অ্যাপাচে হেলিকপ্টার রয়েছে এমন এলিট দেশের তালিকায় এখন ভারত, আর কোন দেশ রয়েছে দেখুন এক নজরে
আকাশ দাপিয়ে বেড়ায় এই চপার। অব্যর্থ লক্ষ্য। দুর্ধর্ষ গতি। ভয়ঙ্কর ক্ষিপ্রতার সঙ্গে টার্গেট করে শত্রুপক্ষকে। নিমেষের মধ্যে ধরা ছোঁয়ার বাইরে চলে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে এই অ্যাপাচে অ্যাটাক চপার।
আকাশ দাপিয়ে বেড়ায় এই চপার। অব্যর্থ লক্ষ্য। দুর্ধর্ষ গতি। ভয়ঙ্কর ক্ষিপ্রতার সঙ্গে টার্গেট করে শত্রুপক্ষকে। নিমেষের মধ্যে ধরা ছোঁয়ার বাইরে চলে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে এই অ্যাপাচে অ্যাটাক চপার। অ্যাপাচে আসলে একটি ফরাসী শব্দ। যার অর্থ গুণ্ডা বা মস্তান। সেই গুণ্ডা বা মস্তান দমনকারী যান হিসেবে এই বিশেষ ভাবে দক্ষ চপারটির নাম দেওয়া হয়েছে অ্যাপাচে অ্যাটাক চপার। ভারতের আগেও একাধিক দেশ এই চপারটি ব্যবহার করে আসছে।

আমেরিকা
আমেরিকাই এই মারণ চপারের নির্মাতা। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে সেটি। অ্যাপাচে অ্যাটাক চপারের অধিকাংশই এখন তারা ব্যবহার করছে সৌদি আরব, ইরাক, কুেয়তের গৃহযুদ্ধ দমনে। অপারেশন ডেসার্ট স্টর্মে প্রথম অ্যাপাচে চপার ব্যবহার শুরু করেছিল আমেরিকা। ইরাকে গৃহযুদ্ধ দমনে একসঙ্গে ২৭৭টি অ্যাপাচে ব্যবহার করেছি আমেরিকা। প্রায় ২৭৮টি ট্যাঙ্কার ধ্বংস করেছিল এই অ্যাপাচে। আফগানিস্তানে তালিবান দমনেও এই অ্যাপাচে চপার ব্যবহার করেছে ন্যাটো বাহিনী। মসুল দখলেও এই অ্যাপাচে ব্যবহার করা হয়েছিল।

ইজরায়েল
ইজরায়েল বায়ুেসনার কাছেও রয়েছে এই অ্যাপাচে অ্যাটাক চপার। ১৯৯০ সাল থেকেই ইজরায়েল বায়ুয়েনাই সংযুক্তি হয়েছে এই চপারের। ২০০৬ সালে লেবাননের যুদ্ধে এই চপারের ব্যবহার করা হয়। ২০০৮ সালে হামাসের বিরুদ্ধে গাজায় ব্যবহার করা হয়েছিল এই অ্যাপাচে চপার। ২০১৮ সালে আরও আধুনিকীকরণ করানো হয়।

ব্রিটেন
ব্রিটিশ আর্মির কাছেও রয়েছে অ্যাপাচে অ্যাটাক চপার। ১৯৯৫ সাল থেকেই ব্রিটিশ বায়ুসেনার হাতে এই অত্যাধুনিক চপার চলে আসে। তারপর থেকেই সেটির ব্যবহার চলছে। ২০১৫ সালে আরও আধুনিকী করণ ঘটিয়ে আরও শক্তিশালী করা হয় এই চপারের।

নেদারল্যান্ড
১৯৮০ সাল থেকে অ্যাপাচে অ্যাটাক চপারের প্রতি আগ্রহ দেখাতে শুরু করেছিল ডাচ সরকার। ১৯৯৪ সাল থেকে অ্যাপাচে চপার কেনা শুরু করে তারা। ২০০২ সালে নেদারল্যান্ডে রয়্যাল আর্মির হাতে এসে পৌঁছয় এই চপার। ২০১৭ সালে কাবুলের কাছে ডাচ বায়ুসেনার গুলি বর্ষণের ঘটনার সময় প্রথম দেখা মেলে এই অ্যাপাচে অ্যাটাক চপারের। ২০১৮ সালে আরও অত্যাধুনির অ্যাপাচে চপারের অর্ডার দেয় নেদারল্যান্ড।

সৌদি আরব
১৯৯১ সালে গলফ যুদ্ধের সময় থেকেই সৌদি আরবের আকাশে অ্যাপাচে চপার উড়তে শুরু করেছিল। তারপরেই ২০১৬ সালে সৌদি আরব প্রায় ১২টি অ্যাপাচে চপার কেনে আমেরিকার থেকে। অপারেশন স্করচড আর্থের সময় প্রথম এই চপার ব্যবহার করে সৌদি আরব। ২০১০ সালে আরও ৭০টি অ্যাপাচে চপার কেনার অর্ডার দেয় তারা। তারপর থেকে একাধিক অভিযানে এই চপার ব্যবহার করেছে সৌদি আরব।

মিশর
মিশরের কাছেও রয়েছে এই মারণ চপার। ১৯৯৫ সালে আমেরিকাকে এই চপার কেনার অর্ডার দিয়েছিল মিশর। ২০০০ সালে তার অনুমোদন দেয আমেরিকা। তারপর ২০০৯ সালে ১২টি অ্যাপাচে অ্যাটাক চপার হাতে পায় মিশরের বায়ুসেনা। ২০১৫ সালে এই অ্যাপাচে চপার দিয়েই মরুভূমিতে বিদেশি পর্যটকদের জঙ্গি ভেবে হামলা চালিয়েছিল বায়ুসেনা। তাতে ১২ জন মারা যায়, আহত হয়েছিল ১০ জন।

ভারত
এই তালিকায় আরও এক দেশ সংযোজিত হল। ভারতও এবার অ্যাপাচে অ্যাটাক চপারে সমৃদ্ধ হচ্ছে। আজই পাঠানকোট বায়ুসেনা ঘাঁটিতে এসে পৌঁছেছে আটটি অ্যাপাচে অ্যাটাক চপার। পাকিস্তানের সঙ্গে চরম পরিস্থিতিতে এই মারণ চপারের বায়ুসেনাতে যুক্ত হওয়ায় অত্যন্ত তাৎপর্য পূর্ণ।

অন্যান্য দেশ
এই কয়েকটি দেশ ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি দেশের হাতে রয়েছে অ্যাপাচে অ্যাটাক চপার। আরব আমিরশাহী, কুয়েত, গ্রিস, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, তাইওয়ান এবং দক্ষিণ কোরিয়া।












Click it and Unblock the Notifications