একমাস ব্যাপী শাহীন বাগের রাস্তা থেকে প্রতিবাদকারীদের সরাতে পুলিশকে নির্দেশ হাইকোর্টের
প্রতিবাদকারীদের সরাতে পুলিশকে নির্দেশ আদালতের
প্রায় একমাস ধরে, দিল্লির শাহীন বাগের রাস্তায় বসে শত শত নারী ও শিশু নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী প্রতিবাদের মুখ হয়ে উঠেছে। এই প্রথমবারের জন্য ভারতীয় নাগরিকত্বের মানদণ্ড হয়ে উঠেছে ধর্ম। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় ব্যাপকহারে যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় দিল্লি হাইকোর্টে এ সংক্রান্ত আবেদন জমা পড়েছিল। হাইকোর্টের নির্দেশেই মঙ্গলবার দিল্লি পুলিশ প্রতিবাদকারীদের উঠিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

পুলিশের আধিকারিক জানিয়েছেন যে তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে শাহিন বাগ–কালিন্দী কুঞ্জের রাস্তা কৌশল করে খোলার জন্য, জোর করে নয়। হাইকোর্ট পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে যে আইন–শৃঙ্কলা বজায় রেখেই রাস্তার ওপর থেকে প্রতিবাদকারীদের ওঠাতে হবে। পুলিশ তাই ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কৌশলের আশ্রয় নিয়ে প্রতিবাদকারীদের উঠিয়ে দেওয়ার বন্দোবস্ত করুক, যাতে রাস্তা পরিস্কার হয়। কালিন্দী কুঞ্জের কাছেই শাহীন বাগ, যা দিল্লিকে তার প্রতিবেশী এলাকা ফরিদাবাদ ও নয়ডার সঙ্গে যোগাযোগ করায়। কিন্তু এই প্রতিবাদের কারণে নিত্যযাত্রীরা একসপ্তাহ ধরে এই রাস্তাটি ব্যবহার করতে না পেরে অন্য রাস্তা ধরে বাইপাসে যাচ্ছে। যার কারণে দিল্লি–নয়ডা–দিল্লি এক্সপ্রেসওয়েতে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে, দক্ষিণ দিল্লি থেকে নয়ডা যাওয়ার সময় মানুষ অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছে। সাংবিধানিক বেঞ্চের মুখ্য বিচারপতি ডিএন প্যাটেল এবং সি হরি শঙ্কর পুলিশকে এই বিষয়টির ওপর নজর দিতে বলেছে, কারণ এটা খুব বড় জনস্বার্থের বিষয়। এর পাশাপাশি আদালত এও নির্দেশ দিয়েছে যে আইন–শৃঙ্খলাও যাতে বজায় থাকে।
১৫ ডিসেম্বর জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশি হামলার পর থেকেই শাহীন বাগে প্রতিবাদ শুরু হয়। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে পড়ুয়াদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলা চালায় পুলিশ। আহত হন বহু পড়ুয়া। শাহীন বাগের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন নজর কাড়ে অনেকের। এমনকী বিদেশি সংবাদমাধ্যমগুলিও এ নিয়ে খবর করে। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ও এনআরসি নিয়ে দেশজুড়ে বিভিন্ন আন্দোলন–প্রতিবাদ হয়।












Click it and Unblock the Notifications