কোভিড উপসর্গ চেনার উপায় থেকে সুশ্রুষা ঘিরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
কোভিড উপসর্গ চেনার উপায় থেকে সুশ্রুষা ঘিরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
আরটি পিসিআর টেস্টেও ধরা পড়ছে না করোনার নতুন স্ট্রেইন। এদিকে, দেশে হু হু করে ছড়িয়ে যাচ্ছে করোনা। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ জ্বর নাকি সত্যিই করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে শরীরে তা বোঝা নিয়ে রীতিমতো সংশয়ে দেশবাসী। দেশে করোনার জেরে ইতিমধ্যেই দৈনিক সাড়ে তিন লাখের গণ্ডি ছাড়িয়েছে করোনা। এদিকে উপসর্গ বলতে জ্বর, সামান্য মাথা ধরা, শুকনো কাশি, ডাইরিয়া, গন্ধ-স্বাদ চলে যাওয়ার মতো ঘটনা কোভিডের জেরে সামনে আসতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে এমন উপসর্গ হলেই চিকিৎসকরা আগে আইসোলেশনে গিয়ে কোভিড টেস্ট করানোর বার্তা দিচ্ছেন। এদিকে, আইসোলেশনে থেকে কীভাবে বোঝা যাবে যে আদৌ কোভিড হয়েছে কী না, তার কিছুটা বিবরণী দেওয়া হচ্ছে। দিল্লির রেডিক্স হেল্থ কেয়ারের সিএমডি চিকিৎসক রবি মালিক এই বিষয়টি নিয়ে কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর পরামর্শগুলি নিম্নে বর্ণিত হল।

২থেকে ১৪ দিনের মধ্যে ইনকিউবেশন পিরিয়ড শুরু হয়। এই সময়ে ১ থেকে ৪ দিনের মধ্যে কোভিডের জ্বর দেখা দিচতে পারে। হাচি, কাশি শুরু হবে ১ থেকে ৩ দিনে। উপসর্গ ধীরে ধীরে দেখা দিতে থাকবে। শুরু হতে পারে কাশি, শ্বাসকষ্ট। এরই সঙ্গে থাকতে পারে জ্বর, দুর্বলভাব, নাকে অস্বস্তি। এই সমস্ত পরিস্থিতি সহ একাধিক বিষয় জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। যা করোনার সঙ্গে সম্পর্কিত। আর তার জেরে সতর্কবার্তা থেকে সুশ্রুষার বহু পদক্ষেপ জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
যদি কোনও উপসর্গ দেখা যায়, প্রথমেই তাঁকে আইসোলেট করতে হবে। প্যানারয়েড হওয়াটাই সেরা কৌশল। কোভিড খুবই সংক্রামক ব্যাধি। মনে রাখতে হবে, প্রথম উপসর্গেই আলাদা করতে হবে।
যদি কোনও উপসর্গ দেখা যায়, প্রথমেই তাঁকে আইসোলেট করতে হবে। প্যানারয়েড হওয়াটাই সেরা কৌশল। কোভিড খুবই সংক্রামক ব্যাধি। মনে রাখতে হবে, প্রথম উপসর্গেই আলাদা করতে হবে।

• অবশ্যই সঙ্গে একটা পালস্ অক্সিমিটার রাখুন। থার্মোমিটার যেমন আমাদের শরীরের তাপমাত্রা মাপে, ঠিক একই ভাবে এই যন্ত্রটি আমাদের শরীরের অক্সিজেনের মাত্রা মাপে। পালস্ অক্সিমিটারে আপনার আঙুল রাখলে কিছুক্ষণের মধ্যে দু'টো সংখ্যা দেখা যাবে। এর মধ্যে একটা এসপিওটু- মানে আপনার শরীরের অক্সিজেন সম্পৃক্ততা। দ্বিতীয়টা আপনার পাল্স রেট।
• অক্সিজেন সম্পৃক্ততা ৯৪র নীচে নেমে গেলে চিন্তার বিষয়। সে ক্ষেত্রে পেটের উপর ভর দিয়ে শুতে পারেন। পাল্স অক্সিমিটার ফের মেপে দেখুন। হয়ত অক্সিজেনের মাত্রা বাড়তেও পারে। অন্যথায় অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
• যখন কোনো ব্যক্তি ঘুমোচ্ছেন, তখন অক্সিমিটারে রিডিং নেবেন না। যাঁদের ঘুমের সমস্যা রয়েছে, বা তাঁদের ঘুমনোর সময় শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায় অনেকক্ষেত্রেই।
• শরীরের তাপমাত্রার ওঠা-নামার বিষয়েও সতর্ক থাকুন ..
• সাধারণ থার্মোমিটারেই শরীরের তাপমাত্রা সহজেই মাপা যায়। তবে ডিজিটাল বা ইনফ্রারেড থার্মোমিটারের থেকে পারদ যুক্ত থার্মোমিটারে তামপাত্রার ওঠা নামা অনেক বেশি ঠিকঠাক দেখায় বলে মনে করা হয়।

• সাধারণত মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৭.৫৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট থেকে ৯৯.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট। গড়ে তা দাঁড়ায় ৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট। তাই ৯৯ ডিগ্রি ফারেনহাইটের উপরে কোনও ব্যক্তির তাপমাত্রা উঠলে তখনই মনে করা হয় তার জ্বর হয়েছে। তাই শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দিলে থার্মোমিটারের পারাপতনের দিকে লক্ষ্য রাখা আশু কর্তব্য।
• শরীরের ব্যথার ক্ষেত্রে মেফেনামিক অ্যাসিড যেমন মেফটাল ৫০০ গ্রহণ করতে পারেন। কোনও রকম শারীরিক সমস্যার ক্ষেত্রে ওষুধের খাওয়ার আগে অনুগ্রহ করে আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।
• অ্যান্টিপাইরেটিকস গুলি নেওয়ার পরেও জ্বর না কমে বা ওষুধ ৪ ঘন্টার মধ্যে আবার জ্বর আসে তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন। ওষুধ খাওয়ার পরিবর্তে দয়া করে কোল্ড কম্প্রেশন \ টেপিড স্পঞ্জিং করুন। সঙ্গে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।
• যদি শরীরে কোনও উপসর্গ দেগেন তবে অবশ্যই করোনা পরীক্ষা করান। বর্তমানে গোটা দেশেই আরটি-পিসিআর টেস্টে কিছু সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এমনকী কিটও অপ্রতুল। তবুও চেষ্টা করুন আরটি-পিসিআর টেস্ট করাতেই।
• যদিও একান্তই আরটি-পিসিআর টেস্ট করানো সম্ভব না হয় তবে ব়্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টও করাতে পারেন। তবে সেই রিপোর্টের উপর পুরোপুরি নির্ভর না করে আরটি-পিসিআর টেস্ট ও অবশ্যই সিটি স্ক্যান করান।
• তবে সিটি স্ক্যানে করোনা সংক্রমণের ব্যাপারে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া গেলেও ডাক্তাররা প্রাথমিক ভাবে আরটি-পিসিআর টেস্টেই ভরসা করছেন। প্রাথমিক টেস্টে কাজ না হলে তখনই সিটি স্ক্যানের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, জ্বর এলে প্যারাসিটামল,ডোলো, ক্রোসিন,ক্যালপল খাওয়া শুরু করুন। যদি ক্লান্তি ভাব দেখা দেয় তবে এগুলি দিনে একবার আর রাতে একবার করে নিতে পারেন প্রতিদিন। তবে দুটো ডোজের ওষুধ খাওয়ার পর অন্তত ৪ ঘণ্টার বিরতি দিতে হবে।

এই ওষুধ এবং খাবারগুলি দ্রুত শুরু করতে হবে যদি করোনা পরীক্ষা না হয়ে থাকে। অথচ তার উপসর্গ দেখা দেয়-
১.জিঙ্কোভিট ১০ নিতে হবে। তার সঙগে মাল্টি ভিটামিন এবং মাল্টি মিনারেল খেতে হবে।
২.দিনে তিনবার ভিটামিন সি লিমসি ট্যাবলেট চিবিয়ে খেতে হবে।
৩. দিনে তিনবার গরম জলের ভাপ নিতে হবে।
৪. ১২ ঘণ্টা অন্তর গরমজলে বেটাডিন দিয়ে গারগল করতে হবে।
৫. প্রচুর পরিমানে তরল খাবার খেতে হবে। লেবুর রস, হলুদ দেওয়া দুধ, ডালিমের রস, মুসমবি লেবুর রস, জল,স্যুপ, মেথি ভেজানো জল, কাড়া, ডাবের জল।
৬. পুষ্টিকর খাবার খান। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখুন টাটকা সবজি, ফল, অশ্বগন্ধা, আমলকি, চবনপ্রাশ। তারসঙ্গে প্রোটিন যুক্ত খাবার বেশি খান(ডাল, ছানা, সোয়াবিন, দুধ, বাদাম)। কতটা পরিমানএই খাবার খেসে হবে তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনও পরিমাপ এখনও জানা যায়নি। তবে যার শরীরের অবস্থা যেমন থাকবে তেমন খাবার খেতে হবে পরিমাপ করে। কারণ এই খাবারগুলি শরীরের রোগ প্রতিরোক শক্তি বাড়িয়ে তুলতে কাজ করে।
৭. প্রাণায়াম এবং শ্বাসপ্রশ্বাসের যোগাভ্যাস নিয়মিত রাখতে হবে।

করোনা পজিিটভ হলে কী করবেন তার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ জরুরি
কোভিড আসনে একটি ভাইরাল সংক্রমণ। এই ভাইরাস নিধনের ক্ষমতা নেই কোনও অ্যান্টিবায়োটিকের। তবে চিকিৎসকরা অ্যাজিথ্রোমাইসিন ৫০০ পাঁচ দিন খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। ডক্সিসাইউক্লিন ১০০ ৫ দিন খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করার পর কোন কোন ওষুধ প্রয়োজন?
কোভিড একটি ভাইরাল অসুখ। তার জন্য নির্দিষ্ট কোনও অ্যান্টিবায়োটিক নেই। তবে ব্যাক্টেরিয়াল সুপার ইনফেকশান থাকলে অ্যাজিথ্রোমাইসিনের ৫০০ এমজি ওডি ৫ দিনের জন্য নেওয়া যাবে।

অ্যান্টি-ভাইরাল
ফাভিপিরাবির নামক একটি ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এনএমপিএসি কর্তৃক এবং জানানো হয়েছে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রেও এটি ব্যবহার করা হচ্ছে। ফাভিপিরাবির (ওরাল) ওষুধ নিম্নলিখিত উপায়ে প্রয়োগ করা হয়। প্রথম দিনের ডোজ: ১৮০০ এমজিxবিডি। দ্বিতীয় দিনের ডোজ: ৮00 এমজিxবিডি। অবশ্যই ফাভিপিরাবির সেবন একজন ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শের পরেই করা উচিত। ফাভিপিরাবির আরএনএ পলিমেরেজকে বাধা দেয় যা ভাইরাল প্রতিকারের জন্য প্রয়োজনীয়।
আইভারমেকটিন
কোভিড-১৯ ভাইরাসের প্রতিরোধক আইভারমেকটিন। এটিঅ সেল স্ট্রাকচারে ৪৮ ঘন্টায় ভাইরাসের ৫০০০ গুণ হ্রাস করতে দেখা গেছে। আইভারমেকটিন ১২ এমজিx ওডি তিনদিনের জন্য। যদিও ওষুধ হিসাবে আইভারমেটিন একটি অ্যান্টিপারাসিটিক এবং এফডিএ অনুমোদিত। এটি নেওয়ার আগে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।
অ্যান্টিটাসিভ ফর কাফ
কাশির সিরাপ যেমন বেনিড্রিল, ক্লোরফেনিরামিন কাশি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শের পরে নেওয়া উচিত। মিউসিনাক ৬০০ ডিসপ্রেসিবল ট্যাবলেটগুলি একটি সুগার ফ্রি মিউকোলিটিক ওষুধ। এটি শ্লেষ্মা বা কাফ পাতলা করে কাজ করে। কাশি কমাতে সাহায্য করে। এটি শ্বাস প্রশ্বাসকে সহজ করে তোলে এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ক্রিয়াও করে। এ ব্যাপারেও ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে নেওয়া উচিত।
অ্য়ান্টি কোয়াগুলেন্টস
যেমন আমরা রক্তের জমাট বাঁধা এবং কোভিড -১৯ এর মধ্যে সংযোগ সম্পর্কে জানতে পেরেছিলাম, আমরা জানি যে স্ট্রোক এবং হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে ব্যবহৃত অ্যাসপিরিন কোভিড -১৯ রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে * এটি কেবল হার্ট স্ট্রোক রোগীদের জন্য এবং সঠিক গাইডেন্সে পরিচালিত হতে হয় একজন ডাক্তার, কমরবিডিটি ছাড়াই হালকা বা পরিমিত ক্ষেত্রে যেমন সেবন করা উচিত।
ইনহেল করা সম্পর্কীয় তথ্য
দ্য ল্যানসেট রেসপিরেটরি মেডিসিনে প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণায় বলা হয়েছে, হাঁপানির চিকিত্সার জন্য ব্যবহৃত একটি স্টেরয়েড, যদি কোভিড -১৯ রোগীদের খুব শীঘ্রই লক্ষণযুক্ত রোগীদের দেওয়া হয় তবে জরুরি চিকিত্সা যত্নের প্রয়োজনকে কমিয়ে দেয় এবং পুনরুদ্ধারের সময় হ্রাস করে, দ্য ল্যানসেট রেসপিরেটরি মেডিসিনে প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণায় বলা হয়েছে।

