Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

মহারাষ্ট্রের পৌরভোটে কীভাবে দেবেন্দ্র ফড়নবিশ ও রবীন্দ্র চবন বিজেপির ব্যাপক জয় নিশ্চিত করলেন, জানুন

মহারাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পৌরসভা নির্বাচন স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে, নগর ভারতের এই গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে ভোটাররা উন্নয়নমুখী প্রশাসনের হাতেই আস্থা রেখেছেন। মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ শহুরে জনমানসে জোর দিয়েছিলেন "ডেভেলপড মহারাষ্ট্র"এর স্বপ্নে। নির্বাচনের ফল জানিয়ে দিল, শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, দিকনির্দেশনা ও সিদ্ধান্তক্ষম নেতৃত্বকেও গুরুত্ব দিচ্ছে নগর ভোটাররা।

এই জয়ের আরেক স্তম্ভ বিজেপি রাজ্য সভাপতি রবীন্দ্র চবন। শহরাঞ্চলের ভোটাভ্যাস, সংগঠন পরিচালনা ও বুথ থেকে প্রচার সব ক্ষেত্রেই তাঁর কৌশল ফুটে উঠেছে। গত জানুয়ারিতে দায়িত্ব নিয়ে বিশাল সদস্যপদ অভিযানে নেমেছিলেন তিনি। দেড় কোটির লক্ষ্য আগেই ছোঁয়া যায়, ফলে ভোট হওয়ার আগেই বিজেপি তৈরি করে ফেলেছিল শক্ত মাটির ভিত্তি।

বিজেপির সাংগঠনিক সাফল্যের ঘরানা বরাবরই নীতিকে বাস্তবায়নের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়ায়। প্রার্থী বাছাই থেকে বুথ পরিকল্পনা, প্রচারসূচি থেকে প্রতিপক্ষের দুর্বলতা ফড়নবিশ ও চবনের যুগ্ম সিঙ্কই এবার বড় নজর কেড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার ও দলে এই সেতুবন্ধনই 'অপ্রত্যাশিত' সাফল্যকে সহজ করেছে।

প্রচারের সময় রবীন্দ্র চবনকে নিয়ে ব্যক্তিগত কটাক্ষ ও আক্রমণ থামেনি বিরোধীর মুখে। কিন্তু বিজেপি রাজনৈতিক কাঁদা ছোড়াছুড়িতে না গিয়ে ধরেছিল উন্নয়ন, শাসন ও জনসংযোগের সুর। ভোটের ফল রায় দিল বিরোধীর ব্যক্তিগত সমালোচনা অপ্রাসঙ্গিকই রয়ে গেল ভোটারদের কাছে।

চবনের রাজনৈতিক জীবনের দুই দশকই তাঁর জন্য ছিল শিক্ষা ও পরিণতির সময়। জনপথে ঘুরে কাজ করা, বিশেষত জনপথ ও নির্মাণ মন্ত্রীর দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে গোটা রাজ্যে ঘন সম্পর্ক তৈরি করেন তিনি। সে ঐ যোগাযোগ এবার শহুরে মহলে কাজে লেগেছে।

ফড়নবিশ বুঝেছিলেন সবসময় রাজনীতিতে সক্রিয়, নির্বাচন সচেতন ও শহুরে বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন দলীয় সভাপতি দলকে অন্য স্তরে তুলতে পারে। প্রশাসনে ফড়নবিশের শাসনমুখী ভাবনা ও চবনের সাংগঠনিক দৃষ্টিকে এক জায়গায় এনে বিজেপি গড়েছে ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক মডেল, যেখানে 'ভিশন' মেলে 'এক্সিকিউশন' এর সঙ্গে।

নগর মহারাষ্ট্রে এই মডেলের সবচেয়ে বড় প্রমাণ মিলল শুক্রবার বৃহত্তম নগর সংস্থা বিএমসিতে বিজেপি শিব সেনা জোটের দখল। শুধু মুম্বই নয়, আরও ১৯টি পৌরসংস্থায় একক বৃহত্তম দল বিজেপি। মিত্রদের সহায়তায় মোট ২৩টি নাগরিক সংস্থায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনডিএ জোটের দখলে।

পুনে ও পিম্প্রি চিঞ্চওয়াড়ে বিজেপি নিজের মিত্র অজিত পওয়ার গোষ্ঠীকেও পিছনে ফেলেছে। শহুরে রাজনীতিতে সম্প্রসারণ এটাই যেন বিজেপির বড় পাঠ।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভোটারদের ধন্যবাদ জানিয়ে মুম্বইকে বলেছেন "জাতির গর্ব", সংস্কৃতি, উন্নয়ন ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতীক। তিনি উন্নত নগর শাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মহারাষ্ট্রবাসীকে।

২০১৫ থেকে ১৮ এর তুলনায় এবার বিজেপির গ্রাফ আরও উপরে। তখন ১৫টি পৌরসংস্থায় জয় পেয়েছিল বিজেপি, শিব সেনার সঙ্গে মিলে ছিল ২০টি সংস্থার নিয়ন্ত্রণে। বিএমসিতে এবার বিজেপির ৮৯, শিব সোনার ২৯ দুইয়ে মিলে সহজেই পেরিয়ে গেছে ১১৪ এর সংখ্যাগরিষ্ঠতা।

মুম্বইয়ে উভয় ঠাকরে শিবসেনা, কংগ্রেস, এনসিপি ও মনসের উপস্থিতি থাকলেও বিজেপি জোটই রেখেছে দৌড়ে দাপট। ২৯টি পৌর সংস্থায় এআইএমআইএমও নজর কেড়েছে ৯৫ আসন নিয়ে।

নির্বাচন পরবর্তী হিসেব বলছে এটা শুধু বিজেপির একবারের বিজয় কাহিনী নয়, এটা নগর মহারাষ্ট্রে রাজনৈতিক মানচিত্র বদলের ইঙ্গিত। আর এই পরিবর্তনের পেছনে মূল স্থপতি ফড়নবিশ ও চবন একজন কৌশলী প্রশাসক, অন্যজন সংগঠন সম্রাট।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+