নেহরু অসমকে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দিতে চেয়েছিলেন , ভোটের আগে কংগ্রেসকে আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রীর
সামনেই অসমে রয়েছে ভোট। তার আগে লেগে গেল কংগ্রেস বিজেপি বাকযুদ্ধ। তাও দুজনে সম্পূর্ণ অন্য দেশে থাকা অবস্থায়। রাহুল অসম নিয়ে লন্ডনে একটি মন্তব্য পেশ করেন। আর তারই পালটা দিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। আসলে রাহুল গান্ধীর মন্তব্য অনুযায়ী অসম স্বাধীনতার পরে ভারতের সঙ্গে থাকবে কী থাকবে না তা নিয়ে চুক্তি করে তবে ভারতের মধ্যে থাকে। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা কংগ্রেস নেতা এই কথার পাল্টা দিয়ে বলেছেন নেহরু অসমকে পাকিস্তানে রাখতে চেয়েছিলেন। অসমকে ভারতে থাকার লড়াই করতে হয়েছিল।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নিন্দা করেছেন এবং বলেছেন যে আসাম ভারতের সাথে "শান্তি চুক্তি" করে ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়নি। লন্ডনের কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটিতে আইডিয়াস ফর ইন্ডিয়া সম্মেলনে রাহুল গান্ধীর অসম সহ আরও কতগুলি রাজ্য নিয়ে করা মন্তব্যের পর হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এমন প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন।
অসমের মুখ্যমন্ত্রী একটি স্যুট-বুট পরিহিত রাহুল গান্ধীর একটি ভিডিও শেয়ার করে অসম নিয়ে তাঁর টুইট করেন। সেখানে তিনি লেখেন "রাহুল যা কথা বলেছেন তা নকল বুদ্ধিজীবীরা যেমন কথা বলে ঠিক তাদের মতো। অসম ভারতের সঙ্গে থাকার জন্য কোনও 'শান্তি আলোচনা' করেনি। গান্ধীজির সমর্থনে, গোপীনাথ বোর্দোলোইকে অসমকে ভারত মাতার কাছে রাখার জন্য সংগ্রাম করতে হয়েছিল কারণ নেহেরু ক্যাবিনেট মিশন প্ল্যান অনুসারে আমাদের পাকিস্তানের সাথে থাকার জন্য রেখেছিলেন। আপনার তথ্য ঠিক করুন, মিস্টার গান্ধী," ।
লন্ডনে ইভেন্ট চলাকালীন, রাহুল গান্ধী বিজেপি এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীর বিরুদ্ধে একের পর এক আক্রমণ করেন এবং দেশে "বেসরকারি-ক্ষেত্র নিয়ে সরকার একচেটিয়া" প্রচার করছে এই অভিযোগ তুলে রাহুল কেন্দ্রীয় সরকারকে কার্যত বিদেশের মঞ্চ থেকে আক্রমণ করে যান।
এই সময়েই তিনি বলেন যে, "স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে যা পাওয়া গিয়েছিল সেটা হল কিছু রাজ্য পরিচয় এবং ধর্ম নিয়ে বেশি বেশি উদ্যোগী ছিল। সুতরাং, ভারতের নতুন লড়াই শুরু হয়েছিল এবং উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, অসম এবং তামিলনাড়ু একত্রিত হয়েছিল এবং শান্তি চুক্তি করেছিল দেশের সঙ্গে। রাজ্যগুলির এই ইউনিয়ন থেকে যার জন্য কথোপকথনের প্রয়োজন ছিল, সেই কথোপকথনের থেকে একজন ব্যক্তির একটি ভোট, নির্বাচন ব্যবস্থা, আইআইটি এবং আইআইএম এই বিষয়গুলি সংবিধানের মধ্যে চলে আসে। "।
এদিকে, বিজেপিও রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছে এবং অভিযোগ করেছে যে বিদেশের মাটি থেকে দেশ সম্পর্কে তার ঘন ঘন সমালোচনামূলক মন্তব্য করা এক ধরনের "বিশ্বাসঘাতকতা"। বিজেপির মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়া লন্ডনের ওই সম্মেলনে রাহুলের ওই মন্তব্যের জন্য কংগ্রেস নেতার উপর তীব্র আক্রমণ শুরু করেন যেখানে তিনি বলেন, "সারা দেশে কেরোসিন ছড়িয়ে দিচ্ছেন আপনারা, আপনারা আগুন লাগিয়ে দিচ্ছেন এবং আমরা এর জন্য বড় সমস্যায় পড়ব"।
"প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে তার তীব্র ঘৃণার কারণে, তিনি ভারতের বিরুদ্ধে মন্তব্য করছেন, বিজেপি নেতা একটি প্রেস কনফারেন্সে এমনটাই বলেছিলেন , যেখানে তিনি কংগ্রেসকে বিদেশে ভারত সম্পর্কে খারাপ কথা বলার বিরুদ্ধে সতর্ক করেন। ১৯৮৪ সালের শিখ বিরোধী দাঙ্গার পর থেকে দাঙ্গা উসকে দেওয়ার জন্য কংগ্রেসই সর্বত্র কেরোসিন তেল বয়ে নিয়ে যায় বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি রাহুল গান্ধীকে অপরিণত, আশাহীন, কংগ্রেসের ব্যর্থ নেতা বলে অভিহিৎ করেন যিনি প্রায়শই দেশ সম্পর্কে নেতিবাচক কথা বলেন।
ভাটিয়া বলেন, "তিনি ঘনঘন এই ধরনের মন্তব্য করে চলেছেন এবং এটা দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা"। বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্করও রাহুল গান্ধীকে তার মন্তব্যে আক্রমণ করেছেন নাম না করে। কংগ্রেস নেতার মন্তব্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জয়শঙ্কর টুইট করেছেন যে , "হ্যাঁ, ভারতীয় বিদেশ পরিষেবা পরিবর্তিত হয়েছে। তারা সরকারের নির্দেশ পালন করে। এটাকে অহংকার বলা হয় না , এটাকে বলা হয় আত্মবিশ্বাস। এবং এটিকে বলা হয় জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা।"












Click it and Unblock the Notifications