পুলওয়ামার প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তানে এয়ারস্ট্রাইকের ছক কীভাবে কষেছিল বায়ুসেনা!রুদ্ধশ্বাস কাহিনি একনজরে
চলছিল ওয়েস্টার্ন এয়ার কমান্ড প্রধান এয়ার মার্শাল সি হরি কুমারের বিদায় সম্বর্ধনা। ভারতীয় বায়ুসেনার আকাশ মেস-এ তখন তাবড় সেনা অফিসাররা। অনেকেই আবেগপ্রবণ আবার অনেকের মুখেই তখন হাসির ঝলক । পার্টির মেজাজ তখন তুঙ্গে। পার্টিতে হাজির ছিলেন তৎকালীন বায়ুসেনা প্রধান বিএস ধনোয়া। সব কিছুই ছিল স্বাভাবিক। তবে রাতের এই পার্টিতে হাজির থাকা কয়েকজন বায়ুসেনা অফিসারই তখন জানতেন যে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্য কত বড় ইতিহাস ভারতীয় বায়ুসেনা রচনা করতে চলেছে। জঙ্গি অধ্যুষিত পাকিস্তানের বালাকোটে ততক্ষণে কিভাবে হামলা করবে, তার ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করে ফেলেছিল ধনোয়ার নেতৃত্বাধীন ভারতীয় বায়ুসেনা।

২৪ ঘণ্টার মাথায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তৈরি পকিকল্পনা
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। এক রক্তাক্ত ইতিহাসের সাক্ষী ছিল গোটা দেশ। সেদিনের দুপুরবেলায় ভারতীয় সেনার কনভয়ে নারকীয় হামলা চালায় পাকিস্তান আশ্রিত জঙ্গি আদিল দার। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভারতীয় বায়ুসেনার ওপর দায়িত্ব পড়ে এই ঘটনার পাল্টা 'জবাব' দেওয়ার। তৈরি হয়ে যায় ভারতীয় বায়ুসেনা।

কেন্দ্রের তরফে বায়ুসেনাকে কোন নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল?
নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকার সেই সময় দুই সপ্তাহের সময় দিয়েছিল ভারতীয় বায়ুসেনাকে। বলা হয়েছিল, বায়ুসেনা যেন নিজের মতো করে পাকিস্তানের কোন জঙ্গি শিবিরকে নিশানা করবে , তা নির্ধারণ করে নেয়। শুধুমাত্র ৩ জন অফিসার প্রাথমিকভাবে এই হামলার পরিকল্পনার কথা জানতেন। যাঁদের নাম কোনও মতেই প্রকাশিত না করার নির্দেশ রয়েছে।

পাকিস্তানের পদক্ষেপ আঁচ করে পরিকল্পনা
বায়ুসেনা জানতে পেরেছিল যে, পাকিস্তান ফের একবার স্থলপথে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের আঁচ করে বসে রয়েছে। আর তাদের চমক দিতেই ডাক পড়ে বায়ুসেনার। শুরু হয়ে শ্ত্রু শিবিরে হামলার ছক।

২১ ফেব্রুয়ারি কী ঘটেছিল?
২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যরাতে হামলা হয়েছিল পাকিস্তানের বালাকোটে। তার আগে ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে কেন্দ্রের কাছে নিজের তালিকা পাঠায় বায়ুসেনা। সেখানে যে জঙ্গি শিবিরগুলিকে তারা নিশানায় রাখতে চাইছে, তার নাম ছিল। আর সেই নামের তালিকায় সবচেয়ে উপরে ছিল জইশ ঘাঁটি বালাকোটের 'জাবা টপ'।ততক্ষণে ভারতীয় গোয়েন্দারা বলে দিয়েছিলেন যে ওই এলাকায় ৩০০ জন জঙ্গি আপাতত রয়েছে। আর এই জইশই ছিল পুলওয়ামাকাণ্ডের মূল চক্রী। ফলে মুহূর্তে নিশানা ঠিক করে ফেলা যায়।

পাকিস্তানের চোখ ধাঁধিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা
এরপর আসে সেই বহু প্রতিক্ষিত মুহূর্ত। রাতের অন্ধকার তখন ঘনীভূত। ২০ টি মিরাজ ২০০০ যুদ্ধবিমান নিয়ে ভারত থেকে পাকিস্তানের দিকে এগিয়ে গিয়েছিল ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান। পাঞ্জাব ও মধ্যপ্রদেশ এয়ারবেস থেকে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে শত্রু শিবির আক্রমণে ততক্ষমে ব্রতী ভারতীয় সেনার সাহসী সৈনিকরা। একটি বিমান রাজস্থানের প্রান্তে উড়ে গিয়েছিল। যার মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল , পাকিস্তানকে বিপথে চালিত করা। যাতে পাকিস্তানভাবে রাজস্থান সংলগ্ন পাকিস্তানের বাহওয়ালপুরে ভারত হামলা করবে। এরপর আকাশপথে রাজকীয় চালে 'ফরমেশন' তৈরি করে ভারতীয় বায়ুসেনা। যাকে চেয়েও আটকাতে পারেনি পাকিস্তান। মুহূর্তে পাকিস্তানের আকাশপথে ঢুকে, চোখের নিমেষে বালাকোটে হামলা চালান বায়ুসেনার সাহসী যোদ্ধারা।

পাকিস্তান ততক্ষণে বিভ্রান্ত!
এদিকে, বালাকোটে যখন ভারতীয় সেনার যুদ্ধবিমান হামলা শানাচ্ছে, তখন বায়ুসেনার আরও দুটি বিমান শিয়ালকোট, লাহোর ব়্যাডারে নিজেকে তুলে ধরেছে। যাতে পাকিস্তান বায়ুসেনার মনে হয় যে শিয়ালকোটে ভারত হামলা চালাবে। এমন বিভ্রান্তি থেকে পাকিস্তান ঘুরপাক খেতে খেতেই এয়ারস্ট্রাইক পর্ব শেষ করে অক্ষত অবস্থায় ফিরে আসে ভারতের ১২ টি মিরাজ। উল্লেখ্য, মোট ২০ টি মিরাজ ভরাত থেকে উড়লেও, ১২ টি মিরাজ ২০০০ বালাকোট এয়ারস্ট্রাইক চালিয়েছিল। আর সেই সঙ্গে পুলওয়ামাকাণ্ডের 'কড়া' জবাব ইসলামাবাদকে দিয়ে দেয় দিল্লি।












Click it and Unblock the Notifications