Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

Manmohan Singh: মাথায় ঝুলছিল পদ খোয়ানোর খাঁড়া, ৯১'র সংস্কার এনে অর্থনীতির ধসের মুখে 'ত্রাতা' হলেন মনমোহন

Manmohan Singh: ভারতীয় অর্থনীতিকে (Economy) ধসে পড়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছিলেন মনমোহন সিং। ১৯৯১ সালের অর্থনৈতিক সংস্কার (Financial Reforms) তাই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। দেশের ব্যাঙ্কব্যবস্থা দেউলিয়া (Bankruptcy) হতে হতে বেঁচে গিয়েছিল তৎকালীন অর্থমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের হাত ধরে। নরশিমা রাওয়ের (PV Narshima Rao) মন্ত্রিসভা থেকে যখন তখন পদ চলে যাওয়ার খাঁড়া ছিল মাথায়। কিন্তু দক্ষ হাতে সবটা সামলে নিয়েছিলেন মনমোহন।

দিল্লির এইমস হাসপাতালে ৯২ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া গোটা দেশজুড়ে। ভারতের অর্থনীতি থেকে রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা অপরিসীম। ১৯৯১ সালের মাঝামাঝি সময়ে অর্থনীতিতে আঁধার নেমে এসেছিল ভারতে। থিতিয়ে পড়েছিল বিদেশি পুঁজি, দুই অঙ্কে পৌঁছে গেছিল মুদ্রাস্ফীতির হার, রাজকোষে ঘাটতির পরিমাণ ছিল মারাত্মক।

manmohan

এমন সময়ে অর্থনীতির চাকা ঘুরে দাঁড় করানোর দায়িত্বভার পৌঁছয় মনমোহনের উপর। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পি ভি নরশিমা রাওয়ের অনুমোদন ছিলই। আর তাই একের পর এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ ঘোষণা করেছিলেন রাওয়ের অর্থমন্ত্রী মনমোহন। বেনজির ও বেসামাল অর্থনীতিতে দ্রুত সুরাহার প্রয়োজন ছিল। হলও তাই।

ওই বছরই জুলাইতে ভারতীয় মুদ্রার দু'দুবার অবমূল্যায়ন ঘটিয়ে রপ্তানির বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ানো হয়েছিল। যার জেরে বিদেশি মুদ্রা অর্জনে এগিয়ে গিয়েছিল ভারত। ওই একই সময়ে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্কগুলিতে ৪৭ টন সোনা বন্দক রেখে ৬০ কোটি ডলার ঋণ নিয়েছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্কও। অর্থব্যবস্থায় অধোগতি রোধে আইএমএফ থেকে আরও ২০০ কোটি ডলার জরুরি ভিত্তিতে ঋণ নিয়েছিল ভারত।

তবে উপরে বলা পদক্ষেপগুলি ছিল শুধুই ট্রেলার। ওই বছরেই ২৪ জুলাই প্রথম বাজেট প্রকাশ করেন মনমোহন সিং। লাইসেন্স রাজের বিনাশ ঘটিয়ে বাজেটে বিদেশি বিনিয়োগের শর্তাবলী শিথিল করা হয়। ৫১ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। যদিও অর্থনৈতিক সংস্কারের জন্য মাশুলও গুনতে হয়েছিল। বাড়তি কর্পোরেট ট্যাক্স গুনতে হয়েছিল জনতাকে। রান্নার গ্যাস, চিনিতে ভর্তুকি কমিয়ে জ্বালানির খরচ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।

তবে মনমোহনের মাথায় ঝুলছিল পদ খোয়ানোর খাঁড়া। মনমোহনের মেয়ে দমন সিং বাবার জীবনীতে লিখেছেন সেই কথা। জানা যায়, মজার ছলে প্রধানমন্ত্রী নরশিমা রাও মনমোহনকে বলেছিলেন, "যদি সবকিছু ঠিক থাকে তাহলে আমরা সবাই সেই কৃতিত্ব নেব। কিন্তু যদি হিতে বিপরীত হয়েছে, তাহলে মনমোহনকেই অর্থমন্ত্রী পদ থেকে বহিষ্কার করা হবে।" ১৯৯১ সালের বাজেট বক্তৃতায় মনমোহন সিং অবশ্য আত্মবিশ্বাস রেখেই বলেছিলেন, "যে পরিকল্পনা গ্রহণের সময় এসে গিয়েছে, তাকে বিশ্বের কোনও শক্তিই আটকাতে পারবে না।"

অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রবণতা জিইয়ে রেখেছিল নরশিমা রাওয়ের সরকার। একে বাণিজ্যনীতি শিথিল করা, করব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। সেই সমস্ত কমিটির মাথায় ছিলেন রাজা চেলিয়া, এম নরসিংহমরের মতো অর্থনীতিবিদরা। ওই সমস্ত সংস্কারের জেরে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হতে শুরু করেছিল। অত্যাধুনিক শিল্পের ছোঁয়ায় বৃদ্ধির হারও ঊর্ধ্বগতিতে বাঁক নিতে শুরু করেছিল।

আর তাই পরিশেষে বলতে হয়, মনমোহনের অবদান শুধু যুগান্তকারী পদক্ষেপেই নয়, বরং ভারতও যে আগামিদিনে ঘুরে দাঁড়াতে পারে সেই বিশ্বাসের উপর জোর দিতেন তিনি। তাঁর অনমনীয় মনোভাব ও কঠিন কঠিন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা দেশকে যে অনেকটাই উত্তরণের পথে এগিয়ে দিয়েছে তা সন্দেহাতীত।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+