিল সকাল সাড়ে ছটায় সেটিকে থামিয়ে দেওয়া হয় দুঙ্গারপুরে। রেল সুপারিডেন্ট বলেছেন, সব দিক খতিয়ে দেখা হবে। সমস্ত বিষয় দেখা হবে।
সারা বিশ্বে চার ধরণের রেল লাইন আছে,সেগুলো হলো ব্রডগেজ , মিটারগেজ ,স্ট্যান্ডার্ড গেজ , ন্যরো গেজ। যে ট্রেনটি ব্রডগেজ লাইন ব্যাবহার করে, সেটিকে ব্রডগেজ ট্রেন এবং যেটি মিটার গেজ লাইন ব্যাবহার করে সেটিকে মিটার গেজ ট্রেন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ভারতে দু'টি রেল লাইন ব্যাবহার করা হয়, তবে পাহাড়ি অঞ্চলে ন্যারো গেজ ব্যাবহার করা হয়। যে ট্রেনটি ব্রডগেজ লাইন ব্যাবহার করে, সেটিকে ব্রডগেজ ট্রেন এবং যেটি মিটার গেজ লাইন ব্যাবহার করে সেটিকে মিটার গেজ ট্রেন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
ব্রডগেজ রেল লাইনের প্রস্থ ১৬৭৬ মিলিমিটার বা সাড়ে ৫ ফুট এবং মিটারগেজ রেল লাইনের প্রস্থ ১০৬৭ মিলিমিটার বা সাড়ে ৩ ফুট। ন্যরো গেজ লাইনের প্রস্থ ৭৬২ মিমি বা আড়াই ফুট এবং স্ট্যান্ডার্ড গেজের প্রস্থ ১৪৩৫ মিমি বা ৪ ফুট সাড়ে ৮ ইঞ্চি।

ব্রডগেজ
ব্রডগেজ বা মিটারগেজ দু'টোই প্রয়োজনীয়। মিটারগেজ লাইনের সংস্থাপন কাজে অর্থ ব্যায় কম হয় এবং কম জায়গার প্রয়োজন হয়। আমাদের দেশে এই দুই ধরণের রেল লাইনই আছে। ঢাকার সাথে উত্তরাঞ্চল যুক্ত হয়েছে ব্রডগেজ রেল লাইনের মাধ্যমে। অন্য আর সকল রেল পথ মিটার গেজ। আমাদের দেশে ব্রডগেজের লাইন রয়েছে ৬৮২ কিলোমিটার ও মিটারগেজ লাইন রয়েছে ১৮৩৮ কিলোমিটার। যেসব রেল পথে প্রচুর ট্রেন চলাচল করে, রেলপথের দৈর্ঘ্য বেশি, মালামাল পরিবহন করতে হয় বেশি এবং মাটির নিচে কিছুটা দুর্বল থাকে সেসব জায়গায় ব্রডগেজ লাইন প্রয়োজন। মিটারগেজ ট্রেনের একটি কোচের আসন সংখ্যা সর্বচ্চ ৭৫ হলে ও বেশিরভাগ কোচের আসন সংখ্যা ৬৮ জনের। অপর দিকে ব্রডগেজের সর্বোচ্চ আসনসংখ্যা ১০৫ জন (কোন কোচে ১০৭ জনও দেখা যায়)।বেশিরভাগ কোচের আসন সংখ্যা ১০৪ জন।নএকটি মিটারগেজের লোকোর বা ইঞ্জিনের সর্বোচ্চ শক্তি ১৫০০ হপ(২৬,২৭,২৯ সিরিজের লোকো)। অপরদিকে একটি ব্রডগেজ লোকোর সর্বচ্চ ক্ষমতা ৩০০০ HP (৬৫ সিরিজের লোকো) অর্থাৎ মিটারগেজের থেকে ১৫০০ HP বেশি হয়ে থাকে।












Click it and Unblock the Notifications