হিন্দু মহিলার হাতে মেহেন্দি করবে হিন্দুরাই, করবা চৌথের আগে নয়া ফতোয়া হিন্দু মহাসভার
করবা চৌথের আগে নয়া ফতোয়া জারি করল হিন্দু মহাসভা। তাঁরা রীতিমত হুমকি দিয়েছে। হিন্দু সংগঠনটি বলেছে যে, " হিন্দু মহিলাদের হাতে শুধু মাত্র হিন্দু মহিলারাই মেহেন্দি লাগাতে পারবে। অন্য কোনও জাতির যদি কেউ হিন্দু মহিলাদের হাতে এই হেনা লাগাতে যায় তাহলে তাঁর পরিনতি খুব খারাপ হবে। তাঁরা আবার মুজাফফরনগরে 'লাঠ পূজা' নামে একটি বিশেষ পুজোর আয়োজনও করেছে। আর তা নিয়ে তাঁরা বলেছে যে যদি কেউ কোনও ভুল কাজ করে থাকে তাহলে এই লাঠি ব্যাবহার করা হবে।

কি যুক্তি হিন্দু মহাসভার?
হিন্দু মহাসভার বরিষ্ঠ সদস্য লুকেশ সাইনি এই লাঠ পূজার সপক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছেন যে, " এটা আমরা আমাদের মা বোনেদের রক্ষা করার জন্য করছি। আমরা চাইনা ওঁরা লাভ জিহাদের সংস্পর্শে আসুক। এটা করা হয়েছে যাতে সব অশুভ জিনিষ ওঁদের থেকে দূরে থাকে। হিন্দু মেয়েদের মুসলিম মেহেন্দি আর্টিস্টদের থেকে দূরে থাকতে হবে। আমরা বলছি আপনারা তাঁদের কাছেই যান যারা করবা চৌথের আসল গুরুত্ব জানে এবং বোঝে"

বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রেসিডেন্ট কী বলেছেন?
ললিত মহেশ্বরী যিনি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রেসিডেন্ট , তিনি বলেছেন যে, "আমরা এর জন্য বিশেষ স্টল তৈরি করেছি। হিন্দু মহিলারা সেখানে গিয়ে হেনা করাতে পারবেন। এটা জিহাদিদের কোমর ভেঙে দেওয়ার একটা বড় পথ। এটার ফলে আমাদের যারা হিন্দু মেহেন্দি আর্টিস্ট আছে তাঁদের হাতেও বেশি করে অর্থ আসবে। বজরং দল এর দিকে কড়া নজর রাখছে। সারা শহরে তাঁরা টহলদেবে। কোনও হিন্দু মহিলার হাতে যদি মুসলিমরা হেনা লাগায় তাহলে আমরা দ্রুত পুলিশকে এর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাব। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলব।

কী বলেছে পুলিশ?
তবে এসব শুনে মুজাফফরনগরের এসএসপি বিনীত জয়সোয়াল বলেন, "কেউ উৎসবের আনন্দকে নষ্ট করতে পারবে না। যদি কেউ কারও ব্যাবসা নষ্ট করার চেষ্টা করে তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে"

হিন্দু মহসভা
হিন্দু মহসভা একটি হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠন। এই সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল উত্তর ভারতের বিভিন্ন স্থানীয় হিন্দু আন্দোলনকে একত্র করা। ১৯১৫ সালে হরিদ্বারের কুম্ভমেলায় মদনমোহন মালব্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন 'অখিল ভারতীয় হিন্দু মহাসভা'। হিন্দু মহাসভার অন্যান্য প্রতিষ্ঠাতা ১৯২০ দশকে সংগঠনটিকে কংগ্রেসের আদলে ঢেলে সাজানো হয়েছিল। ভারতের অধিকাংশ অঞ্চলে এর শাখা তৈরি করা হয়েছিল। এই সংগঠন হিন্দু ও অস্পৃশ্যদের মধ্যে সামাজিক ও ধর্মীয় কর্তব্যসমূহ, গোরক্ষা ও হিন্দি ভাষা বিস্তারের ওপর জোর দেয়। কংগ্রেসের রাজনৈতিক কৌশলের কারণে যখন হিন্দু স্বার্থ বিপন্ন বলে মনে করা হতো, সংগঠনটি হিন্দুস্বার্থ রক্ষার দিকেই বেশি মনোযোগী ছিল। মূলত ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ এই দুই ভাবধারার বিপরীতে এই সংগঠন তৈরি হয়।












Click it and Unblock the Notifications