Uttarkashi Tunnel Rescue: ১৭ দিনের লড়াইটা মোটেই সহজ ছিল না! কীভাবে এগোল সেই কাজ? রইল টাইমলাইন
Uttarkashi Tunnel Rescue: দীর্ঘ ১৭ দিনের লড়াই শেষ! অন্ধকার সুড়ঙ্গের শেষে আলোর রেখা। বেরিয়ে আসছেন একের পর এক আটকে থাকা শ্রমিক। রাতের মধ্যেই সমস্ত শ্রমিককেই বের করে আনা সম্ভব হবে।
কিন্তু ১৭ দিন কি ঘটল? গত ১২ নভেম্বর থেকে কীভাবেই বা এগোল সম্পূর্ণ (Uttarkashi Tunnel Rescue) উদ্ধারকাজ। রইল সেই টাইমলাইন-

Uttarkashi Tunnel Rescue: ১২ নভেম্বর প্রথম ঘটনা
চারধাম প্রজেক্ট হিসাবেই উত্তরকাশীর সিল্কিয়ারা টানেল তৈরির কাজ চলছিল। পাহাড় কেটে চলছিল সেই কাজ। সেদিন ছিল দিপাবলী। আলোর উৎসবে মেতে দেশ। আর সেই সময়ে ঘটে গেল বিপর্যয়। সকাল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ হঠাত করেই ধস নামে। পাথর সহ সমস্ত কিছু এসে পড়ে টানেলের সামনে। আর সেই সময় ৪১ জন শ্রমিক টানেলের মধ্যে কাজ করছিলেন। ভয়ঙ্কর ধসের কারণে আটকে যায় মুখ। আটকে পড়েন শ্রমিকরা। দ্রুত উদ্ধারকাজে নামে প্রশাসন। সমস্ত বিপর্যয় দল হাত লাগায় উদ্ধারকাজে।
Uttarkashi Tunnel Rescue: ১৩ নভেম্বর শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ
অক্সিজেন সরবরাহ পাইপের মাধ্যমে শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তারা নিরাপদে রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া যায়। কিছুটা হলেও বোঝা নামে! কিন্তু সামনে যে পরিস্থিতি খুবই কঠিন বোঝা সম্ভব হয়নি। টানেলের সামনের অংশ জুড়ে পাথর সহ সমস্ত কিছু পড়ে জমে যায়। প্রবল চাপে টানেলের মধ্যেও ভাঙন ধরে। বিভিন্ন অংশ ভাঙতে শুরু করে। আর তা থামাতে কার্যত হিমশিম খেতে হয় উদ্ধারকারী দলকে।
Uttarkashi Tunnel Rescue: ১৪ নভেম্বর- প্ল্যান বি
প্ল্যান বি অনুযায়ী ড্রিলিংয়ের কাজ শুরু হয়। ড্রিল করে পাইল ঢোকানোর কাজ শুরু হয়। কিন্তু তা ব্যর্থ হয়। দিন গড়াতে শুরু করে। চ্যালেঞ্জিং হয় পরিস্থিতি।
Uttarkashi Tunnel Rescue: ১৫ নভেম্বর-এয়ারলিফট করা হয় আধুনিক মেশিন
টানেলে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারে অগার মেশিনের সাহায্য নেওয়া হয়। দিল্লি থেকে এয়ারলিফট করে আনা হয় সেই মেশিন।
১৬ নভেম্বর- পাইপ লাইন ঢোকানোর কাজ শুরু
১৬ নভেম্বর সকাল ১১টা থেকে ৩ ফুট চওড়া ও ৬ মিটার দীর্ঘ পাইপ বসানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। তা করা খুব একটা সহজ ছিল না। পরিস্থিতি বারবার খারাপ হচ্ছিল। আসছিল বাধা।
১৭ নভেম্বর- বড় আপডেট সামনে আসে
গত ১৭ নভেম্বর ২৪ মিটার পাইপ বসানোর কাজ শেষ হয়। কিন্তু প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ১৭ নভেম্বর মেশিনটি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে উদ্ধারকাজ সম্ভব করা যায়নি। এমনকি বন্ধ হয়ে যায় উদ্ধারকাজও।
১৮ নভেম্বর- ইন্দোর থেকে যায় আরও মেশিন
১৮ নভেম্বর। নতুন সকাল। ফের শুরু হয় উদ্ধারকাজ। ইন্দোর থেকে আরও একটি মেশিন উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। শুরু হয় অপারেশন।
#WATCH | Uttarkashi (Uttarakhand) tunnel rescue: CM Pushkar Singh Dhami meets the workers who have been rescued from inside the Silkyara tunnel. pic.twitter.com/5gZHyuhrqF
— ANI (@ANI) November 28, 2023
১৯ নভেম্বর- চলে ড্রিলিংয়ের কাজ
অগার মেশিনের মাধ্যমে ফের একবার ড্রিলিংয়ের কাজ শুরু হয়। প্রথমে পাঁচ মিটার পাইপে ড্রিলিংয়ের কাজ শুরু হয়। পাশাপাশি উদ্ধারকাজে হাত লাগায় একাধিক উদ্ধারকারী দল। রেল, কোল ইন্ডিয়া সহ একাধিক সংস্থা একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়ে উদ্ধারকাজে। পুরো উদ্ধার প্রক্রিয়া নজরে রাখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামী নিজে সরজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।
Uttarkashi Tunnel Rescue: দুদিন ধরে চলে ড্রিলিং
গত ২১ এবং ২২ নভেম্বর লাগাতার ড্রিলিংয়ের কাজ চালানো হবে। যার মাধ্যমে ৪৮ মিটারের ড্রিলিং সম্পূর্ণ হয়। ইতিমধ্যে দুবাই-আমেরিকা থেকে টানেল সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞরা পৌঁছে যান ঘটনাস্থলে। সবাই মিলে যৌথভাবে উদ্ধারকাজ শুরু হয়। আর তাতে ৪১ জন আটকে পড়া শ্রমিকের প্রথম ছবি সামনে আসে। endoscopic camera পাইপের মাধ্যমে পাঠানো হয় আটকে থাকা শ্রমিকদের কাছে। আর সেই ক্যামেরার মাধ্যমে প্রথম ছবি সামনে আসে।
Uttarkashi Tunnel Rescue: ২৭ নভেম্বর- যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে
আশার আলো তৈরি হতেই ফের বিপর্যয়! অগার মেশিনে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে। বন্ধ হয় কাজ। যদিও নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী ড্রিলিং শুরু হয়। উলম্বভাবে শুরু হয় কাজ। অন্যদিকে ম্যানুয়ালিও চলে খননকাজ। সারা রাত চলে কাজ।
Uttarkashi Tunnel Rescue: ২৮ নভেম্বর-দুপুরের পর আশার আলো
২৮ নভেম্বর সকাল ৫টা পর্যন্ত, ১৪ ঘণ্টায় ৫ মিটার ড্রিলিংয়ের কাজ শেষ হয়। দুপুরের পর থেকেই পরিস্থিতি ঘুরে যায়। টানেলের মধ্যে যান মুখ্যমন্ত্রী ধামী। ৫২ মিটার খনন কাজ শেষ হয়েছে বলে জানান তিনি। কিন্তু এরপরেও শ্রমিকদের বেরোনো নিয়ে নানারকম জল্পনা ছিল। শেষমেশ দীর্ঘ ১৭ দিনের লড়াই শেষ।












Click it and Unblock the Notifications