নিজের জীবন তুচ্ছ করে শত প্রাণ বাঁচিয়েছেন, তার বেলায় কেউ নেই! নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাস
কেরলের ভয়াবহ বন্যায় শত শত প্রাণ বাঁচিয়ে রাজ্যে হিরোর মর্যাদা পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে কাতর আর্তি সত্ত্বেও তিনি কাউকে পাশে পেলেন না।
কেরলের ভয়াবহ বন্যায় শত শত প্রাণ বাঁচিয়ে রাজ্যে হিরোর মর্যাদা পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে কাতর আর্তি সত্ত্বেও তিনি কাউকে পাশে পেলেন না। কেউ এগিয়ে এলেন না তাঁকে বাঁচাতে। রাস্তায় পড়েই মৃত্যু হল কেরল বন্যার নেপথ্য নায়কের। মানবিক হিরোর করুণ পরিণতিতে ফুটে উঠল অমানবিকতার ছবি।

তিনি জিনেশ জেরোন। কেরল বন্যার অবিসংবাদী নায়ক। নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে কেরলের বন্যায় দুর্গতদের রক্ষায় নেমেছিলেন উদ্ধারকার্যে। তখন মৃত্যুকে বারবার তুচ্ছ করেছেন। কিন্তু নিয়তির এমনই পরিহাস, সেই নায়ককেই কি না এভাবে চলে যেতে হল। নিছকই এক দুর্ঘটনা কেড়ে নিল প্রাণ। রাস্তায় ঘণ্টাখানেক পড়ে থেকে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হল তাঁর।
বন্ধু জগনকে নিয়ে বাইকে করে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন জিনেশ। সেইসময়ে বাড়ি থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে বাইক দুর্ঘটনায় পড়েন জিনেশ। বাইক থেকে ছিটকে পড়েন তিনি। সেইসময় পেছনের ট্রাকটি তাঁকে পিষে দেয়। কোমরের নিচের অংশে আঘাত লাগে। তারপর রাস্তায় পড়ে কাতর আর্তি জানিয়েছেন। কেউ এগিয়ে আসেনি।
ঘণ্টাখানেক এভাবেই কেটে গিয়েছে। তারপর নিস্তেজ হয়ে গিয়েছে পুরো শরীরটা। শেষপর্যন্ত যখন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হল, তখন তাঁর মৃত্যু হয়েছে। যে জিনেশ সকলের বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়ত, তাঁর বিপদে কেউ নেই। একটা তরুণ তরতাজা প্রাণ অকালে চলে গেল। কেরল-বন্যার হিরোকে বাঁচাতে কেউ এগিয়ে এল না।
জিনেশের মা সালভি বলেন, গ্রামের চার্চ থেকে কেরল বন্যায় উদ্ধারকার্যের জন্য মৎস্যজীবীদের সাহায্য চাওয়া হয়েছিল। তা শুনে জিনেশ এগিয়ে গিয়েছিল সবার আগে। ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বন্যার কবল থেকে দুর্গতদের বাঁচাতে। প্রাণ হাতে করে সবাইকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে এসেছিলেন দুঃসাহসিক অভিযানে।
এখন তাঁরা সবাই ভিড় করেছেন, শুধু জিনেশ নেই। অসহায় মা সন্তানহারার বেদনা নিয়ে চোখের জল ফেলে চলেছেন শুধু। আর বলছেন- কেরলের বন্যায় তাকে বীরের খ্যাতি দেওয়া পেপার কাটিং গুলো দেখে খুব গর্ব করত জিনেশ। সেই ছেলের যে এমন পরিণতি হবে স্বপ্নেও ভাবেননি তিনি।












Click it and Unblock the Notifications