'ডেস্টিনেশন দুধওয়া', কীভাবে যোগীর পুলিশকে বোকা বানিয়ে লখিমপুর অভিযান করলেন তৃণমূল সাংসদরা
'ডেস্টিনেশন দুধওয়া', কীভাবে যোগীর পুলিশকে বোকা বানিয়ে লখিমপুর অভিযান করলেন তৃণমূল সাংসদরা
কংগ্রেসের তাবর নেতাদের আটকাতে পারলেও তৃণমূল কংগ্রেসের কাউকে আটকাতে পারেনি যোগীর পুলিশ। উত্তর প্রদেশ পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে তাঁরা পৌঁছে গিয়েছিলেন লখিমপুরে কৃষকদের কাছে। কীভাবে পৌঁছলেন তাঁরা? কীভাবে পুলিশের চোখে ধুলো দিলেন? সুনিপুন পরিকল্পনা রয়েছে তার নেপথ্যে। ডেস্টিনেশন দুধওয়ার নাম করে ছদ্মবেশে তাঁরা পৌঁছে গিয়েছিলেন সেখানে।

লখিমপুরে তুলকালাম
গত ৩ অক্টোবর থেকে লখিমপুর নিয়ে তুলকালাম চলছে লখিমপুরে। গাড়িতে পিষে ৮ কৃষকের মৃত্যু। মারা গিয়েছেন এক সাংবাদিকও। তুলকালাম চলছে গোটা দেশে। সূত্রের খবর কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর গাড়ি কৃষকদের বিক্ষোভের মধ্যে পৌঁছলে তাঁরা সেখানে তুলকালাম কাণ্ড বাঁধে। রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা। গোটা লখিমপুর ঘিরে ফেলে পুলিশ। জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। তীব্র আন্দোলন শুরু করেছেন সেখানকার কৃষকরা।

লখিমপুরে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল
কোনও রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীকেই সেখানে পৌঁছতে দেওয়া হয়নি। ১৪৪ ধারা জারি আছে বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু কোনও ভাবে সেখানে পৌঁছে যান তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিদল। তাঁরা িঠক লাখিমপুরে পৌঁছে আক্রান্ত কৃষক পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। কী ঘটেছিল সেদিন সেকথা জানতে চান। বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে তাঁরা ফিরে যান । এক কড়াকড়ির মধ্যে কীভাবে তাঁরা লখিমপুরে পৌঁছলেন তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।

কীভাবে পৌঁছলেন তাঁরা
উত্তর প্রদেশ পুলিশের বজ্র আঁটুনি উপেক্ষা করেই তাঁরা পৌঁছে গিয়েছিলেন লখিমপুরে। সুনিপুন পরিকল্পনা ছিল সেই অভিযানের। একেবারে আম আদমির বেশে। পর্যটকের ছদ্মবেশে তাঁরা পৌঁছে যান সেখানে। কাকলি ঘোষদস্তিদার, সুস্মিতা দেব প্রথমে একটি পর্যটকের গ্রুপ তৈরি করে পৌঁছন। লখনউ বিমানবন্দরে তাঁদের জন্য অপেক্ষা করছিলেনএকজন পুলিশ কর্মী। তাঁরা লখিমপুরের ১০০ মিটার দূের তাঁদের ছেড়ে দেন। তার জন্য পুলিশ কর্মীকে তাঁরা ধন্যবাদ জানান। ইতিমধ্যেই সেখানে এসে পৌঁছন আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। পুলিশ তাঁকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। সেই সময়েই সুযোগ বুঝে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদরা তাঁদের গাড়ি নিয়ে চম্পট দেয়।

ডেস্টিনেশন দুধওয়া
পুলিশের চোখ এড়িয়ে গাড়ি নিয়ে এগোতেই কিছুদূরেই ছিল পুলিশের চেকপোস্ট। সেই চেকপোস্টে পুলিশ গাড়ি আটকালে তাঁরা জান যে দুধওয়া ন্যাশনাল পার্কে যেতে চান তাঁরা। পুলিশ কিছুতেই গাড়ি যেতে না দিলে কাকলি ঘোষদস্তিদার এবং সুস্মিতা দেব গাড়ি থেকে নেমে বাইক আরোহীদের কাছে লিফট চান। তাঁরা বলেন যে সামনে দুধওয়া ন্যাশনাল পার্কে পৌঁছে দেবেন। তাতে রাজি হয়ে যান অনেক বাইক আরোহী। সেই বাইকে করেই তাঁরা পৌঁছে যান লখিমপুর খেরাতে।

দ্বিতীয় দলটি কী করল
আরেকটি দল যাতে ছিলেন দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, আমির রঞ্জন বিশ্বাস। তাঁরা প্রথমে দিল্লিতে পৌঁছন। তারপরে সড়ক পথে ৪৪৪ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে লখিমপুরে পৌঁছন। ইনোভা গাড়ি ভাড়া করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু কোনও শিখ গাড়ির চালক নেননি। পর্যটকের বেশে হালকা জামা পড়ে তাঁরা গাড়িতে চড়েছিলেন। মাথায় টুপি দিয়েছিলেন পর্যটকদের মতই। তারসঙ্গে ছিল মাস্ক। মোবাইলে ম্যাপ দেখার অভিনয় করতে করতে যাচ্ছিলেন তাঁরা। যাতে চেক পয়েন্টে সন্দেহ না করে পুলিশ। সেখানেই তাঁরা জানিয়েছিলেন পালিয়া যাচ্ছেন তাঁরা। এই নিখুঁত পরিকল্পনার জেরেই তাঁরা সহজেই পৌঁছে যান সেখানে।












Click it and Unblock the Notifications