রাজ্যবাসীর মন জয় করলেও দ্বন্দ্ব বাড়ছিল দলের অন্দরে! কেমন ছিল মু্খ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের যাত্রা
রাজ্যবাসীর মন জয় করলেও দ্বন্দ্ব বাড়ছিল দলের অন্দরে! কেমন ছিল মু্খ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের যাত্রা
প্রায় আড়াই বছর আগে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন উদ্ধব ঠাকরে। তৈরি হয়েছিল মহাবিকাশ আঘাদি জোট। মু্খ্যমন্ত্রী হিসেবে একেবারে নবাগত ছিলেন উদ্ধব ঠাকরে। কিন্তু তারপরেও তিনি বিভিন্ন সমীক্ষায় দেশের সেরা পাঁচ মুখ্যমন্ত্রী মধ্যে নিজের নাম স্থায়ী করে নিয়েছিলেন।

মহা বিকাশ আঘাদি জোট নিয়ে অসন্তোষ
মহা বিকাশ আঘাদি জোট মূলত এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ার পরিচালনা করতেন। শুরু থেকেই এই জোট নিয়ে একাধিক সংশয় ও দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছিল। শিবসেনার একাংশ কোনওভাবেই কংগ্রেস ও এনসিপির সঙ্গে জোট মেনে নিতে পারেনি। চাপা অসন্তোষ ক্রমেই শিবসেনার অন্তর্কলহকে বাড়িয়ে দিচ্ছিল। শিবসেনার একাংশ সব সময় মনে করত, তাদের আসল জোটসঙ্গী বিজেপি। দলের একাংশের সেই দুর্বলতাকেই কাজে লাগিয়েছে বিজেপি। সুশান্ত সিং রাজপুত, দিশা সালিয়ানের রহস্যমৃত্যু, পালঘরে সাধুদের পিটিয়ে হত্যা, করোনা মহামারী ইস্যুগুলোকে হাতিয়ার করে মহা বিকাশ আঘাদি সরকারের বিরুদ্ধে বার বার সরব হয়েছিল বিজেপি। অভিজ্ঞ বিজেপি নেতা দেবেন্দ্র ফড়নবীশ খুব ভালো করেই জানতেন, কীভাবে শিবসেনার বিধায়ক, নেতা, কর্মীদের বিজেপির কাছের মানুষ করতে হয়। আর এই কাজে বিজেপি যত ফল হয়, শিবসেনার মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব তত বাড়তে থাকে।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে উদ্ধব ঠাকরের চ্যালেঞ্জ
২০১৯ সালের শেষের দিকে উদ্ধব ঠাকরে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ২০২০ সালের মার্চ মাসে করোনা মাহামারী হামলা করে। যার জেরে দেশের অন্যান্য অংশের তুলনায় মহারাষ্ট্রে জনজীবন ব্যহত হয়ে পড়ে। মহারাষ্ট্রে করোনা খুব খারাপ প্রভাব ফেলে। আক্রান্তের হারের দিক থেকে দেশের মধ্যে বেশিরভাগ সময় শীর্ষে থাকত। এছাড়াও মহারাষ্ট্রে কৃষকদের সমস্যা মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

কৃষকদের জন্য বিশেষ প্রকল্প
সমস্ত প্রতিকূলতা দূর করে মহারাষ্ট্রের মানুষের কাছে জনপ্রিয় মুখ্যমন্ত্রী হয়ে উঠেছিলেন উদ্ধব ঠাকরে। কৃষি সঙ্কট ও কৃষকদের অর্থনৈতিক মন্দা দূর করতে কৃষক করমুক্তি যোজনা নামের একটি প্রকল্প চালু করেছিলেন। সেখানে কৃষকদের ঋণ দুই লক্ষ টাকা পর্যন্ত মার্জনা করা হয়েছিল। উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বে মহাবিকাশ আঘাদি সরকার প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ মকুব করে দিয়েছিল। তাঁর অন্যতম বড় সিদ্ধান্ত হল মুম্বই মেট্রো কারশেডের পরিকল্পনা বাতিল করা। মুম্বইয়ের আরে কলোনিতে মেট্রোর কারশেড তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। এরফলে শহরে দূষণের মাত্রা বাড়ার পাশাপাশি অনেক সবুজ গাছ কেটে ফেলতে হত। আরে কলোনি মুম্বইয়ের সবুজ ফুসফুস নামে পরিচিত।

করোনা মোকাবিলায় মুখ্যমন্ত্রী
করোনা মহামারি মোকাবিলায় মহারাষ্ট্র সরকার সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেছিল। উদ্ধব সরকার দ্রুত টিকাদান কর্মসূচির সূচনা করেন। পাশাপাশি তিনি করোনা মহামারীর মোকাবিলা করতে ১.৩২ লক্ষের অক্সিজেন শয্যা, ৩৮ হাজারের বেশি আইসিইউ বেডের ব্যবস্থা করেন।

পর্যটন শিল্পে নয়া উদ্যোগ
পর্যটনের ক্ষেত্রে উদ্ধব পুত্র আদিত্য ঠাকরে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। মহারাষ্ট্রে পর্যটন শিল্পের সম্প্রসারন ঘটাতে ক্যারাভান ট্যুরিজম ও দুর্গ ট্যুরিজমের ব্যবস্থা করেন। অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমের ওপর তিনি জোর দেন। কৃষি-পর্যটন নীতির মতো নতুন সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছিলেন। এছাড়ার গণপরিহনের ক্ষেত্রে মহাবিকাশ আঘাদি সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। মহারাষ্ট্রের মহা বিকাশ আঘাদি সরকারের একাধিক সিদ্ধান্ত রাজ্যের মানুষের মন জয় করে নিয়েছিল।












Click it and Unblock the Notifications