❑ স্টেরয়েড নিয়ে কৌতুহলী প্রশ্ন
১) হাল্কা থেকে মাঝারি কেসের ক্ষেত্রে স্টেরয়েড অত্যন্ত কার্যকর।
২) আমরা প্রথম ৭ দিনের জন্য স্টেরয়েড প্রদান স্থগিত করি কারণ ভাইরাসটি এর প্রতিরূপকরণের পর্যায়ে রয়েছে এবং স্টেরয়েডগুলির দেহের ভেতর যাওয়ার ফলে ভাইরাসটি আরও মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে।
৩) ডেক্সামেথেসোন এবং মেথিলপ্রেডনিসোলোন উভয়ই ব্যবহৃত হচ্ছে। উদাহরণ স্বরূপ ডেক্সোনা/ডেক্সাকর্ট (৬ এমজি ওডি x ৫দিন)+ ৩ এমজি x ওডি x ৩দিন + ১.৫ এমজি ওডি x ৩দিন। মেথিলপ্রেডনিসোলোনের ক্ষেত্রে মেডরোল ১৬ এমজি বিডি x ৫ দিন + ৮ এমজি বিডি x ৩ দিন+ ৪এমজি বিডি x ৩দিন।
৪) স্টেরয়েডগুলি হঠাৎ করে কখনই বন্ধ হয় না এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে বন্ধ করতে হয়।
৫) স্টেরয়েড ব্যবহারের ফলে অনেক ধরনের ক্ষতি হয়। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে এটি নেওয়া দরকার।
৬) স্টেরয়েডগুলি ডায়াবেটিসে খুব অদ্ভুত আচরণ করে স্টেরয়েড চিকিৎসার সময় রক্তে শর্করার মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন এবং ডায়াবেটিক ওষুধগুলি স্টেরয়েডের নেওয়ার সময় পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।
৭) যদি কোনও ক্ষেত্রে জ্বর নিয়ন্ত্রণে না কমে/ সিআরপি নিয়ন্ত্রণে না আসে/ হাইপোক্সিয়া হয় তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে স্টেরয়েড দেওয়া যেতে পারে।
তদন্ত
সাতদিনের মাথায় সিটি স্ক্যান করানো উচিত। সিটিশেবারিটি স্কোর দেখা উচিত। কোভিড প্রোফাইলে দেখা উচিত, সম্পূর্ণ ব্লাড কাউন্ট, অ্যালবুমিন গ্লোবিউলিন, এলডিএইচ, এএলটি,ইউরিয়া,ক্রিয়েটিনিন, আইএলসিক্স, ডিডিমার, সিআরপি,প্রোক্যালসিটোনিন, পিটি।
❑ হাসপাতালে কখন ভর্তি হবেন
১) অক্সিজেন পর্যায় ৯৩-তে নেমে গেলে
২) জ্বর অ্যান্টিপাইরেটিক্স / স্টেরয়েড দ্বারা নিয়ন্ত্রণে না আসা
৩) একাধিক রোগ রয়েছে
৪) সিটি / ল্যাব রিপোর্টগুলি খারাপ
৫) নিঃশ্বাসের সমস্যা
❑ গুরুতর কোভিড কেস
যদিও রেমডেসিভিরের কার্যকারিতা নিয়ে বহু তত্ত্ব রয়েছে, তবে র্যাডিক্স হেল্থকেয়ারে দেখিয়েছে যে রেমডেসিভির কার্যকর। যদিও এটা নিয়ে কোনও অকাট্য প্রমাণ না পাওয়া গেলেও হাসপাতালে যখন রোগীকে ভর্তি করার ইঙ্গিত পাওয়া যায় তখন আমরা রেমডেসিভির ব্যবহারের সুপারিশ দিই। প্রথম উপসর্গ দেখার ১০ দিনের মধ্যে রেমডেসিভির দেওয়া উচিত। তবে প্রথম উপসর্গের ১০ দিনের মাথায় রেমডেসিভির দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কতটা ডোজ দেওয়া দরকার। চিকিৎসকদের মতে, ১০০ এমজি X ৬টি শিশি। প্রথম দিন ২০০ এমজি ডোজ এবং তারপর প্রত্যেক ২৪ ঘণ্টা অন্তর অন্তর ১০০ এমজি করে ৫ দিন।

❑ আইভি স্টেরয়েড
উচ্চ সিআরপি/ হাইপোক্সিয়াতে জীবনদায়ী বলে প্রমাণিত হয়েছে স্টেরয়েড। যদি কোনও ক্ষেত্রে ওরাল স্টেরয়েড কাজ না করে তবে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে আইভি স্টেরয়েড শুরু করে দেওয়া দরকার।
❑ ব্রড স্পেকট্রাম অ্যান্টিবায়োটিক
ব্যপক সংক্রমণ/ গৌণ জীবাণু সংক্রমণ রুখতে হাসপাতালে আইভি অ্যান্টিবায়োটিক্সের মতো মনোসেভ শুরু করা যেতে পারে।
❑ টোকিলিজুমাব
গুরুতর কেসের ক্ষেত্রে এটি দারুণ একটি ওষুধ। অ্যাক্টেমেরার মতো নাম এটির। এটি একটি আইএল-৬ প্রতিরোধক যা সাইটোকিনিন স্ট্রোম/ উচ্চ উন্নত আইএল-৬ স্তরের ক্ষেত্রে প্রচুর জীবন বাঁচানোর পক্ষে প্রমাণিত হয়েছে।
❑ প্লাজমা থেরাপি
প্লাজমা থেরাপি নিয়ে বহু তত্ত্ব দেখা দিলেও, রোগ যখন নতুন, তাই গুরুতর রোগীদের সবকিছু একবার হলেও প্রয়োগ করা প্রয়োজন। গুরুতর ক্ষেত্রে একটি শট নেওয়া উচিত।
❑ অ্যান্টিকোয়াগুলান্ট
আমরা জেনেছি যে কোভিড-১৯ ও রক্ত জমাট বাঁধার মধ্যে যোগ, আমরা এও জানি যে স্ট্রোক ও হৃদরোগ প্রতিরোধ করার অ্যাসপিরিন কোভিড-১৯ রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। *এটি কেবল হৃদরোগ / স্ট্রোক রোগীদের জন্য এবং চিকিৎসকের যথাযথ নির্দেশনায় পরিচালিত হওয়ার জন্য, কোমর্বিডিটি ছাড়াই হালকা / পরিমিত ক্ষেত্রে খাওয়া উচিত নয়।












Click it and Unblock the Notifications