Maha Kumbh Mela 2025: কেমন জীবন যাপন করেন অঘোরিরা? কেন তারাও আকর্ষণের কেন্দ্রে রয়েছে কুম্ভ মেলায়?
অঘোরি সাধু, তাদের অপ্রচলিত অনুশীলন এবং অনন্য আধ্যাত্মিকতার জন্য পরিচিত। তারা সর্বদা আস্তিক এবং নাস্তিক উভয় প্রকৃতির মানুষদেরকেই কৌতূহলী করে তুলেছে। এই তপস্বী, যারা ভগবান শিবের উপাসনায় বিশ্বাসী, প্রায়শই শ্মশানে ধ্যানের অনুশীলনে নিযুক্ত হন এবং এমন আচার ব্যবহার করেন যা বহিরাগতদের কাছে অদ্ভুত বলে মনে হতে পারে। অঘোরিরা গভীর, আধ্যাত্মিক দার্শনিক এবং মুক্তির চূড়ান্ত লক্ষ্য নিয়ে বিশ্বাসী।
অঘোরিদের প্রায়ই মহাকুম্ভের মতো অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় আকর্ষণ হিসেবে দেখা হয়। শুধুমাত্র নাগা সাধুরা নন, তাঁদের সম্পর্কেও মানুষ জানতে আগ্রহী। অন্যান্য তপস্বীদের থেকে ভিন্ন হন আঘোরিরা। অঘোরি গোষ্ঠীগুলি ছোট হয়, কেননা অনেকে একক জীবনযাপন করতে পছন্দ করেন এই ক্ষেত্রে। তারা প্রাথমিকভাবে তান্ত্রিক অনুশীলন এবং ধ্যানের উপরই বেশি জোর দেয়।

'অঘোর' শব্দের অর্থ "কঠোর নয়" অর্থাৎ তাদের চূড়ান্ত সাধনায় সরলতা এবং ভদ্রতাকে বোঝান হয়। এই 'অঘোর' শব্দ থেকেই জন্ম নেয় 'অঘোরিরা'। যদিও অঘোরি সাধুরা তাদের চেহারা বা ক্রিয়াকলাপ অদ্ভুত রাখে, যা দেখে বহু মানুষই ভয় পান।
একজন অঘোরি হওয়ার প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ জড়িয়ে থাকে। যার শুরুতেই রয়েছে একজন যোগ্য গুরুর সন্ধান। একবার সঠিক গুরু পাওয়া গেলে, উচ্চাকাঙ্ক্ষা কে বিসর্জন দিয়ে সম্পূর্ণরূপে গুরুর শিক্ষার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে হবে। এই যাত্রা শুরু হয় হিরিত দীক্ষা দিয়ে। যেখানে গুরু শিষ্যকে একটি বীজ মন্ত্র দিয়ে সূচনা করেন এবং শিষ্যকে অবশ্যই এটিকে অধ্যবসায়ের সাথে ধ্যান করতে হয়।
দ্বিতীয় পর্যায়ে শিরিত দীক্ষা জড়িত। যেখানে গুরু শিষ্যের হাত, ঘাড় এবং কোমরে একটি কালো সুতো বেঁধে দেন এবং তাদের আধ্যাত্মিক যাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ম শেখান। এই নির্দেশিকাগুলি অবশ্যই কঠোরভাবে অনুসরণ করা উচিত। কেননা তা করতে ব্যর্থ হলে শিষ্যের দীক্ষা প্রক্রিয়ার অগ্রগতি রোধ হবে।
তৃতীয় এবং চূড়ান্ত পরীক্ষা হল রামভাত দীক্ষা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। এখানে, শিষ্য তাদের জীবন এবং মৃত্যুর উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গুরুর কাছে সমর্পণ করে। এই পর্যায়ে গুরু যদি শিষ্যের জীবন দাবি করেন, তবে তারা তা মেনে চলবেন বলে আশা করা হয়। শুধুমাত্র যারা বেশ কিছু কঠোর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় তাদের রামভাত দীক্ষা দেওয়া হয়। যেখানে গুরু তান্ত্রিক আচার এবং অতিপ্রাকৃত ক্ষমতা সহ অঘোর অনুশীলনের গভীর, গোপন জ্ঞান প্রদান করেন।
অঘোরিরা শ্মশানে তাদের ধ্যান করার জন্য পরিচিত, যেখানে তারা ভগবান শিবের সাথে সংযোগ স্থাপনের জন্য তীব্র অনুশীলনে বসেন। তারা প্রায়শই মৃতদেহের উপর ধ্যান করে থাকেন। তাদের আধ্যাত্মিক বৃদ্ধির জন্য একটি হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করা হয় মৃতদেহদের। আবার কখনও কখনও তাদের আচারের অংশ হিসাবে মৃতদের খাবারও দেওয়া হয়। শ্মশানগুলিকে ধ্যান করার চূড়ান্ত স্থান বলে মনে করা হয়। কারণ তারা জীবন ও মৃত্যুর চক্রকে প্রতিনিধিত্ব করে।
অঘোরিদের প্রথার প্রধান স্থানগুলির মধ্যে রয়েছে কামাখ্যা পীঠ, ত্রিম্বকেশ্বর এবং উজ্জয়িনের চক্রতীর্থ শ্মশানের শ্মশান। তাদের রহস্যময় অনুশীলনের মাধ্যমে, অঘোরিরা বিশ্বাস করে যে তারা শক্তিশালী আধ্যাত্মিক শক্তি অর্জন করছে। আর এই ভাবেই চলে অঘোরিদের জীবন।












Click it and Unblock the Notifications