পুত্র হিসেবে সেবা করতে চান! পিলিভিতের মানুষকে বরুণের আবেগঘন চিঠিতে বিজেপির টিকিট না দেওয়ার কারণ 'ফাঁস'
আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের জন্য বিজেপি উত্তর প্রদেশের পিলিভিত থেকে বরণ গান্ধীকে চিঠি দেয়নি। এবার তারা প্রার্থী করেছে যোগী মন্ত্রিসভার সদস্য প্রাক্তন কংগ্রেসি জিনিত প্রসাদকে। এর প্রেক্ষিতে পিলিভিতের বিদায়ী সাংসদ বরুণ গান্ধী নিজের সংসদীয় এলাকার মানুষদের কাছে একটি আবেগঘন চিঠি লিখেছেন। চিঠিতে তিনি বলেছেন, এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আমৃত্যু বজায় থাকবে।
নিজের এক্স হ্যান্ডেলে শেয়ার করা চিঠিতে বরুণ গান্ধী উল্লেখ করেছেন, উত্তর প্রদেশের পিলিভিতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আর বিশ্বাসের কথা। তিনি লিখেছেন, অগণিত স্মৃতি তাঁকে আবেগপ্রবণ করে তুলেছে। ১৯৮৩ সালে তিন বছর বয়সে মায়ের আঙুল ধরে প্রথমবার পিলিভিতে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন বরুণ। তিনি বলেছেন, সেই শিশু খুব কমই জানত একটি এই এলাকা তাঁর কর্মক্ষেত্রে পরিণত হবে এবং সেখানকার লোকের তাঁর পরিবারে পরিণত হবেন।

বৃহস্পতিবার লেখা চিঠিতে বরুণ গান্ধী 'দাম দিতে হবে' উল্লেখ করেছেন। ফলে এর সঙ্গে আড়াই বছর আগে ২০২১-এর ২০ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সেখা চিঠি যুক্ত হয়ে যাচ্ছে। সেই চিঠিতে বরুণ গান্ধী তিন কৃষি আইন প্রত্যাহার নিয়ে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। পাশাপাশি তিনি ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে অনুরোধ করেছিলেন সরকারকে। এছাড়াও তিনি কৃষক আন্দোলন করতে গিয়ে মৃত্যু হওয়া সাতশো কৃষকের প্রত্যেককে এককোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি তুলেছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বরুণ গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে যা যা দাবি করেছিলে, তা আন্দোলনরত কৃষকদের দাবি ছিল। সেই চিঠির কারণে সরকারের সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্ব বাড়ে। সেই সময়ই কার্যত সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছিল বরুণ গান্ধীকে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে আর টিকিট দেওয়া হবে না।
प्रणाम पीलीभीत 🙏 pic.twitter.com/D6T3uDUU6o
— Varun Gandhi (@varungandhi80) March 28, 2024
এদিনের চিঠিতে বরুণ গান্ধী বলেছেন, সাংসদ হিসেবে না হলেও পুত্র হিসেবে তিনি সারাজীবন পিলিভিতের মানুষের সেবা করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। এলাকার মানুষের জন্য তাঁর দরজা খোলা থাকবে বলেও জানিয়েছেন বিদায়ী সাংসদ। তিনি আরও বলেছেন সাধারণ মানুষের আওয়াজ তুলতে তিনি রাজনীতিতে যোগ দিয়েছিলেন এবং সেই কাজ চালিয়ে যেতে মানুষের আশীর্বাদ চেয়েছিলেন।
১৯৯৬ সাল থেকে পিলিভিত আসনে প্রথমে মানেকা গান্ধী এবং পরে বরুণ গান্ধী সাংসদ হয়ে আসছেন। গত আটাশ বছরের মধ্যে প্রথমবার হতে যাচ্ছে, যখন কেউই প্রার্থী হচ্ছেন না সেখান থেকে। প্রসঙ্গত বিজেপি এবার মানেকা গান্ধীকে সুলতানপুর থেকে প্রার্থী করেছে।












Click it and Unblock the Notifications