No confidence motions: অতীতে কতগুলি অনাস্থা প্রস্তাবের মুখোমুখি হতে হয়েছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রীদের, জানেন
স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর সময় থেকেই দেশে প্রধানমন্ত্রীদের অনাস্থা প্রস্তাবের মুখোমুখি হতে হয়েছে। সম্প্রতি মণিপুর হিংসা ও রাজ্যে মহিলাদের উপর যৌন নির্যাতনের প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করেছে বিরোধী মহাজোট 'ইন্ডিয়া'। জানেন, এর আগে কতবার প্রধানমন্ত্রীদের অনাস্থার মুখোমুখি হতে হয়েছে?
এবারই প্রথম নয়, এর আগে একাধিকবার প্রধানমন্ত্রীদের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ হয়েছে। সেখানে ভোটাভুটিতে অনেক ক্ষেত্রেই প্রধানমন্ত্রী আস্থার স্বাক্ষর রেখেছেন, আবার একাধিক ক্ষেত্রে অনাস্থায় হেরে বিদায় নিতে হয়েছে। এমনকী শেষবার অটলবিহারী বাজপেয়ীকে এমনই অভিজ্ঞতার সাক্ষী হতে হয়েছে।

স্বাধীনোত্তর ভারতে প্রথম অনাস্থা প্রস্তাবের মুখোমুখি হতে হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুকে। আচার্য কৃপালিনী পণ্ডিত নেহরু নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে ১৯৬৩ সালে প্রথম অনাস্থা প্রস্তাব এনেছিলেন। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত ২৯ বার অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। আর এবার নিয়ে ৩০ বার হতে চলেছে অনাস্থায় ভোটাভুটি।
মোদী সরকারের বিরুদ্ধে মণিপুরের ঘটনায় অনাস্থা প্রস্তাব দ্বিতীয়বার হল। মোদী সরকারের বিরুদ্ধে প্রথম অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছিল তেলেঙ্গানা ইস্যুতে বিশেষ মর্যাদা নিয়ে। সেবার ৩২৫-১২৬ ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল বিরোধীরা। সেবারও মোদী সরকারের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল। আর এবারও বিজেপি নেতৃত্বাধীন নরেন্দ্র মোদীর এনডিএ সরকার নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ।
এখন পর্য্ত মোট ১০ জন প্রধানমন্ত্রীকে অনাস্থার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তার মধ্যে সবথেকে বেশিবার অনাস্থার মুখোমুখি হয়েছেন ইন্দিরা গান্ধী। তাঁর আমলে ১৫ বার অনাস্থা এনেছেন বিরোধীরা। তবে একবারও তাঁকে টলাতে পারেনি। তিনি প্রতিবার আস্থা অর্জনে সফল হয়েছেন।
এছাড়া তিনবার করে অনাস্থার মুখোমুখি হয়েছেন লাল বাহাদুর শাস্ত্রী ও নরসিমা রাও। তবে তাঁদের সরকারও পড়েনি অনাস্থায়। আস্থা ভোটে সফল হয়েছেন তাঁরা। মোরারজি দেশাই দুবার অনাস্থার মোকাবিলা করেছেন। আর নরেন্দ্র মোদী দুবার করতে চলেছেন। জওহরলাল নেহরু, রাজীব গান্ধী, অটলবিহারী বাজপেয়ী, এইডি দেবেগৌড়া ও ভিপি সিংকে একবার করে অনাস্থার মোকাবিলা করতে হয়েছে।

অটলবিহারী বাজপেয়ী, এইডি দেবেগৌড়া ও ভিপি সিংকে হার মানতে হয়েছিল অনা্স্থায়। তাঁরা আস্থা অর্জন করেত না পারায় সরকারের পতন হয়েছিল। বুধবার কংগ্রেসের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ বিরোধীরা ইন্ডিয়ার মঞ্চের পক্ষ থেকে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করে। শুক্রবার সেই প্রস্তাবের উপর আলোচনায় স্থির হয় সোমবার ভোটাভুটি হবে। তবে এবারও অনাস্থা প্রস্তাবে বিজেপি সরকার নিরাপদেই থাকবে বলে রাজনৈতিক মহলের মত।
কারণ এককভাবে বিজেপির সদস্য সংখ্যা ২৭৩। আর এনডিএ-র সদস্যা সংখ্যা ৩১২। সেখানে সরকার পড়ে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা থাকছে না। কংগ্রেসের নেতৃত্বে সম্প্রতি যে ইন্ডিয়া নামে বিরোধী মঞ্চ তৈরি হয়েছে, সেই 'ইন্ডিয়া'র পক্ষে সমর্থনকে আরও একবার ঝালিয়ে নেওয়াই এই অনাস্থার উদ্দেশ্য।












Click it and Unblock the Notifications