জিগনেশ-হার্দিক-অল্পেশের কী প্রভাব পড়ল এবারের গুজরাত নির্বাচনে
প্রায় তিন দশক পরে গুজরাত নির্বাচনে বড় ভূমিকা নিল জাত-পাতের রাজনীতি। সৌজন্য ত্রয়ী যুব নেতা। পতিদার নেতা হার্দিক প্যাটেল, দলিত নেতা জিগনেশ মেওয়ানি ও ওবিসি নেতা অল্পেশ ঠাকোর।
প্রায় তিন দশক পরে গুজরাত নির্বাচনে বড় ভূমিকা নিল জাত-পাতের রাজনীতি। সৌজন্য ত্রয়ী যুব নেতা। পতিদার নেতা হার্দিক প্যাটেল, দলিত নেতা জিগনেশ মেওয়ানি ও ওবিসি নেতা অল্পেশ ঠাকোর। এই তিনজনই একেবারে প্রথম থেকে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন বিজেপির বিরুদ্ধে।

তিনজনের এতটাই প্রভাব ছিল ভোটে যে শেষ পর্যন্ত কোমর বেঁধে ভূমিপুত্র নরেন্দ্র মোদীকেও তেড়ে প্রচার সারতে হয়েছে ভোটের। ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রীকে প্রচারের দায়িত্ব তুলে নিতে হয়েছে নিজের কাঁধে। আর এই তিনজনই জোট বেঁধেছে কংগ্রেসের সঙ্গে। যার ফলে বিরোধী জোট দারুণ শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল।
এই ত্রয়ীর প্রভাব কিন্তু দেখা গিয়েছে ভোটবাক্সে। সৌরাষ্ট্রে পতিদার অধ্যুসিত এলাকায় বিজেপি বেশি ভোট পায়নি। আরও নানা জায়গায় বিশেষ করে সংখ্যালঘু এলাকায় ও দলিত-ওবিসি অধ্যুসিত এলাকায় বিজেপি সেভাবে দাগ কাটতে পারে। সৌজন্যে কংগ্রেস নয়, এই তিন যুব নেতার হাত।
তবে বিজেপি সুকৌশলে প্রচারের অভিমুখকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে পেরেছিল। উন্নয়ন বনাম পরিবারতন্ত্র। এর মধ্যে মানুষ কোনটা বেছে নেবেন? প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছিলেন বিজেপি নেতারা। লক্ষ্য ছিলেন রাহুল গান্ধী। কারণ তিনি সদ্য মায়ের কাছ থেকে সভাপতির ব্যাটন তুলে নিয়েছেন নিজের হাতে। আর এভাবেই রাহুলকে নিশানা করে পরিস্থিতি বেশ কিছুটা সামাল দিয়েছে বিজেপি।
তবে তাতে জিগনেশ, হার্দিক ও অল্পেশের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি। বরং কংগ্রেসকে পাশে পেয়ে তিনজনেই আরও শক্তিশালী হয়েছেন। আবার উল্টোটাও হয়েছে। এই তিনজনের কংগ্রেসের হয়ে প্রচার বিরোধী মঞ্চকে শক্তিশালী করেছে। সৌরাষ্ট্রে পতিদার এলাকায় যেমন বিজেপি বেশ দুর্বল ফলাফল করেছে। তেমনই নিজের ঘরের এলাকায় ভাদগমেও বিজেপির চ্যালেঞ্জ বেশ কঠিন ছিল। উঞ্ঝায় কংগ্রেসের কাছে হারতেও হয়েছে।
তবে ঘটনা হল, শুধু এই নির্বাচনের প্রেক্ষিতে এই তিন যুব নেতার গুরুত্ব বিচার করলে হবে না। এরা সবে পথ চলা শুরু করলেন। প্রথমবারেই যতটা কাঁপুনি এরা বিজেপিতে ধরিয়েছেন, তাতে আগামিদিনে রাজনীতিতে পরিপক্ক হলে আরও অনেক কামাল জিগনেশ-হার্দিক-অল্পেশ ত্রয়ী দেখাতে পারেন।












Click it and Unblock the Notifications