নাড্ডার রাজ্যেই কেন ধরাশায়ী বিজেপি? হিমাচল প্রদেশে কংগ্রেসের ক্ষমতা পুনর্দখলে ফ্যাক্টরই বা কী?
বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডা। তাঁর রাজ্যেই বড় ধাক্কা খেল বিজেপি। নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহের রাজ্যে যেদিন বিজেপি সর্বকালীন রেকর্ড গড়ে টানা সপ্তমবার ক্ষমতা দখল নিশ্চিত করল, সেদিনই শাসনভার থেকে বিদায় নিশ্চিত হিমাচল প্রদেশে। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ৬৮ আসনের বিধানসভায় এখনও অবধি ঘোষিত ৫৯টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস জিতেছে ৩৮টিতে, এগিয়ে রয়েছে ২টিতে। বিজেপি জিতেছে ১৮টিতে, এগিয়ে ৭টিতে। নির্দল জিতেছে তিনটি আসন।

বিগত ২ বছর ধরে বিভিন্ন ইস্যুতে বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ছবি বারেবারেই সামনে এসেছে। গুজরাতে বড় রদবদলের মাধ্যমে পার্টিতে ঝাঁকুনি দেওয়া হলেও হিমাচল প্রদেশে জয়রাম ঠাকুরকেই মুখ্যমন্ত্রী পদে রেখে দেয় বিজেপি। তবে গুজরাতের মতো এখানেও কিছু বদল করে বিদ্রোহীদের নমনীয় করা গেলে শাসক দলকে এই পরাজয়ের সম্মুখীন হতে হতো না বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এমনিতে জয়রাম ঠাকুর নরম স্বভাবের মানুষ, আগ্রাসী বা আক্রমণাত্মক নন। সেটা তাঁর অ্যাডভান্টেজ। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা হিমাচল প্রদেশের। স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা, নিজের রাজ্যে দল কীভাবে চলবে তার নিয়ন্ত্রণ নাড্ডার অঙ্গুলিহেলনেই চলেছে। দল নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগকে গুরুত্ব না দিয়ে সেই সমস্যাগুলিকে মেটানোরও চেষ্টা হয়নি। প্রচারে গিয়ে নরেন্দ্র মোদী ডাক দিয়েছিলেন, তাঁর জন্য ভোট দেওয়ার। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল তাতেও কাজ হয়নি।
নির্বাচনের এই ফলাফলের ভিত্তিতে হিমাচল প্রদেশে বিজেপির সাংগঠনিক রদবদল অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ল বলেই অভিহত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। বিধানসভা ও লোকসভা ভোটের মধ্যেও তফাতটি দেখিয়ে দিয়েছেন ভোটাররা। যেখানে বিজেপিকে লোকসভা ভোটে বিপুল আশীর্বাদ করে নরেন্দ্র মোদীর প্রতিই আস্থা দেখিয়েছেন হিমাচল প্রদেশের মানুষজন, সেখানে বিধানসভা ভোটে বিজেপিকে হারিয়ে সেখানকার নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থাই প্রদর্শন করলেন ভোটাররা। গ্রহণযোগ্য লিডারশিপের অভাবেই বিজেপির এই ভরাডুবি।
গুজরাতে ধরাশায়ী কংগ্রেস হিমাচল প্রদেশে শাসনভার বিজেপির হাত থেকে পুনরায় ছিনিয়ে নিতে চলেছে। ১৯৯০ সাল থেকেই এই রাজ্যে একটা টার্মে থাকে কংগ্রেস, আরেকটায় বিজেপি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, কংগ্রেসের এই সাফল্য কিন্তু আচমকা বা অঘটন কিছু নয়। গুজরাত নিয়ে কংগ্রেস যতটা না সিরিয়াস ছিল, তার অনেক বেশি ছিল হিমাচল প্রদেশ নিয়ে। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী নিজে নির্বাচন প্রচারের দায়িত্ব নিয়ে দলকে ভোটমুখী করেছেন। দারুণভাবে সব কিছু ম্যানেজ করেছেন বেকারত্ব, আপেল চাষিদের সমস্যা, অগ্নিবীর প্রকল্প-সহ বিভিন্ন ইস্যুকে সামনে রেখে যেভাবে কংগ্রেস প্রচারে ঝড় তুলেছে, সেটাই হিমাচল প্রদেশের নির্বাচনে কংগ্রেসের বাজিমাতের বড় কারণ বলে মনে করা হয়েছে। কংগ্রেস নেতৃত্বের মধ্যে মতানৈক্য বড় ফাটলের চেহারা নিতে পারেনি। নিয়ন্ত্রণেই ছিল সব কিছু। ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়লে বিজেপিকেও যে ক্ষমতা থেকে হঠানো যায়, সেটা দেখিয়ে দিয়ে লোকসভা নির্বাচনের আগে অক্সিজেন পেতে পারে কংগ্রেস।












Click it and Unblock the Notifications