টিপ, চুড়ি পরলে তো ক্লাস থেকে বের করে দেওয়া হয় না! হিজাব মামলায় প্রশ্ন আইনজীবীর
টিপ, চুড়ি পরলে তো ক্লাস থেকে বের করে দেওয়া হয় না! হিজাব মামলায় প্রশ্ন আইনজীবীর
কর্ণাটকে হিজাব নিয়ে বিতর্ক এখনও চলছে। হিজাব পড়ে কলেজে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি, এমনই অভিযোগ করেছেন অনেক পড়ুয়ারা। হিসাবের ঘটনা নিয়ে শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল পড়ুয়াদের। আর আজ হিজাব কেসে শুনানির হাইকোর্টে চতুর্থ দিন। এই কেস শেষ পর্যন্ত বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠানো হয়।

আইনজীবী রবি বর্মা কুমার কী জানালেন
আইনজীবী রবি বর্মা কুমার আদালতে বলেন, কেন 'হিজাব'কে আলাদা করে ধরা হচ্ছে। প্রায় প্রত্যেক দিন অন্যান্য ধর্মের মানুষ তো অনেক জিনিসই পড়ছেন। যেমন- ওড়না, চুড়ি, পাগড়ি, ক্রশ বা টিপ। কখনও কেউ কলেজে টিপ বা চুড়ি পরলে তো ক্লাস থেকে বের করে দেওয়া হয় না। তাহলে সেই জিনিস গুলো কী ধর্মীয় চিহ্ন নয়? তাহলে এখন প্রশ্ন হল শুধু মুসলিম পড়ুয়াদের হিজাব নিয়েই সমস্যা? কিন্তু কেন!

আইনজীবী কী বললেন
তিনি আরও বলেন, 'যখন কোনও খ্রিস্টান পড়ুয়া ক্রশ পরে কলেজে এলে তাঁকে তো ক্লাস থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে না। তাঁদের জন্য অন্য কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। শুধুমাত্র ধর্মের জন্য ক্লাস থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে শিক্ষাথীদের'। এটা কিন্তু সংবিধানের ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করছে।' তিনি দাবি করে জানান, তাহলে পাগড়ি বা টিপকে ধর্মীয় চিহ্ন হিসাবে ধরা হয় না। শুধু মাত্র হিজাবকেই ধমীয় চিহ্ন হিজাবে ধরা হয়। কোনও পড়ুয়াকেই এই যুক্তিতে ক্লাসরুম থেকে বের করে দেওয়া উচিত নয়।

কেন পড়ুয়াদের ক্লাস থেকে বের করে দেওয়া হল!
হিজাব পড়া পড়ুয়াদের শাস্তি দেওয়া হয়, ক্লাস থেকে বের করে দেওয়া হয়, তাঁদের কথা শোনা হয় না , তাঁদের কে শাস্তি দেওয়া হয়। তাহলে তাঁদের কী শিক্ষক বলা যায়? এমনটাই বলেন আইনজীবী।

স্কুল বন্ধ করা হয়েছিল কর্ণাটকে!
হিজাবের ঘটনায় অশান্ত হয়ে পড়েছিল কর্ণাটক। আর সেই পরিস্থিতি শান্ত করতে কর্ণাটকের রাজ্য সরকার আগের সপ্তাহে স্কুল বন্ধ করে দিয়েছিলেন। যদিও তা পরে খুলে যায়।
উল্লেখ্য, কর্ণাটকে হিজাব বিতর্ক তুঙ্গে! দেশের অনেক জায়গায়তেই এই ঘটনার জেরে প্রতিবাদে নেমেছে অনেক মানুষ। মুসলিম মহিলারা যাতে ক্লাসরুমে হিজাব পড়ে ঢুকতে পারে সেই বিষয় নিয়ে বিক্ষোভকারীরা অনেক জায়গাতেই বিক্ষোভ করেছে।
কর্ণাটকের হিজাব ইস্যু নিয়ে কর্ণাটক ছাড়াও দেশের অনেক রাজ্যে প্রতিবাদ করতে দেখা অনেক মানুষকে। মহারাষ্ট্রও কিন্তু বিক্ষোভ থেকে বাদ যায়নি। মহারাষ্ট্রের মালেগাঁওয়ের একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাব পড়া নিষিদ্ধ করার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে অনেকে । কোনও অনুমতি ছাড়াই তাঁরা ভিতরে প্রবেশ করেন। জমিয়ত উলেমা-ই-হিন্দ এই হিজাব বিক্ষোভের আয়োজন করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications