কী ভাবে বেড়ে গেল রাফালের দাম - মোদীর সিদ্ধান্তই দায়ী, সামনে এল নয়া তথ্য
'দ্য হিন্দু'-র প্রাক্তন সম্পাদক এন রাম দাবি করেছেন যে মোদীর মাত্র ৩৬টি রাফালে কেনার সিদ্ধান্তের জন্যই প্রতিটি জেটের দাম বেড়ে গিয়েছে।
ইউপিএ আমলে যে দামে রাফালে বিমান কেনার কথা হয়েছিল তাই এনডিএ আমলে চুক্তি পাকা করার সময়ে বিমান প্রতি ৪১.৪২ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল। কিকরে ২০১১ থেকে ২০১৬ এই পাঁচ বছরের এক লাফে এতটা মূল্য বৃদ্ধি ঘটল তা নিয়ে ইদানিং কালে সরগরম হয়েছে দেশের রাজনৈতিক মহল।
'দ্য হিন্দু' পত্রিকার প্রাক্তন সম্পাদক এন রাম, এই বিষয়ে সম্প্রতি একটি নিবন্ধে আলোকপাত করেছেন। 'দ্য হিন্দু'-র হাতে আসা কিছু নথি ঘেঁটে তিনি দাবি করেছেন, ১৩টি 'ইন্ডিয়া স্পেসিফিক এনহ্য়ান্সমেন্ট' এবং ১২৬টির বদলে মাত্র ৩৬টি বিমান কেনাই এই বিস্ময়কর মূল্য বৃদ্ধির মূল কারণ। তাঁর অভিযোগ এই বিষয়ে সরকারি অফিসারদের আপত্তিকে পাত্তা দেওয়া হয়নি।
এক নজরে দেখে নেওয়া যাক এই বিষয়ে কি জানিয়েছেন এন রাম।

রাফালের দামের কমা-বাড়া
এই যুদ্ধবিমান জোগানের টেন্ডার-লাভের ৫ বছর আগে ডাসল্ট এভিয়েশন সংস্থা প্রতিটি রাফালে বিমানের দাম জানিয়েছিল ৭৯.৩ মিলিয়ন উইরো। ২০১১ সালে যন্ত্রাংশের খরচ বাড়ার কারণে সেই মূল্ গিযে দাঁড়ায় ১০০,৮৫ মিলিয়ন ইউরো.য়। ২০১৬ সালে এনডিএ সরকার ৩৬টি বিমান কেনার চুক্তি পাকা করার সময় ৯ শতাংশ ছাড় দিয়ে প্রতিটি বিমানের দাম হয় ৯১.৭৫ মিলিয়ন ইউরো।

দাম বাড়াল 'ইন্ডিয়া স্পেসিফিক এনহ্য়ান্সমেন্ট'
কিন্তু অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণ ভারতীয় বায়ুসেনার চাওয়া ওই ১৩টি 'ইন্ডিয়া স্পেসিফিক এনহ্য়ান্সমেন্ট', অর্থাত ভারতীয়দের নির্দিষ্ট চাহিদা পুরণের জন্য অতিরিক্ত কিছু হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারগত আপডেট। এর জন্য় ডাস্লট সংস্থা বাড়তি ১.৪ বিলিয়ন ইউরো দাবি করেছিল। এর আগে সেই অতিরিক্ত খরচ ১২৬টি বিমানে ভাগ হওয়ার ফলে প্রতি বিমান পিছু খরচ পড়ছিল ১১.১ মিলিয়ন ইউরো। চুক্তির সময় দরাদরিতে এই অর্থটা ১.৩বিলিয়ন ইউরোয় নামাতে পেরেছিল এনডিএ সরকার। যা মাত্র ৩৬টি বিমানের মধ্যে ভাগাভাগি হওয়ায় প্রতি বিমান পিছু বাড়তি খরচ হয়েছে ৩৬.১১ মিলিয়ন ইউরো।

অফিসারদের আপত্তি
এন রাম জানিয়েছেন, দ্য হিন্দুর হাতে আসা নথি অনুযায়ী দরাদরির সেই ৭ সদস্যের অফিসারদের মধ্যে, রাজীব ভার্মা, জয়েন্ট সেক্রেটারি ও অ্যাকুইজেশন ম্যানেজার (এয়ার), অজিত সুলে, ফিনান্শিয়াল ম্যানেজার (এয়ার), এবং এমপি সিং, অ্যাডভাইজার (কস্ট) - এই ৩ জন আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁদের পেশ করা নোটে বলা হয়েছিল এই 'ইন্ডিয়া স্পেসিফিক এনহ্য়ান্সমেন্ট'-এর মূল্য়টা অত্যন্ত চড়া।

আপত্তি নাকচ
কিন্তু বাকি ৪ সদস্য অফিসাররা তাঁদের আপত্তিকে নস্যাত করে দেন। ১.৪ বিলিয়ন থেকে ১.৩ বিলিয়নের চুক্তিটি অনেক ভাল বলে মত দিয়েছিলেন তাঁরা। ৪-৩ ভোটে তাদের আপত্তি ধোপে টেকেনি। এরপর ইন্ডিয়ান নেগোশিয়েটিং টিমের চেয়ারম্যান তাঁর রিপোর্ট পাঠান ডিফেন্স অ্যাকুইজেশন কাউন্সিলে। তাঁরা সবুজ সঙ্কেত দিলে তা অনুমোদন করে দিয়েছিল সংসদের নিরাপত্তা বিষযক কমিটি।

কি এই ১৩টি 'আইএসই'
নিরাপত্তার খাতিরে এই ১৩টি ইন্ডিয়া স্পেসিফিক এনহ্যান্সমেন্ট সরকারের তরফ থেকে গোপন রাখার চেষ্টা করা হলেও এই সংক্রান্ত বেশ কিছু তথ্য ইতিমধ্যেই জন সমক্ষে এসেছে। এন রামও তার কয়েকটির কথা নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন। তার মধ্যেরয়েছে, রেডারের পাল্লা বৃদ্ধি করা। হেলমেটেই ডিসপ্লের ব্য়বস্থা করা, যার মারফত বিভিন্ন তথ্য সহজে দেখতে পারবেন পাইলট। উচ্চ স্থান থেকেও ওড়ার ক্ষমতা। এছাড়া ইনফ্রারেড সার্চ অ্যান্ড ট্র্যাক সেন্সর, ইলেকট্রিক জ্যামার পড ইত্যাদি।

সুযোগ নেয়নি মোদী সরকার
তবে রাম জানিয়েছেন চাপ দিয়ে এই মূল্যটা কমানোর পথ ছিল মোদী সরকারে হাতে। তিনি জানিয়েছেন, ইউরোপিয়ান এরোনটিকস ডিফেন্স অ্যান্ড স্পেস সংস্থা ভারতীয় বায়ুসেনার চাহিদা পূরণের যোগ্য রাফালের মানের বিমান জোগানে আগ্রহী ছিল। তাঁরা ২০ শতাংশ ছাড়ও দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তা দরপত্র ডাকার সময়ের পরে দেওয়ায় সেই অফারকে পাত্তা দেওয়া হয়নি। সেই অফারকে ব্যবহার করে রাফালের দাম কমানোর চেষ্টাও করা হয়নি।
|
চিদম্বরমের প্রতিক্রিয়া
এন রামের এই নিবন্ধের পরই কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম সোশ্যাল মিডিয়ায় বলেন বায়ুসেনার ১২৬টি বিমানের প্রয়োজন থাকলেও সরকার কেন ৩৬টি বিমান কিনল, এই নিবন্ধের পর সেই প্রশ্নটা আরও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ভাবে সরকার জাতীয় নিরাপত্তাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications